ব্যস্ত সময় পার করছেন গারো পাহাড়ের মৌচাষিরা

Send
শেরপুর প্রতিনিধি
প্রকাশিত : ১৩:২৩, ডিসেম্বর ০৮, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ১৩:৫৩, ডিসেম্বর ০৮, ২০১৯

মধু সংগ্রহ করছেন মৌচাষী

শেরপুরের ঝিনাইগাতী উপজেলার গারো পাহাড়ের ১২টি স্থানে স্থানীয় ও ভ্রাম্যমাণ মৌচাষিরা প্রায় চার হাজার কাঠের বাক্স বসিয়ে মধু সংগ্রহ করছেন। উপজেলার গারো পাহাড়ে সারি সারি শাল আর নানা প্রজাতির গাছ-গাছালি ঘেরা উঁচু-নিচু টিলা বেষ্টিত ছোট গজনী এলাকা। এখানে গাজীপুরের গৌরাঙ্গ, গুরুচরণ দুধনইতে হালিম, তাওয়াকুচায় সাতক্ষীরার মিলন, জোকাকুড়ায় সিরাগঞ্জের মোস্তফা, উত্তর পানবরে দিনাজপুরের জসিম, বড় গজনীতে রামপুরার রতন, নকশীতে সাতক্ষীরার করিম, দরবেশ তলায় স্থানীয় সাম্বুদা, গান্ধীগাঁওয়ে সাতক্ষীরার আমিনুর, মিজান, কাউছার ও হলদিয়া গ্রামে টাঙ্গাইলের আবু হানিফ খান কাঠের বাক্স বসিয়ে মৌচাষ করছেন।

উপজেলার গুরুচরণ দুধনই গ্রামের মৌচাষি হালিম বলেন, ‘২০০৯ সালে বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশন (বিসিক) মৌমাছি প্রকল্পের ওপর প্রশিক্ষণ নিয়ে মৌচাষ শুরু করেন। তিনি মধু চাষ করে স্বালম্বী হয়েছেন। এ উপজেলায় বর্তমানে ১২ থেকে ১৫টি স্থানীয় ও ভ্রাম্যমাণ মৌচাষের দল ৪ হাজার কাঠের বাক্স বসিয়ে মধু সংগ্রহ করছেন বলে তিনি জানান ।

সাতক্ষীরার ভ্রাম্যমাণ মৌচাষি আমিনুর বলেন, ‘গত অক্টোবর মাসের শেষ সপ্তাহে আমরা এখানে এসেছি। এ সময় পাহাড়ে মৌচাষের উপযুক্ত সময় ছিল। আমি একমাসে ৩৩০টি বাক্স থেকে ১২ মণ মধু সংগ্রহ করেছি। এলাকায় আর এক সপ্তাহ আছি, এরমধ্যে আরও পাঁচ থেকে সাত মণ মধু সংগ্রহ করা যাবে। পরবর্তীতে সরিষা চাষ হচ্ছে এমন এলাকায় গিয়ে মৌচাষ করবেন বলে তিনি জানান।

মধু সংগ্রহের জন্য গাড়ো পাহাড়ে বসানো সাড়ি সাড়ি  বাক্স

উপজেলার হলদিয়া গ্রামে ভ্রাম্যমাণ মৌচাষি ন্যাশনাল এপিকালচার ফাউন্ডেশনের সভাপতি টাঙ্গাইলের আবু হানিফ খান বলেন, ‘ঝিনাইগাতী উপজেলার হলদিয়া গ্রামে আমি ২৫০টি কাঠের বাক্সে  মৗমাছি বসিয়ে গত ৩০ দিনে মধু সংগ্রহ করেছি ১২ মণ। এ এলাকায় প্রচুর সবজি চাষ হয়। বর্তমানে সবজিতে কীটনাশক স্প্রে করায় মাছি মারা যাচ্ছে, তাই আমরা চলে যাচ্ছি । কিন্তু এখনও মধু সংগ্রহের সময় ছিল, এখানে আর এক সপ্তাহ থাকতে পারলে আরও অন্তত ১২ থেকে ১৩ মণ মধু সংগ্রহ করা যেত।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা হুমায়ুন কবির বলেন,‘এ উপজেলার মানুষকে মৌচাষে উদ্বুদ্ধ করা হচ্ছে। বর্তমানে ১২ থেকে ১৫ জন স্থানীয় ও ভ্রাম্যমাণ মৌচাষি মধু সংগ্রহ করছেন। তাদের যে কোনও সমস্যার কথা জানা মাত্রই, প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। তবে কৃষকরা যাতে সবজিতে কীটনাশক ব্যবহার না করে, সেজন্য মাঠ পর্যায়ে কাজ করছে কৃষি বিভাগ।

/জেবি/

লাইভ

টপ