ছাত্র নয়, শিক্ষক রাজনীতি বন্ধ করতে হবে: হানিফ

Send
মৌলভীবাজার প্রতিনিধি
প্রকাশিত : ১৯:৪৫, অক্টোবর ১৩, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ২০:০২, অক্টোবর ১৩, ২০১৯

শ্রীমঙ্গল উপজেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলন

আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফ বলেছেন, ‘ছাত্র রাজনীতি নয়, শিক্ষকদের পেশাজীবী রাজনীতি বন্ধ করতে হবে। শিক্ষকরা কেন রাজনীতি করবেন। শিক্ষকদের লেজুড়বৃত্তি রাজনীতির কারণে ছাত্ররা আজ তাদের সম্মান দেয় না। ভিসি, প্রোভিসি হওয়ার জন্য শিক্ষকরা লেজুড়বৃত্তির রাজনীতিতে জড়িয়ে পড়েছেন।’ শিক্ষকদের দলীয় লেজুড়বৃত্তির রাজনীতি পরিহার করার আহ্বান জানান তিনি। রবিবার (১৩ অক্টোবর) বিকালে মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলের পুরানবাজার এলাকায় উপজেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। বুয়েট শিক্ষার্থী আরবার হত্যার সঙ্গে জড়িতদের ইতোমধ্যে গ্রেফতার করা হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘দ্রুত বিচার আইনে তাদের বিচার করে সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করা হবে।’
মাহবুব উল আলম হানিফ বলেন, ‘আরবার হত্যার ঘটনাকে ইস্যু করে বিএনপি এখন সরকার পতনের স্বপ্ন দেখছে। কিন্তু আওয়ামী লীগ কচুপাতার পানি নয় যে টোকা দিলে পড়ে যাবে। আওয়ামী লীগের শেকড় মাটির অনেক গভীরে প্রোথিত। আওয়ামী লীগ অনেক শক্তিশালী সংগঠন।’
তিনি বলেন, ‘খালেদা জিয়াসহ বিএনপি নেতারা তাদের কৃতকর্মের জন্য জেল খাটছেন। ২১ আগস্টের গ্রেনেড হামলা, জ্বালাও-পোড়াও রাজনীতি, দুর্নীতি ও অপরাজনীতির জন্য তারা এখন তাদের পাপের প্রায়শ্চিত্ত করছেন। সে সময় কিবরিয়া, আহসান উল্লাহ মাস্টারসহ ২৬ হাজার আওয়ামী লীগ নেতাকে হত্যা করা হয়েছিল। বিএনপি চেয়ারপারসনের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘এই কারাবরণেই শেষ হবে না, খালেদা জিয়ার সামনে আরও কঠোর দিন অপেক্ষা করছে। বাকি জীবন তাকে কারাগারেই কাটাতে হবে।’
বিএনপির অতীত দুর্নীতির ইতিহাস ব্যাখ্যা করে তিনি বলেন, ‘বিএনপি আমলে ভারতের বিখ্যাত টাটা শিল্পগোষ্ঠী ও স্যামসাং কোম্পানি বড় বড় বিনিয়োগ করতে বাংলাদেশে এসেছিল। চুক্তির সম্পাদনের আগে রতন টাটার কাছে তারেক রহমানের পক্ষে টেন পার্সেন্ট কমিশন চাওয়া হয়েছিল। কিন্তু রতন টাটা সে প্রস্তাব ফিরিয়ে দিয়ে দিল্লি ও স্যামসাং ভিয়েতনামে বিনিয়োগ সরিয়ে নেয়।’
তিনি বলেন, ‘৭৫ সালে শুধু রাজনৈতিক কারণে বা ক্ষমতার কারণে বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করা হয়নি। এর পেছনে খুনিদের সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনা ছিল। সে পরিকল্পনায় পাকিস্তানের সঙ্গে জিয়াউর রহমানের হাত ছিল। ৭৪ সালে জুলফিকার আলী ভুট্টো জাতিসংঘে সাংবাদিকদের বলেছিলেন, পূর্ব পাকিস্তান অচিরেই পাকিস্তান ফেডারেশনের অধীনে আসবে। কীসের ভিত্তিতে ভুট্টো সেদিন এ কথা বলেছিলেন? ৭৫ পরবর্তীকালে জিয়াউর রহমান ক্ষমতাসীন হয়ে মুক্তিযুদ্ধের বিরোধী শক্তিদের পুনর্বাসন করে পাকিস্তানি মদতপুষ্ট সরকার কায়েম করেছিল। জিয়াউর রহমান কখনোই মুক্তিযুদ্ধ করেননি। জিয়াউর রহমান ছিলেন পাকিস্তানি বাহিনীর এজেন্ট।’
শ্রীমঙ্গল উপজেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা মো. আছকির মিয়ার সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক এম এ মান্নানের সঞ্চালনায় সম্মেলনে প্রধান বক্তা ছিলেন আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক (সিলেট বিভাগ) আহমদ হোসেন। বিশেষ অতিথি ছিলেন কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট মিসবাহ উদ্দিন সিরাজ, সিলেট মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি বদর উদ্দীন কামরান, অনুমিত হিসাব সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি উপাধ্যক্ষ ড. মো. আব্দুস শহীদ এমপি, কমলগঞ্জ উপজেলা চেয়ারম্যান অধ্যাপক রফিকুর রহমান। সম্মেলনে বিশেষ বক্তা ছিলেন মৌলভীবাজার জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মিছবাহুর রহমান।

ভারতের সঙ্গে চুক্তি করে বাংলাদেশ লাভবান হয়েছে

আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আহমদ হোসেন বলেন, ‘ভারতের সঙ্গে চুক্তি করে বাংলাদেশই লাভবান হয়েছে। শেখ হাসিনা দেশ বিক্রির রাজনীতি করেন না। তিনি সেবাদাস নন। বাংলাদেশ একমাত্র বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনার কাছেই নিরাপদ, দেশের মানুষ নিরাপদ। আরবার হত্যাকারীদের প্রসঙ্গে আহমদ হোসেন বলেন, ‘আরবারের ঘাতকরা ছাত্রলীগে অনুপ্রবেশকারী ছাত্রশিবির। আওয়ামী লীগে অনুপ্রবেশকারীদের কোনও ঠাঁই হবে না।’ এর আগে আওয়ামী লীগ নেতারা পায়রা ও বেলুন উড়িয়ে সম্মেলন উদ্বোধন করেন।

/ওআর/এমওএফ/

লাইভ

টপ