'লকডাউন' নিয়ে বিভ্রান্তি, কাঁচাবাজারে মানুষের ঢল

Send
নয়ন খন্দকার, ঝিনাইদহ
প্রকাশিত : ১৩:২২, এপ্রিল ১০, ২০২০ | সর্বশেষ আপডেট : ১৮:৩৯, এপ্রিল ১০, ২০২০

 

ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলাকে 'লকডাউন' ঘোষণা নিয়ে বিভ্রান্তি সৃষ্টি হয়েছে স্থানীয়দের মধ্যে। ফলে আগাম খাদ্যপণ্য কিনতে বাজারে ভিড় করেছেন তারা। জানা যায়, বৃহস্পতিবার বিকালে ও শুক্রবার (১০ এপ্রিল) সকালে উপজেলা প্রশাসন এবং বাজার ব্যবসায়ী সমিতির পক্ষ থেকে পুরো উপজেলাকে লকডাউন ঘোষণা করে মাইকিং করা হয়েছে। জানানো হয়, ১১ এপ্রিল থেকে ১৮ এপ্রিল পর্যন্ত আট দিন পুরো উপজেলাকে লকডাউন থাকবে। কিন্তু কালীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার সুবর্ণা রানী সাহা বলেছেন, উপজেলাকে লকডাউন করা হয়নি। 

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, 'করোনাভাইরাস সংক্রমণ প্রতিরোধে জনসমাগম ঠেকাতে কাঁচাবাজার বন্ধ করে ওয়ার্ডে ওয়ার্ডে তা বিক্রির জন্য সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। আমি তাদের লকডাউনের মাইকিং বন্ধ করতে বলেছি।'

তবে কালীগঞ্জ হাট চাঁদনী কাঁচা ও পাকা মাল ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি জাহাঙ্গীর আলম জানান, বৃহস্পতিবার সকাল ১০ থেকে ১২ টা পর্যন্ত উপজেলা পরিষদে জনপ্রতিনিধি, প্রশাসনের কর্মকর্তা ও বাজার ব্যবসায়ী নেতাদের নিয়ে এক সভা হয়। সেখানে সবাই মিলে শহরকে লকডাউনের সিদ্ধান্ত নেন। শুধু তাই নয়, উপজেলার ১১টি ইউনিয়নও লকডাউন ঘোষণা করে মাইকিং করেছেন ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানরা।

কালীগঞ্জ থানার অফিসার-ইন-চার্জ (ওসি) মাহফুজুর রহমান জানান, লকডাউন ঘোষণার কোনও খবর তার জানা নেই।

এদিকে সভায় উপস্থিত থাকা ঝিনাইদহ-৪ আসনের জাতীয় সংসদ সদস্য ও কালীগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আনোয়ারুল আজীম আনার বলেন, 'লকডাউন করতে হলে ঊর্ধ্বতন প্রশাসনের অনুমতি লাগে। কিন্তু আমরা মূলত করোনাভাইরাস প্রতিরোধে জনসমাগম ঠেকাতে কাঁচাবাজার বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছি এবং প্রতিটি ওয়ার্ডে ওয়ার্ডে গিয়ে কাঁচামাল বিক্রির জন্য ব্যবসায়ীদের জানানো হয়েছে। এটা লকডাউন নয়। ব্যবসায়ীর না বুঝে এটাকে লকডাউন বলে মাইকিং করেছেন। আমি জানার পর তাদের মাইকিং বন্ধ করতে বলেছি। মূলত করোনাভাইরাস প্রতিরোধে জনসমাগম ঠেকাতে কাঁচাবাজার বন্ধের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

কিন্তু সরেজমিনে জানা যায়, গত দুদিন ধরে লকডাউনের মাইকিং হওয়ার কারণে শুক্রবার সকাল থেকে কাঁচাবাজারে ভিড় বেড়েছে। মুহূর্তের মধ্যে সবকিছুই বিক্রি হয়ে যায়। এই সুযোগে ব্যবসায়ীরা ক্রেতাদের কাছে অধিক মূল্যে পণ্য বিক্রি করেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।

কালীগঞ্জ বাজার ব্যবসায়ী সমিতির যুগ্মসাধারণ সম্পাদক ফরিদ উদ্দীন জানান, বৃহস্পতিবার দুপুরে উপজেলা পরিষদের সভায় কালীগঞ্জ উপজেলা লকডাউন ঘোষণার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। আমি সভায় বলেছিলাম, কাঁচাবাজার বন্ধ হলে চার-পাঁচশ' ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী বেকার হয়ে যাবে। তখন সবাই বলেন, আপনি এক সপ্তাহের জন্য বন্ধ করেন। পরে, তাদের সিদ্ধান্ত অনুয়ায়ী এবং তাদের বরাত দিয়েই আমি লকডাউন ঘোষণার মাইকিং করি। আমার কিছুই করার ছিল না।

 

 

/এএইচ/

লাইভ

টপ