যে কোনও সময় বিলীন হতে পারে স্কুল কাম সাইক্লোন শেল্টার

Send
বরিশাল প্রতিনিধি
প্রকাশিত : ১০:১৩, সেপ্টেম্বর ১৪, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ১০:৪৩, সেপ্টেম্বর ১৪, ২০১৯

য়ে কোনও সময় সন্ধ্যা নদীতে বিলীন হতে পারে আশোয়ারা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কাম সাইক্লোন শেল্টারটি

যে কোনও মুহূর্তে সন্ধ্যা নদীতে বিলীন হতে পারে বরিশালের উজিরপুর উপজেলার গুঠিয়া ইউনিয়নের আশোয়ারা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কাম সাইক্লোন শেল্টারটি। ইতিমধ্যে ভবনের নীচের মাটি সরে বড় ধরনের ফাঁটল দেখা দিয়েছে। এ কারণে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতির হার কমে গেছে। প্রথম থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত শতাধিক শিক্ষার্থী থাকলেও এখন উপস্থিতি নেমে এসেছে অর্ধশতকে।

স্কুল কাম সাইক্লোন শেল্টারটি রক্ষার জন্য বিভিন্ন সময় আল্লাহর দরবারে মোনাজাত এবং মানববন্ধন করেছে স্কুলের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরাসহ এলাকাবাসী। 

স্কুল ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি মোসলেম হাওলাদার ও প্রধান শিক্ষক জগদ্বীশ হালদার জানান, ‘কয়েক বছর ধরে সন্ধ্যা নদীর অব্যাহত ভাঙ্গনে বসত বাড়ি, রাস্তাঘাট, মসজিদ ও ফসলি জমি বিলীন হয়ে গেছে। কিন্তু ভাঙন রোধে প্রয়োজনীয় কোনও ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। বর্তমানে এলাকার একমাত্র শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বিলীন হওয়ার পথে। কিছু দিন আগে পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী জাহিদ ফারুক শামীম এমপি স্কুল পরিদর্শনে এসে বেহাল দশা দেখে কিছু বালুর বস্তা (জিও ব্যাগ) ফেলার ব্যবস্থা করেন। কিন্তু তা প্রয়োজনের তুলনায় খুবই অপ্রতুল। তাছাড়া ঠিকাদারও এ কাজ দায়সারাভাবে করায় বস্তাগুলোর অধিকাংশ পানিতে ধুয়ে গেছে। বর্তমানে নদীর পানি কমতে শুরু করেছে, প্রবল স্রোতে নিচের মাটি সরে গিয়ে স্কুলের বিরাট একটি অংশে ফাটল দেখা দিয়েছে। এ অবস্থায় ক্লাস নেওয়া ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। এ কারণে স্কুলের শিক্ষার্থীর সংখ্যাও দিন দিন কমছে।

গুঠিয়ার ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান দেলোয়ার হোসেন জানান, স্কুলটি রক্ষার জন্য এরইমধ্যে প্রতিমন্ত্রীর নির্দেশে পানি উন্নয়ন বোর্ড কিছু জিও ব্যাগ ফেলেছে। কিন্তু যে ঠিকাদার এ কাজ করেছেন তিনি ঠিক মতো করেননি। তাই এখনই কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে স্কুলটি রক্ষা করা যাবে না। তবে আমরা বিভিন্নভাবে ভাঙন রোধের ব্যবস্থা নেওয়ার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা তাছলিমা বেগম জানান, স্কুলটিতে ঝুঁকিপূর্ণভাবে পাঠদান চলছে। বিষয়টি স্থানীয় সংসদ সদস্যসহ ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। তবে পাশের একটি স্থানে অস্থায়ীভাবে ক্লাস নেওয়ার জন্য ওই স্কুল কর্তৃপক্ষেকে বলা হয়েছে।

উজিরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাসুমা আক্তার বলেন, ‘ওই স্কুলের অবস্থা সম্পর্কে আমাকে কেউ কিছু জানায়নি।’

উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুর মজিদ শিকদার বাচ্চু জানান, স্কুলটি রক্ষায় কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য আবেদন করা হয়েছে। তবে সরকারি বরাদ্দ পেতে সময় লাগবে।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. রেজাউল করিম বলেন, ‘বিশেষ বরাদ্দে স্কুল এলাকায় ১৫ লাখ টাকা ব্যয়ে ৪ হাজার ৪১৩টি বালুর বস্তা ফেলা হয়েছে। তবে নদীর গভীরতা অনুযায়ী তা অপ্রতুল। তবে বরাদ্দ পেলে শিগগিরই কাজ শুরু হবে।’

স্থানীয় সংসদ সদস্য শাহে আলম জানান, ‘মন্ত্রণালয়ে সুপারিশ করা হয়েছে। বরাদ্দ হলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

স্থানীয়রা জানান, উজিরপুর উপজেলার মধ্য দিয়ে প্রবাহিত সন্ধ্যা নদীর ভাঙনে গত কয়েক বছরে গুঠিয়া ইউনিয়নের কয়েকটি গ্রামের আংশিক নদী গর্ভে বিলীন হয়ে গৃহহারা হয়েছে সহস্রাধিক মানুষ। তারা এখন মানবেতর জীবন যাপন করছে। এ নিয়ে এলাকাবাসী বিভিন্ন সময় প্রশাসন ও জনপ্রতনিধিসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের কাছে দাবি জানালেও আশানুরূপ কোনও ফল পায়নি।

 

/জেবি/

লাইভ

টপ