বাতাসে ক্ষতিকর ধূলিকণা কমানোর পুরস্কার পেলেন রাসিক মেয়র

Send
রাজশাহী প্রতিনিধি
প্রকাশিত : ১৯:৫১, জানুয়ারি ০৪, ২০২০ | সর্বশেষ আপডেট : ২০:১০, জানুয়ারি ০৪, ২০২০

তথ্যমন্ত্রীমহ আয়োজকদের হাত থেকে এনভায়রনমেন্ট ফ্রেন্ডলি সিটি অব দ্য ইয়ার-২০২০ পুরস্কার গ্রহণ করছেন রাজশাহী সিটি মেয়র এ. এইচ. এম কামরুজ্জামান লিটন।

বাতাসে ক্ষতিকারক ধূলিকণা কমানো বিশ্বের সেরা শহর রাজশাহী। ২০১৬ সালে যুক্তরাজ্যের দ্য গার্ডিয়ান পত্রিকায় প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে শহরটিকে এ স্বীকৃতি দেওয়া হয়। এর সূত্র ধরে নতুন বছরে সবচাইতে পরিবেশবান্ধব শহর হিসেবে রাজশাহীর এই অর্জনকে সম্মানিত করলো চ্যানেল আই। এনভায়রনমেন্ট ফ্রেন্ডলি সিটি অফ দ্য ইয়ার-২০২০ নামে এই পুরস্কারটি তুলে দেওয়া হয়েছে রাজশাহী সিটি করপোরেশনের (রাসিক) মেয়র এ.এইচ.এম খায়রুজ্জামান লিটনের হাতে। তার হাতে সম্মাননা স্মারকটি তুলে দেন তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ, প্রকৃতি ও জীবন ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান মুকিত মজুমদার বাবু ও ইমপ্রেস টেলিফিল্ম লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ফরিদুর রেজা সাগর গণমাধ্যমটির আয়োজিত প্রকৃতি মেলা ১০ম বর্ষে পদার্পণ করায় প্রথমবারের মতো এ বিষয়ে পদক প্রবর্তন করা হয়। শনিবার (০৪ জানুয়ারি) সকালে ঢাকায় চ্যানেল আই চেতনা চত্বরে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

শনিবার (৪ জানুয়ারি) বিকালে বিষয়টি নিশ্চিত করে রাসিক জনসংযোগ দফতর থেকে পাঠানো বিজ্ঞপ্তিতে এ কথা বলা হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ‘অনুষ্ঠানে মেয়র খায়রুজ্জামান লিটন বলেন, জিরো সয়েল প্রকল্প বাস্তবায়ন ও বিপুল পরিমাণ বৃক্ষরোপণসহ বহুমুখী উদ্যোগের কারণে ২০১৬ সালে বাতাসে ক্ষতিকারণ ধূলিকণা কমাতে বিশ্বের সেরা শহর নির্বাচিত হয় রাজশাহী। আমি প্রথমবার মেয়র থাকাকালে নগরীতে প্রচুর পরিমাণ গাছ লাগানো হয়েছিল। এবারও সিটি করপোরেশন নিজস্ব কর্মচারী, কাউন্সিলর, শিক্ষার্থীদের মাধ্যমে নগরীতে প্রচুর পরিমাণ বৃক্ষরোপণ করে। এর মাধ্যমে নগরীতে গ্রিনজোন সৃষ্টি করা হচ্ছে। বাতাসে ক্ষতিকারণ ধূলিকণা কমানো বিশ্বের সেরা শহরের অর্জন ধরে রেখে রাজশাহীকে আরও সতেজ করতে চাই। যাতে দেশের অন্যান্য শহর রাজশাহীকে দেখে পরিবেশের উন্নয়নে উৎসাহিত হয়। আমরা যদি প্রকৃতিকে লালন করি তাহলে প্রকৃতি আমাদের সেইভাবে ফেরত দেবে।

এদিকে এনভায়রনমেন্ট ফ্রেন্ডলি সিটি অফ দ্য ইয়ার-২০২০ সম্মাননা লাভ করায় রাজশাহী সিটি করপোরেশনের কাউন্সিলর, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের পক্ষ থেকে মেয়রকে অভিনন্দন জানানো হয়েছে।  এছাড়া রাসিকের বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগ, প্রকৌশল বিভাগ, পরিবেশ উন্নয়ন শাখার পক্ষ থেকে মেয়রকে অভিনন্দন জানানো হয়েছে।

উল্লেখ্য, ২০১৬ সালে বাতাসে ভাসমান মানবদেহের জন্য ক্ষতিকর কণা দ্রুত কমিয়ে আনার ক্ষেত্রে ভূমিকা রাখায় বিশ্বে সেরা শহর নির্বাচিত হয় রাজশাহীকে। জাতিসংঘের বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) উপাত্তের ভিত্তিতে যুক্তরাজ্যের দ্য গার্ডিয়ান পত্রিকার এক প্রতিবেদনে এই তথ্য প্রকাশ করা হয়। রাজশাহী সিটি করপোরেশনের মেয়র এ.এইচ.এম খায়রুজ্জামান লিটনের উদ্যোগে জিরোসয়েল প্রকল্প বাস্তবায়ন, বিপুল পরিমাণ বৃক্ষরোপণ, রাস্তার পাশের ফুটপাত কংক্রিট দিয়ে ঘিরে দেওয়া, ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার বহুল ব্যবহার, ডিজেলচালিত যানবাহন চলাচলে কড়াকড়ি ইত্যাদি কারণে এই সাফল্য আসে। এছাড়া পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতায় রাজশাহীর সুনাম দেশজুড়ে।

এর আগে ২০১২ সালের ৫ জুন বিশ্ব পরিবেশ দিবস উপলক্ষে প্রথমবারের মতো প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হাত থেকে পরিবেশ পদক গ্রহণ করেন রাসিক মেয়র এ.এইচ.এম খায়রুজ্জামান লিটন। একই বছর বৃক্ষরোপণে প্রধানমন্ত্রীর জাতীয় পুরস্কার লাভ করে রাজশাহী সিটি করপোরেশন। ২০০৯ সালেও বৃক্ষরোপণে প্রধানমন্ত্রীর জাতীয় পুরস্কার লাভ করে রাসিক।

 

 

/টিএন/

লাইভ

টপ