পাটকল শ্রমিকদের অনশনে নরসিংদীর সঙ্গে চরাঞ্চলের যান চলাচল বন্ধ

Send
নরসিংদী প্রতিনিধি
প্রকাশিত : ১০:৫৪, ডিসেম্বর ১১, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ১১:৫৯, ডিসেম্বর ১১, ২০১৯

জুটমিল শ্রমিকদের আমরণ অনশন

মজুুরি কমিশন বাস্তবায়নসহ ১১ দফা দাবি আদায়ে বুধবার (১১ ডিসেম্বর) দ্বিতীয় দিনের মতো আমরণ অনশন কর্মসূচি পালন করছেন নরসিংদীর ইউএমসি জুটমিলের শ্রমিকরা। মঙ্গলবার (১০ ডিসেম্বর) শুরু হওয়া অনশনের কারণে কয়েকজন শ্রমিক অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। এছাড়া শ্রমিক-কর্মচারীদের অনশনের কারণে সকাল থেকে পাটবাহী কোনও ট্রাক ও অন্য কর্মকর্তারা মিলে ঢুকতে পারেননি। মিল গেটে অনশনের ফলে নরসিংদী শহর থেকে চরাঞ্চলের যাতায়াতের সড়কটি বন্ধ হয়ে গেছে। এতে ওই সড়কে সব ধরনের যান চলাচল বন্ধ রয়েছে।

বাংলাদেশ রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকল শ্রমিক সিবিএ-নন সিবিএ সংগ্রাম পরিষদের উদ্যোগে এ অনশন কর্মসূচি পালন করা হচ্ছে।

শ্রমিক-কর্মচারীরা জানান, রাতভর শীত উপেক্ষা করে কাঁথা বালিশসহ অনশনস্থলে অবস্থান করেছেন হাজারো শ্রমিক। অনশনের কারণে তিন জন শ্রমিক অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়ে তারা আবারও কর্মসূচিতে এসে যোগ দিয়েছেন।

আমরণ অনশন কর্মসূচিতে শ্রমিক নেতারা বলেন, ২০১৫ সালে ঘোষণা দিয়েও মজুরি কমিশন বাস্তবায়ন না হওয়ায় শ্রমিকরা পরিবার পরিজন নিয়ে অনেকটা মানবেতর জীবন যাপন করছেন। মজুরি কমিশন বাস্তবায়ন, ১১ সপ্তাহের বকেয়া বেতন পরিশোধ, পিএফ’র টাকা প্রদান, বদলি শ্রমিকদের স্থায়ীকরণসহ শ্রমিকদের ১১ দফা ন্যায্য দাবি ছিল, যা সরকার মানছে না। এ জন্য বাধ্য হয়ে আমরণ অনশন কর্মসূচি পালন করছেন শ্রমিকরা।

মঙ্গলবার বিজেএমসিতে আলোচনায় সমাধান না হওয়ায় সমস্যা নিরসনে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন শ্রমিক নেতারা। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত অনশন কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে বলেও জানান শ্রমিক নেতারা।

 

পাটকল শ্রমিকদের ১১ দফা দাবি
১. জাতীয় মজুরি ও উৎপাদনশীলতা কমিশনের রোয়েদাদ ২০১৫ কার্যকর।
২. পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপ (পিপিপি) এর সিদ্ধান্ত বাতিল।
৩. শ্রমিক কর্মচারীদের বকেয়া পরিশোধ।
৪. উৎপাদন বিভাগের পিচরেট শ্রমিকদের ক্ষেত্রে সাংঘর্ষিক বে-আইনী দফতর আদেশ প্রত্যাহার এবং ১৯৭৮ সালের ৫০ নং সার্কুলার এর ৫ ধারা পুনর্বহাল করা।
৫. সকল মিল সটআপের অনুকূল শ্রমিক-কর্মচারীদের শুন্য পদের বিপরীতে নিয়োগ ও স্থায়ীকরণ।
৬. অবসরপ্রাপ্ত শ্রমিক-কর্মচারীদের পিএফ ও গ্র্যাচুইটির অর্থ পরিশাধ করা।
৭. চাকরিচ্যুত শ্রমিক-কর্মচারীদের পুনর্বহাল করা।
৮. মৌসুমের শুরুতে পাটখাতে প্রয়াজনীয় অর্থ বরাদ্দ করা।
৯. কৃষি শিল্পের ন্যায় সকল সুযোগ সুবিধা প্রদান।
১০.ম্যান্ডেটরি প্যাকেজিং অ্যাক্ট ২০১০ শতভাগ কার্যকর করা।
১১. রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকলের ন্যায় অস্থায়ী ভিত্তিতে চালিত মিলগুলোর মজুরি-বেতন বৈষম্য বাতিল করে একই নিয়মে মজুরি ও বেতন প্রদান।

/টিটি/

লাইভ

টপ