খুলনায় ৭০ কিলোমিটার বাঁধ ক্ষতিগ্রস্ত, সাতক্ষীরায় ভেসে গেছে ১৭৬ কোটি টাকার মাছ

Send
খুলনা ও সাতক্ষীরা প্রতিনিধি
প্রকাশিত : ১২:০০, মে ২২, ২০২০ | সর্বশেষ আপডেট : ১২:০০, মে ২২, ২০২০

বাঁধ ভেঙে তলিয়ে গেছে এলাকা


ঘূর্ণিঝড় আম্পানের প্রভাবে খুলনায় ৭০ কিলোমিটার বাঁধ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর মধ্যে ১০ কিলোমিটার বাঁধ সম্পূর্ণভাবে ভেঙে গেছে। আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে আরও ৬০ কিলোমিটার বাঁধ। এদিকে, সাতক্ষীরায় ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে সৃষ্ট জলোচ্ছ্বাসে ভেসে গেছে ১২ হাজার ২৫৭টি ঘের ও পুকুর। এতে আর্থিক পরিমাণ ১৭৬ কোটি ৩ লাখ টাকা।

ঝড়ের তাণ্ডবে ভেঙে যাওয়া বাড়ি

পানি উন্নয়ন বোর্ড খুলনা-২ এর নির্বাহী প্রকৌশলী পলাশ কুমার ব্যানার্জী জানান, খুলনায় ৪০ কিলোমিটার বেড়িবাঁধ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর মধ্যে ১০ কিলোমিটার সম্পূর্ণভাবে বিধ্বস্ত হয়েছে। বিধ্বস্ত হওয়া বাঁধের পুরোটাই কয়রা উপজেলায়। এছাড়াও দাকোপ, বটিয়াঘাটা, পাইকগাছা ও ডুমুরিয়া উপজেলায় আংশিক ক্ষতি হয়েছে অন্তত ৩০ কিলোমিটার বেড়িবাঁধ।

বাঁধ ভেঙে তলিয়ে গেছে এলাকা

তিনি বলেন, দাকোপের বেড়িবাঁধের অধিকাংশ এলাকায় দু’পাশের পানির চাপে বাঁধ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এছাড়াও বটিয়াঘাটার বারোআড়িয়া, সুরখালী, বারোভুঁইয়া, শিয়ালীডাঙ্গা, কোঁদলা এলাকার অধিকাংশ স্থানের বেড়িবাঁধ নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। এছাড়াও কয়রা উপজেলার ভেঙে যাওয়া বেড়িবাঁধের মধ্যে দক্ষিণ বেদকাশি ইউনিয়নের ছোটো আংটিহারা বাকেরগাজীর বাড়ির পাশে শাকবাড়িয়া নদীর প্রায় ১২০ গজ বেড়িবাঁধ, আংটিহারা মজিদ গাজীর পাশে ৩০০ গজ বেড়িবাঁধ, জোড়শিং বাজারের পাশে ৫০০ গজ বেড়িবাঁধ, কপোতাক্ষ নদের চোরামুখা খেয়াঘাটের কাছে ৫০০ গজ বেড়িবাঁধ ও গোলখালী তসলিম মোল্লার বাড়ির পাশে ৫০০ গজ বেড়িবাঁধ, উত্তর বেদকাশি ইউনিয়নের গাজীপাড়া গ্রামের মাথায় কপোতাক্ষ নদের ৬০০ গজ বেড়িবাঁধ, কাটকাটা বাজারের শাকবাড়ীয়া নদীর ৩০০ গজ বেড়িবাঁধ, মহারাজপুর ইউনিয়নের দশালিয়া গ্রামে কপোতাক্ষ নদের ৭০০ গজ বেড়িবাঁধ এবং কয়রা সদর ইউনিয়নের হরিণখোলা ও গোবরা ঘাটাখালি গ্রামে কপোতাক্ষ নদের আধা কিলোমিটার এলাকাসহ ১০টি জায়গার বেড়িবাঁধ ভেঙে এবং মহেশ্বরীপুর ইউনিয়নের কয়রা নদীর পানি পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) বাঁধ উপচে লবণ পানি লোকালয়ে প্রবেশ করেছে।

বাঁধ ভেঙে তলিয়ে গেছে এলাকা
কয়রা উপজেলার ক্ষতিগ্রস্ত মোস্তাজিবুল হক জানান,  প্রায় ১১ বছর আগের প্রলয়ঙ্করী ঘূর্ণিঝড় আইলার ক্ষত সারতে না সারতেই আস্পনের তাণ্ডবে লণ্ডভণ্ড হয়ে গেছে সব। গত ১০ বছরেও বাঁধ মেরামত হয়নি। টেকসই বাঁধ না হলে এখানে ভবিষ্যতে বসবাস করা কঠিন হয়ে পড়বে।

বাঁধ ভেঙে তলিয়ে গেছে এলাকা

দাকোপের রাশিদা বেগম জানান, ঝড়ের সময় নদীর ঢেউ ঘরের নিচের মাটি সরিয়ে নিয়ে গেছে। ফলে ঘর পড়ে গেছে।
খুলনা-৬ আসনের সংসদ সদস্য আক্তারুজ্জামান বাবু বলেন, কয়রা উপজেলা বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ১২১ কিলোমিটার বেড়িবাঁধের ১০ কিলোমিটার ভেঙে লোকালয়ে পানি প্রবেশ করেছে। এছাড়াও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে আরও ৪০ কিলোমিটার বাঁধ। ৫০ কোটি টাকার মাছের ক্ষতি হয়েছে। 

ঝড়ের তাণ্ডবে ভেঙে যাওয়া বাড়ি৭৬ কোটির মাছের ক্ষতি


ঘূর্ণিঝড় আম্পানের তাণ্ডবে সাতক্ষীরায় ভেসে গেছে ১২ হাজার ২৫৭টি মাছের ঘের ও পুকুর। এতে মৎস্য খামারিরা ১৭৬ কোটি ৩ লাখ টাকা আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন।

বাঁধ ভেঙে তলিয়ে গেছে এলাকা
জেলা প্রশাসক এসএম মোস্তফা কামাল বৃহস্পতিবার (২১ মে) ঘূর্ণিঝড় আম্পানে ক্ষয়ক্ষতি নিয়ে প্রেস কনফারেন্সে এসব তথ্য জানান।

বাঁধ ভেঙে তলিয়ে যাওয়া এলাকা

তিনি বলেন, আম্পানে জেলায় ৭ উপজেলার ১২ ইউনিয়নের ১২ হাজার ২৫৭টি মাছের ঘের ও পুকুর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ঘূর্ণিঝড় আম্পানের তাণ্ডব ও জলোচ্ছ্বাসে শ্যামনগর, আশাশুনি ও কালিগঞ্জের ১২ ইউনিয়নের ১৩ হাজার ৪৭৭ হেক্টর জমির ঘের পানিতে ভেসে গেছে। তিন উপজেলায় ১২ হাজার ২৫৭টি মাছের ঘের ও পুকুর ভেসে গেছে। যাতে ১৬৭৭ মেট্রিকটন সাদা মাছ এবং ২ হাজার ৫৩১ মেট্রিকটন চিংড়ির ক্ষতি হয়েছে। এর মধ্যে আশাশুনিতে ১০৭৮ মেট্রিক টন, কালিগঞ্জে ৩৫ মেট্রিকটন ও শ্যামনগরে ৫৬৪ মেট্রিকটন সাদা মাছ এবং আশাশুনিতে ১ হাজার ৬১৮ মেট্রিকটন, শ্যামনগরে ৮৬০ মেট্রিকটন এবং কালিগঞ্জে ৫৩ মেট্রিকটন চিংড়ি মাছের ক্ষতি হয়েছে। সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয়েছে সুন্দরবন সংলগ্ন গাবুরা, পদ্মপুকুর, বুড়িগোয়ালিনী ও কালিগঞ্জ উপজেলার মৎস্য চাষিরা। 

প্লাবিত এলাকা

তিনি আরও বলেন, ঝড়ের আগে ১৯০৭টি আশ্রয় কেন্দ্রে ৩ লাখ ৭০ হাজার মানুষ আশ্যয় নিয়েছিলেন। এজন্য জানের ক্ষতি কম হয়েছে। ঝড়ের আগে ৩৫০ মেট্রিকটন চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল। নতুন করে আরও ৩৭৫ মেট্রিকটন চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্তদের মাঝে ঢেউ টিন ও নগদ অর্থ বিতরণ করা হয়েছে।

 

 

/এসটি/

লাইভ

টপ