সারাদেশে কোয়ারেন্টিনে থাকাদের অধিকাংশই বিদেশফেরত

Send
বাংলা ট্রিবিউন ডেস্ক
প্রকাশিত : ২৩:৩৪, মার্চ ২৭, ২০২০ | সর্বশেষ আপডেট : ২৩:৪১, মার্চ ২৭, ২০২০

করোনাভাইরাসসারাদেশে অসংখ্য মানুষ এখন হোম কোয়ারেন্টিনে রয়েছেন। তাদের মধ্যে বিদেশফেরতের সংখ্যাই বেশি।  তবে অনেকের মধ্যেই কোয়ারেন্টিনের নিয়ম পালনে অনীহা লক্ষ করা যাচ্ছে।  বিভিন্ন জেলা থেকে বাংলা ট্রিবিউন প্রতিনিধিরা কোয়ারেন্টিনে থাকাদের বিষয়ে তথ্য জানাচ্ছেন:  

টাঙ্গাইল

টাঙ্গাইলের ১২ উপজেলায় বিভিন্ন দেশ ফেরত ৮৩৬ জনকে হোম কোয়ারেন্টিনে রাখা হয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় ১৭৭ জনকে হোম কোয়ারেন্টিনের আওতায় আনা হয়। এছাড়াও নির্দিষ্ট সময় শেষ হওয়ায় ৬৩৫ জনকে হোম কোয়ারেন্টিন থেকে ছাড়পত্র দেওয়া হয়েছে।  শুক্রবার বিকালে সিভিল সার্জন ডা. ওয়াহীদুজ্জামান বলেন, ‘এ পর্যন্ত এক হাজার ৪৭১ জনকে হোম কোয়ারেন্টিনের আওতায় আনা হয়েছে। তাদের মধ্যে ৬৩৫ জনকে ছাড়পত্র দেওয়া হয়েছে। জেলায় চলতি মাসের ৯ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত এক হাজার ৮৬৩ জন বিভিন্ন দেশ থেকে ফিরেছেন। এখনও ৩৯২ জন হোম কোয়ারেন্টিনের বাইরে রয়েছেন। তাদেরও হোম কোয়ারেন্টিনে রাখার চেষ্টা চলছে।’

সাতক্ষীরা

সাতক্ষীরায় গত ২৪ ঘণ্টায় বিদেশফেরত নতুন ১৫১ জনকে হোম কোয়ারেন্টিনের আওতায় আনা হয়েছে। এ নিয়ে এ পর্যন্ত মোট ২ হাজার ৫২ জনকে হোম কোয়ারেন্টিনে রাখা হয়েছে। এর মধ্যে সাতক্ষীরা সদর উপজেলায় ২৫১, আশাশুনিতে ১৫৮, দেবহাটায় ২৩২, কালিগঞ্জে ২৩৪, কলারোয়ায় ৬৩১, শ্যামনগরে ৩১০ ও তালায় ২৩৬ জনকে হোম কোয়ারেন্টাইনে নেওয়া হয়েছে।

এদিকে, সাতক্ষীরার ভোমরা ইমিগ্রেশন চেকপোস্ট দিয়ে ভারতে গিয়ে আগে আটকে থাকা বাংলাদেশি পাসপোর্ট যাত্রীরা নিজ দেশে ফিরতে পারলেও লকডাউনের কারণে ভারতীয়রা নিজ দেশে ফিরতে পারছেন না বলে জানিয়েছেন ইমিগ্রেশন ওসি বিশ্বজিত সরকার।

নওগাঁ

নওগাঁয় ১১টি উপজেলার মধ্যে তিন উপজেলায় ২৪ ঘন্টায় ৭ জনকে নতুন করে হোম কোয়ারেন্টিনে পাঠানো হয়েছে। ১৪ দিনের মেয়াদ শেষ হওয়ায় ৭৯৮ জনকে হোম কোয়ারেটিন থেকে ছাড়পত্র দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে হোম কোয়ারেন্টিনে রয়েছেন ৫২৯ জন।  জেলায় এ পর্যন্ত হোম কোয়ারেন্টিনে পাঠানো হয়েছিল ১ হাজার ৩২৭ জনকে।  গত ২৪ ঘণ্টায় নওগাঁ সদরে ২, মহাদেবপুরে ২ ও ধামইরহাটে ৩ জনকে নতুন করে হোম কোয়ারেন্টিনে পাঠানো হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন সিভিল সার্জন ডা. আ. ম. আখতারুজ্জামান।

নীলফামারী

নীলফামারীতে বিদেশফেরত ২৩২ জন হোম কোয়ারেন্টিনে রয়েছেন।  তাদের মধ্যে গত ২৪ ঘন্টায় অন্তর্ভুক্ত হয়েছেন ২৮ জন। ইতোমধ্যে হোম কোয়ারেন্টিন শেষ হয়েছে ৯০ জনের।  তারা সুস্থ আছেন।  শুক্রবার দুপুরে সিভিল সার্জন ডা. রণজিৎ কুমার বর্মন এ তথ্য জানিয়ে বলেন, ‘জেলায় গত ১ ডিসেম্বর থেকে ২৭ মার্চ পর্যন্ত বিদেশফেরতের সংখ্যা ৩২২ জন।’

জামালপুর

জামালপুরে গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন ৭ জনসহ মোট ৫১১ জনকে হোম কোয়ারেন্টিনে রেখেছে স্বাস্থ্য বিভাগ।  শুক্রবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায়  সিভিল সার্জন ডা. গৌতম রায় এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।  তবে তাদের মধ্যে ৩০৮ জনকে করোনাভাইরাস না থাকায় ছুটি দেওয়া হয়েছে।

ময়মনসিংহ

ময়মনসিংহের সিভিল সার্জন ডা. এবিএম মসিউল আলম জানান,  গত ২৪ ঘণ্টায় বিদেশফেরত ৯৭ জনসহ হোম কোয়ারেন্টিনে আছে ৩৯৪ জন। এছাড়া ১৪ দিন সফলভাবে হোম কোয়ারেন্টিন শেষে ৪৪১ জন ছাড়পত্র নিয়ে বাড়ি ফিরে গেছেন।

লক্ষ্মীপুর

জেলায় গত ২৪ ঘণ্টায় ৩৩৯ জনের কোয়ারেন্টিন নিশ্চিত করেছে প্রশাসন। কোয়ারেন্টিনে থাকা প্রবাসীর সংখ্যা ১২০৬ জন।  জেলায় বিদেশফেরতের সংখ্যা ৩৭০৯ জন বলে জানান পুলিশের  ডিআই (ওয়ান) ইকবাল হোসেন।  এখন পর্যন্ত লক্ষ্মীপুরে কোনও করোনাভাইরাস আক্রান্ত রোগী শনান্ত হয়নি বলে জানান সিভিল সার্জন ডা. আব্দুল গাফফার।

কুড়িগ্রাম

কুড়িগ্রামের ৯ উপজেলায় মোট ৫৪০ জন বিদেশফেরতের তালিকা থাকলেও তাদের মধ্যে ৩১৫ জনকে হোম কোয়ারেন্টিনে রাখা সম্ভব হয়েছে।  ইতোমধ্যে ১৭৭ জনের হোম কোয়ারেন্টিনের ১৪ দিনের মেয়াদ শেষ হয়েছে।  হোম কোয়ারেন্টিনে রাখাদের বেশির ভাগই বিদেশফেরত। গত ২৪ ঘন্টায় পাঁচজনকে হোম কোয়ারেন্টিনে রাখা হয়েছে। শুক্রবার সিভিল সার্জন ডা. হাবিবুর রহমান এ তথ্য জানান।

 

/এমএএ/

লাইভ

টপ