ভর্তি পরীক্ষায় প্রথম হতে উপাচার্যের সহায়তার অভিযোগ

Send
রংপুর প্রতিনিধি
প্রকাশিত : ২৩:০৩, ডিসেম্বর ০৮, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ২৩:০৭, ডিসেম্বর ০৮, ২০১৯

রংপুর বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘বি’ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষার আগেই এক শিক্ষার্থীকে প্রশ্নপত্র সরবরাহ করে তাকে প্রথম স্থান অধিকার করার ব্যাপারে সহায়তার অভিযোগ উঠেছে উপাচার্য অধ্যাপক নাজমুল আহসান কলিম উল্লাহর বিরুদ্ধে। এই ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত ও বিচার দাবি করেছেন শিক্ষকরা।

রবিবার (৮ ডিসেম্বর) বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে আয়োজিত মানববন্ধন ও সমাবেশে এসব বলা হয়েছে। সচেতন শিক্ষক সমাজের ব্যানারে এই কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।

সমাবেশে অভিযোগ করা হয়, মিশকাতুল জান্নাত নামের ওই শিক্ষার্থী ভর্তি পরীক্ষায় ‘বি’ ইউনিটে (সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদ) মানবিক বিভাগ থেকে রেকর্ড মার্কস পেয়ে প্রথম হন। কিন্তু ‘এ’ ইউনিট এবং ‘এফ’ ইউনিটে ফেল করেন। 

তাদের আরও অভিযোগ,‘বি’ ইউনিটের প্রশ্নপত্র তৈরি করা হয়েছে উপাচার্যের বাসায় এবং ওই শিক্ষার্থী পরীক্ষার কয়েকদিন আগে উপাচার্যের বাসায় গিয়েছিলেন। শুধু তাই নয় উপাচার্য ওই শিক্ষার্থীর বগুড়ার বাসায় বেশ কয়েকবার দাওয়াত খেতে গিয়েছেন। অপরদিকে ফেসবুকে ওই শিক্ষার্থীর একমাত্র মিউচুয়াল ফ্রেন্ড হচ্ছেন উপাচার্য। ফলে ওই শিক্ষার্থীর প্রথম হওয়ার ঘটনার সঙ্গে উপাচার্যের সম্পৃক্ততা আছে বলে আমরা জানতে পেরেছি।

শিক্ষকদের আরও অভিযোগ, অন্যান্য ইউনিটে মডারেশন কারা করছেন তা সংশ্লিষ্ট বিভাগের শিক্ষকরা জানতেন, কিন্তু ‘বি’ ইউনিটের মডারেশন কারা করেছেন তা ওই ইউনিটের বেশির ভাগ শিক্ষক জানেন না। শুধু তাই নয়,এই ইউনিটের সমন্বয়ক এমন একজনকে করা হয়েছে যিনি একজন অনভিজ্ঞ এবং জুনিয়র শিক্ষক। অথচ ওই ইউনিটে আরও অনেক সিনিয়র শিক্ষক থাকার পরেও তাদের দায়িত্ব দেওয়া হয়নি।

সমাবেশে শিক্ষকরা আরও বলেন, যে শিক্ষার্থীকে অন্যান্য ইউনিটে ফেল করার পর ‘বি’ ইউনিটে প্রথম দেখানো হয়েছে তার বড় বোন বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন প্রভাষক।

তারা এই ঘটনার জন্য নিরপেক্ষ ও শক্তিশালী তদন্ত কমিটি গঠন করে দায়ীদের চিহ্নিত করার দাবি জানান।

তাদের আরও অভিযোগ,যে ইউনিট থেকে ওই শিক্ষার্থী প্রথম স্থান অধিকার করেছেন সেই ইউনিটের ডিন হচ্ছেন উপাচার্য নিজে। ফলে এই ঘটনার পর তার আর ডিন পদে থাকার নৈতিক অধিকার নেই। তার পদত্যাগ দাবি করেন শিক্ষকরা।

সমাবেশে শিক্ষকরা অভিযোগ করে বলেন,‘এই ঘটনায় তদন্ত কমিটি গঠন এবং ‘বি’ ইউনিটের ভর্তি কার্যক্রম বন্ধ রাখার আহ্বান জানিয়ে রেজিস্ট্রার বরাবর অভিযোগ প্রদান করেছেন ৫০ জন সাধারণ শিক্ষক। এরপর বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ তিন সদস্য বিশিষ্ট একটি কমিটি গঠন করেছেন। তবে যাদের নিয়ে কমিটি গঠন করা হয়েছে, তারা সদ্য নিয়োগ পাওয়া।’ এই কমিটি বাতিল করে প্রয়োজনে বাইরের সম্মানিত শিক্ষকদের মধ্যে থেকে কাউকে নিয়ে কমিটি করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করার জন্য শিক্ষামন্ত্রী ও ইউজিসির প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন তারা ।

রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক গাজী মাযহারুল আনোয়ারের সভাপতিত্বে সমাবেশে আরও বক্তব্য দেন শিক্ষক সমিতির সাবেক সভাপতি ড. তুহিন ওয়াদুদ, বঙ্গবন্ধু শিক্ষক পরিষদের সাধারণ সম্পাদক মশিউর রহমান, সিনিয়র শিক্ষক অ্যধ্যাপক মতিউর রহমান, আইসিটি বিভাগের শিক্ষক ইলিয়াছ প্রামাণিক, লোক প্রশাসন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক আসাদ মণ্ডলসহ অন্যান্য শিক্ষকরা।

আরও খবর: প্রথম হওয়া সেই শিক্ষার্থীর ভর্তি কার্যক্রম স্থগিত 

 

/এএইচ/টিএন/

লাইভ

টপ