২২ দিন ধরে দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা তেঁতুলিয়ায়

Send
সাজ্জাদুর রহমান সাজ্জাদ, পঞ্চগড়
প্রকাশিত : ১৯:০৫, জানুয়ারি ১৫, ২০২০ | সর্বশেষ আপডেট : ১৯:০৯, জানুয়ারি ১৫, ২০২০

দেশের সর্ব উত্তরের জেলা পঞ্চগড়, আর এই জেলারই সবচেয়ে উত্তরের উপজেলা তেঁতুলিয়া। হিমালয়ের কাছাকাছি হওয়ায় হিমশীতল বাতাস আর ঘনকুয়াশায় প্রকোপ এখানে বেশি। প্রতিবছরই এই অঞ্চলে শীত বেশি পড়লেও এবারের আবহাওয়া কিছুটা ব্যতিক্রম। অন্যান্য বছর শীতের সময়ে আকাশ সারাদিন মেঘাচ্ছন্ন থাকে, টানা একসপ্তাহ পর্যন্ত সূর্যের মুখ দেখা যায় না। কিন্তু এবার বিকাল থেকে ভোররাত পর্যন্ত তীব্র শৈত্যপ্রবাহ ও ঘনকুয়াশা পড়ছে, আবার সকাল ৯টা থেকে বিকাল পর্যন্ত সূর্য আলো ছড়াচ্ছে। তবে রোদ থাকলেও হিমালয়ের বাতাসের কারণে এলাকার আবহাওয়া ঠান্ডা।

বিশেষ করে নদী থেকে পাথর উত্তোলনকারী ‘পাথর শ্রমিক’ ও চা বাগানে কর্মরত শ্রমিকরা ঠান্ডায় কাজ করতে না পেরে দুর্ভোগে পড়েছে। পরিবার নিয়ে বিপাকে পড়েছেন নিম্ন আয়ের মানুষ।

এবারের শীতে (২০ ডিসেম্বর থেকে ১৫ জানুয়ারি) ২৬ দিনের তাপমাত্রা পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, ২২ দিনই সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল তেঁতুলিয়ায়। মাত্র চারদিন দেশের অন্য এলাকায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে।

তেঁতুলিয়া আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. রহিদুল ইসলাম জানান, বুধবার (১৫ জানুয়ারি) পঞ্চগড়ে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৭ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এটিই দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা। গত ২০ ডিসেম্বর থেকে ১৫ জানুয়ারি পর্যন্ত মাত্র ৪ দিন দেশের অন্য এলাকায় (দিনাজপুর, রাজশাহী, রাজারহাট ও ঈশ্বরদী) সর্বনিম্ন তাপমাত্রা বিরাজ করেছিল। গত ২২ দিন ধরে দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে তেঁতুলিয়ায়। এবারের শীত মৌসুমে তেঁতুলিয়ায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ৪ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়। ২০১৮ সালের ৮ জানুয়ারি তেঁতুলিয়ায় তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছিল ২ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস, দেশের ইতিহাসে সর্বনিম্ন তাপমাত্রার রেকর্ড গড়েছিল তেঁতুলিয়া। এর আগে ১৯৬৮ সালের ৪ ফেব্রুয়ারি মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছিল ২ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

তেঁতুলিয়া উপজেলার ১নং বাংলাবান্ধা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান কুদরত ই খুদা মিলন জানান, দেশের প্রধানতম শীতপ্রবণ এলাকা তেঁতুলিয়া। গত ২২ দিন ধরে এখানকার তাপমাত্রা দেশের মধ্যে সর্বনিম্ন। একারণে এখানকার মানুষ শীতে সবচেয়ে বেশি কাবু। কিন্তু এখানকার শীতার্ত অসহায় মানুষের জন্য শীতবস্ত্র বা অন্যান্য সহযোগিতা খুবই কম। পাথর শ্রমিক ও চা শ্রমিকদের জন্য শীতবস্ত্রের পাশাপাশি আর্থিক সহযোগিতার দাবি করেন তিনি।

তেঁতুলিয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. রফিকুল আলম জানান, ২২ দিন ধরে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা বিরাজ করছে। ফলে এখানকার মানুষ তীব্র শীতে পর্যুদস্ত হয়ে পড়েছে। এখানে এখন পর্যন্ত সরকারিভাবে সাড়ে ৫ হাজার কম্বল বরাদ্দ পাওয়া গেছে। এছাড়া ঢাকার সাভারের একটি সংগঠন আল মুসলিম গ্রুপ সাড়ে ৩ হাজার কম্বল বিতরণ করেছে। শীতার্ত মানুষের জন্য আমরা আরও শীতবস্ত্র চেয়েছি।

তিনি আরও বলেন, ‘এখানে শীতের তীব্রতার কারণে পাথর শ্রমিক ও চা বাগান শ্রমিকসহ অন্যান্য অসহায় ছিন্নমূল মানুষ কাজ করতে পারছে না। দেশের অন্যান্য এলাকায় ইলিশ মৌসুমে ইলিশ না ধরার জন্য জেলেদের সরকারিভাবে সহায়তা করা হয়। আমরাও এখানকার পাথর শ্রমিক ও চা বাগান শ্রমিকদের শীত মৌসুমে সরকারি সহযোগিতা দেওয়ার কথা ভাবছি। বিষয়টি জেলা প্রশাসনের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে জানানো হয়েছে। আশা করছি খুব শিগগির এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসবে।’

 

 

/এএইচ/

লাইভ

টপ