হাঁটু পানিতে ঈদ জামাতখুলনার আ.লীগ নেতাদের দাবি ‘স্যাবোটাজ’, কয়রাবাসী বলছেন বাধ্য হয়েছেন

Send
খুলনা প্রতিনিধি
প্রকাশিত : ২৩:৩৬, মে ২৬, ২০২০ | সর্বশেষ আপডেট : ০০:২০, মে ২৭, ২০২০

কয়রায় পানিতে দাঁড়িয়ে ঈদের নামাজ আদায়

খুলনা কয়রা উপজেলা সদরের ২নং কয়রা ক্লোজারের বাঁধ আটকানোর সময় ঈদ জামাত আয়োজন নিয়ে ইতোমধ্যে পক্ষ-বিপক্ষে তুমুল বিতর্ক শুরু হয়েছে। স্থানীয় আওয়ামী লীগ ও অঙ্গ সংগঠনের নেতারা ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে আরেকটি জোয়ারের আগে সর্বদলীয়ভাবে বাঁধ নির্মাণের কাজ শুরু করার জন্য তড়িঘড়ি করে ওই স্থানেই ঈদের নামাজ আদায়ের কথা বললেও খুলনা জেলা আওয়ামী লীগ ও অঙ্গ সংগঠনের নেতারা এ ঘটনাকে দলের ইমেজ ক্ষুণ্ন করার কাজ ও জামায়াতিদের ষড়যন্ত্র বলে দাবি করছেন। তবে ওই বাঁধ নির্মাণ কাজে নেতৃত্বদানকারী কয়রা উপজেলা চেয়ারম্যান জানিয়েছেন, তাদের সবার কাছে বাড়িঘরসহ সম্পদ রক্ষাই বড় চ্যালেঞ্জ ছিল। কয়রার মানুষের ভাগ্য নিয়ে কোনও ধরনের রাজনীতি করার সুযোগ বা প্রয়োজন নেই।

কয়রা উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক ও কয়রার নিবাসী মো. রায়হান কবির চঞ্চলের ঘটনার গুরুত্ব বুঝিয়ে ফেসবুক স্ট্যাটাস-১

কয়রা উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক ও কয়রার নিবাসী মো. রায়হান কবির চঞ্চল জামাতের পক্ষ নিয়ে বলেছেন, কয়রায় কিছু এলাকায় বাঁধ উঁচু ছিল, কিন্তু তার ওপর দাঁড়ানোর পর মানুষের ভার সামলানোর মত শক্তি বাঁধের ছিল না। কয়রার কোথাও কোনও মসজিদ ঈদের জামাত পড়ার মতো অবস্থা ছিল না। আর দূরে থাকা মসজিদে ঈদ জামাত পড়ে বাঁধ আটকানোর জন্য ফিরে আসতে ২ ঘণ্টা সময় লাগতো। ততক্ষণে জোয়ার এসে সব তলিয়ে দিতো। তাই বাধ রক্ষার সুবিধার্থে হাঁটু পানিতে জামাত আদায় করা হয়।

এদিকে, কয়রাতে পানিতে নামাজ পড়ার প্রতিবাদ জানিয়ে খুলনা মহানগর যুবলীগের আহ্বায়ক শফিকুর রহমান পলাশ বলেছেন, এটা জামায়াতি ষড়যন্ত্র। পুরাটাই ক্যামোফ্লেক্স করা হয়েছে। দেশ বিদেশে ধর্মপ্রাণ মানুষের সঙ্গে প্রতারণা করা হয়েছে। যেমনটি এর আগে এক জামায়াত নেতাকে চাঁদে দেখা গেছে এমন গল্প তারা বানিয়েছিল।

কয়রা উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক ও কয়রার নিবাসী মো. রায়হান কবির চঞ্চলের ঘটনার গুরুত্ব বুঝিয়ে ফেসবুক স্ট্যাটাস বাকি অংশ

কয়রা উপজেলা চেয়ারম্যান এস এম শফিকুল ইসলাম বলেছেন, কয়রার ঈদ জামাত নিয়ে একটি মহল রাজনীতি করছেন। কয়রার মানুষের ভাগ্য নিয়ে কোনও ধরনের রাজনীতি না করার জন্য তিনি আহ্বান জানিয়েছেন।

কয়রা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শিমুল কুমার সাহা বলেন, ঈদ জামাতের বিষয় নিয়ে জেলা প্রশাসন থেকে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তাই তদন্তাধীন বিষয় নিয়ে তার কোনও মন্তব্য করার সুযোগ নেই।

বিষয়টি নিয়ে রাজনীতি শুরু হওয়ায় আরও একটি স্ট্যাটাস দেন চঞ্চল

এদিকে, হাঁটু পানিতে ঈদ জামাত নিয়ে কয়রা উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক ও কয়রার নিবাসী মো. রায়হান কবির চঞ্চল ফেসবুকে একটি পোস্ট দিয়েছেন। ওই পোস্টে তিনি বলেন,‘ কয়রা উপজেলায় অনুষ্ঠিত ঈদের জামাত নিয়ে যে বিভ্রান্তির সৃষ্টি হয়েছে সেটা সবার সামনে তুলে ধরা উচিত বলে আমি মনে করি। কেননা এটা নিয়ে অনেকেই না জেনে অনেক ধরনের মন্তব্য করছেন। বিগত ২০ মে সুপার সাইক্লোন আম্পানে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত উপজেলা কয়রা। সাইক্লোনে মানুষের ঘর, গাছসহ অনেক কিছু ভেঙে যায় এবং সব থেকে বড় বিষয় উপজেলার ৭টি ইউনিয়নের মধ্যে ৫টি ইউনিয়নে নদীর বাঁধ ভেঙে প্লাবিত হয়। ২২ মে থেকে বাঁধটি বাধার (মেরামত) জন্য চেষ্টা করা হচ্ছে। কিন্তু ভাঙনের পরিমাণ বেশি হওয়ায় জোয়ার আসলে সেটি আবারও ভেঙে যাচ্ছে। এজন্য ঈদের দিন সবাইকে বাঁধের কাজ করার জন্য আসতে বলা হয় এবং সেখানেই ঈদের নামাজের ব্যবস্থা করা হয়। ঈদের দিন প্রায় ৫ হাজার লোক সেখানে উপস্থিত হয় এবং নামাজ আদায়ের পরে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সকালে সেমাই ও কাজের পরে খিচুড়ি মাংস দেওয়া হয়।’

 

ওই পোস্টে তিনি আরও লেখেন, ‘কিন্তু কিছু বিষয় নিয়ে মানুষের মাঝে বিভ্রান্তির সৃষ্টি হয়। প্রথমত, নামাজ যিনি পড়িয়েছেন তিনি জামায়াতের একজন নেতা ও দুইবার নির্বাচিত সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান। শুধুমাত্র এটাই নয়, তার ভাই কয়রা উপজেলা বিএনপির সভাপতি। কিন্তু ইমামের পিছনে তাকালেই দেখতে পাবেন চশমা পরা একজন ব্যক্তি এবং যিনি তাকবির দিয়েছেন তিনি কয়রা উপজেলা যুবলীগের সভাপতি, কয়রা সদর ইউনিয়নে দুইবার নির্বাচিত সাবেক চেয়ারম্যান ও বর্তমান কয়রা উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান। এছাড়া প্রথম সারিতে যারা দাঁড়িয়ে তাদের অধিকাংশই উপজেলা আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগ নেতা।’

‘কয়রা-পাইকগাছা সংসদীয় আসনের পরিসংখ্যান দেখলে আপনারা বুঝতে পারবেন এখানে জামায়াতের আধিপত্য ছিল, এ জন্য চেষ্টা করেছে সকলে মিলে কাজ করার। সম্পূর্ণ কাজটা উপজেলা প্রশাসন ও বর্তমান উপজেলা চেয়ারম্যানের নেতৃত্বে হয়েছে। ইমামতি যিনি করেছেন তিনি জামায়াতের নেতা, কিন্তু বয়োজ্যেষ্ঠ ও সকলের নিকট পরিচিত হওয়ায় তাকে ইমাম করা হয়। যেহেতু এইখানে সবদলের লোক ছিল- এজন্য অন্য পক্ষকে খুশি করে সবাই মিলে কাজটা করার প্রচেষ্টা চালিয়েছে মাত্র।’

‘দ্বিতীয়ত, নামাজ কেন পানিতে পড়া হলো- ওইখানে যে জায়গা ছিল তার বেশিরভাগ জায়গায় পানি ছিল, আর পিছনে যে উঁচু জায়গা সেটা বেড়িবাঁধ। ঔখানে পাশাপাশি ২-৩ জনের বেশি দাঁড়ানো যায় না, আর ওই বাঁধ এতটাই দুর্বল যে বেশি মানুষ দাঁড়ালে যে বাঁধটুকু বাকি আছে সেটুকুও ভেঙে যাবে। বেশিরভাগ মানুষ যে রাস্তাটা শুকনা ছিল সেখানে নামাজ পড়ছে। কিন্তু একটা ছবি ভাইরাল হওয়ায় অন্য ছবিগুলো আপনারা দেখেননি এবং প্রায় ৫ হাজার লোক হওয়ায় রাস্তায় সংকুলান হওয়া সম্ভব ছিল না।’

‘তৃতীয়ত, তারা কেন মসজিদে বা অন্য জায়গায় নামাজ পড়েনি এবং সামাজিক দূরত্ব নিয়ে প্রশ্ন করেছে অনেকেই। প্লাবিত এলাকার একটা মসজিদেও নামাজ পড়ার মতো অবস্থা নেই। অন্য জায়গা বা মাঠের কথা যারা বলেছেন তাদের উদ্দেশে বলছি, নামাজ পড়ার জন্য যে জায়গা আছে সেখানে নামাজ পড়ে বাঁধে যেতে কমপক্ষে ২ ঘণ্টা লাগবে। আর ততক্ষণে জোয়ার শুরু হবে এবং পানি বৃদ্ধি পাবে। তখন বাঁধ দেওয়া অসম্ভব। এমনকি জোয়ারে বিগত কয়েকদিনে দেওয়া বাঁধও কিছুটা ভেঙে গেছে। সুতরাং অন্য কোথাও নামাজ পড়ে বাঁধের কাজ শুরু করা সম্ভব ছিল না। সামাজিক দূরত্ব নিয়ে যারা বলছেন, ভাই থাকার জায়গা আর পেটে ভাত না থাকলে করোনার কথা আপনারও মনে থাকবে না। ফসলের ক্ষেত ভেসে গেছে এবং সব থেকে বড় অর্থনৈতিক সাপোর্ট মাছের ঘেরে পানি ঢুকে সাদা মাছ মরে দুর্গন্ধময় হয়ে গেছে পানি। এই অবস্থায় আপনি যখন সামান্য খাবার পানির জন্য পথ চেয়ে থাকবেন, কখন সেনাবাহিনী পানি নিয়ে আসবে বা ৫ কিলোমিটার নৌকা চালিয়ে পানি সংগ্রহ করতে হবে, তখন করোনার কথা মনে থাকবে না। আর কয়রায় এখনও কোনও করোনা রোগী শনাক্ত হয়নি এবং এখন চারিদিকে পানি থাকায় বাইরের মানুষ খুবই কম আসতে পারছে।’

কয়রাতে পানিতে নামাজ পড়ার প্রতিবাদ জানিয়ে খুলনা মহানগর যুবলীগের আহ্বায়ক শফিকুর রহমান পলাশের স্ট্যাটাস

ওই ফেসবুক পোস্টের শেষে উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক মো. রায়হান কবির চঞ্চল আরও বলেন, ‘এরপরও কারও কোনও বিষয়ে জানার থাকলে কমেন্টে বলতে পারেন অথবা উপকূলীয় অঞ্চলে কোনও বন্ধু বা আত্মীয় থাকলে তাদের থেকে জানতে পারেন। শুধু এটুকুই বলবো ২৫ মে ২০০৯-এ আইলায় যে ক্ষতি হয়েছিল, কয়রা সেটা যখন কাটিয়ে উঠেছে, তখন ২০ মে ২০২০ আম্পানে সেই স্বপ্ন লোনাজলে ভাসিয়ে দিয়েছে।’

তার এই ফেসবুক পোস্টসহ এই নামাজ পড়া নিয়ে যারা বিভিন্ন ধরনের মন্তব্য করেছেন তাদের উদ্দেশে শেষে তিনি পাল্টা প্রশ্ন করে লিখেছেন,‘আপনারা  কি জানেন আম্পান ঝরে কয়রায় কয়টি গ্রাম প্লাবিত? কত হাজার পরিবার পানিবন্দি? কত লক্ষ মানুষ না খেয়ে আছে? আপনি কি জানেন কত শত মসজিদ, মন্দির ভেঙে চুরমার হয়ে গেছে? আপনারা কি জানেন নদীর জোয়ার ভাটার খেলা? আপনি কি জানেন নতুন কাঁচা মাটির রাস্তার ওপরে হাঁটাচলা করা যায় না, এটার জন্য মাটি ধসে পড়ে? আপনারা তো কয়রা সম্পর্কেই জানেন না। তাহলে কয়রা নিয়ে লিখতে বসছেন কোন আন্দাজে?’

এদিকে, খুলনা মহানগর যুবলীগের আহ্বায়ক শফিকুর রহমান পলাশ কয়রায় হাঁটু পানিতে নামাজ আদায়ের ঘটনাকে মিথ্যাচার বলে দাবি করেছেন। তিনি বলেন, ‘ধর্মীয় সেন্টিমেন্টকে কাজে লাগিয়ে উদ্দেশ্যমূলকভাবে সেখানে পানিতে নামাজ পড়া হয়েছে। এজন্য দুদিন আগে তেকে কেন মাইকিং করা হয়েছে সেটাও আমার প্রশ্ন। চলমান করোনা ভাইরাস ও আম্পানে দেশ ও জাতি যখন দিশেহারা তখন এ ধরনের রাজনীতি না করতে তিনি সবাইকে আহ্বান জানান।’

কয়রাতে পানিতে নামাজ পড়ার প্রতিবাদ জানিয়ে খুলনা মহানগর যুবলীগের আহ্বায়ক শফিকুর রহমান পলাশের স্ট্যাটাসের বাকি অংশ

পলাশ আরও বলেন, ‘সহজ সরল, ধর্মপ্রাণ মুসল্লিদের ব্যবহার করেছেন জামায়াত নেতারা। এটা পরিকল্পিতভাবেই তারা করেছে বলে দাবি পলাশের। তিনি জানান, কৌতুহলী হয়ে আমি নিজেও ঘটনার পরে খোঁজ খবর নিয়েছি। কয়রা উপজেলার সদর ইউনিয়নে পবিত্র ঈদুল ফিতরের নামাজ হাঁটু পানিতে পড়া নিয়ে চারিদিকে কৌতূহলের সৃষ্টি হয়েছে। অনেকেই প্রশ্ন করেছেন ওই এলাকায় কি কোনও শুকনো জায়গা নেই, যেখানে নামাজ আদায় করা সম্ভব? একটা মসজিদে কি একাধিক জামাত করা যেত না? বিভিন্ন সূত্রে খবর নিয়ে আমরা জানতে পারি, জামায়াতের একজন আমির ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান ও তার দলীয় নেতা কর্মীরা এলাকার সহজ সরল মানুষকে বিভ্রান্ত করে এই কাজ করেছেন। আসল বাস্তবতা হচ্ছে প্রকৃতির ওপর কোনও মানুষের হাত নেই।’

তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এ এলাকার মানুষের জন্য অনেক কাজ করছেন এবং করে যাচ্ছেন। কাজ করেছেন বলেই এত বড় দুর্যোগেও সেখানে মানুষের কোনও প্রাণহানি ঘটেনি। কয়রাবাসীর উদ্দেশে পলাশ বলেন, হতাশ হবেন না। ইতোমধ্যে আমাদের প্রিয় নেত্রী সেনাবাহিনীর সদস্যদের বাঁধ নির্মাণের জন্য দায়িত্ব দিয়েছেন। তারা সারাবিশ্বে আরও অনেক বড় কাজ করছেন। এখানেও বাঁধ নির্মাণে সফল হবেন।  তিনি ওই অঞ্চলের আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ছাত্রলীগসহ সবাইকে সতর্কতার সঙ্গে কাজ করার অনুরোধ করেন।

সোনাডাঙ্গা থানা কৃষক লীগের সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ আল মাসুম খানের স্ট্যাটাস

খুলনা মহানগরীর সোনাডাঙ্গা থানা কৃষক লীগের সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ আল মাসুম খান কয়রার হাঁটু পানিতে ঈদ জামাত প্রসঙ্গে ফেসবুকে তার ওয়ালে লেখেন, ‘খুলনার কয়রায় জলের মধ্যে ঈদের জামাত, পুরো ঘটনাটি সাজানো। সেই বাসন্তীর জালের মতো ঘটনা, বহির্বিশ্বে ব্যাপকভাবে বিক্রি হচ্ছে এই ছবি। শেখ হাসিনা সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্নের অপচেষ্টা। পাশেই উঁচু সড়ক থাকতে জলের মধ্যেই কেন ঈদের নামাজ পড়তে হবে? পেশাদার ফটো সাংবাদিকদের তোলা, আর পানির মধ্যে জামাতে ঈদের নামাজ আদায় করা, ফেইক সেজদা এবং ব্যাপক প্রচারণা; বিএনপি-জামায়াত-শিবির প্রথম প্রচার করে। আর ঢাকার সস্তা গণমাধ্যমগুলোও গোগ্রাসে গিলছে; এই ষড়যন্ত্রের রহস্য উদঘাটন জরুরি। এই ঈদের জামাতে ইমামতি করেছে কয়রা জামায়াতের আমির, রাষ্ট্রদ্রোহ মামলার আসামি, সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান মাওলানা আ খ ম তমিজ উদদীন। সবাই একবার ভেবে দেখুন, মহাসড়ক বাদ দিয়ে জলের মধ্যেই কেন ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হবে? আর কোনও ধর্মপ্রাণ মুসুল্লি সেজদাবিহীন অশুদ্ধ এই নামাজ পড়বে, অতিদ্রুত এই ষড়যন্ত্রের পেছনে থাকা বিএনপি জামায়াত ও শিবিরের কুশীলবদের খুঁজে বের করতে হবে।’

তবে ঈদের নামাজ যতটুকু সম্ভব শুষ্ক স্থানে হওয়ার চেষ্টা সত্ত্বেও বেশি লোক হওয়ায় তারা পানিতেই দাঁড়িয়েছিলেন স্বীকার করে কয়রা উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও একই উপজেলার যুবলীগের সভাপতি এস এম শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘কয়রা পানিতে ভেসে গেছে। এমন কোনও স্থান নেই, এমন কোনও মসজিদ নেই, এমন কোনও ঈদগা নেই সেখানে নামাজ পড়ার পরিবেশ আছে। তাই ঘরবাড়ি রক্ষায় মানুষকে বাঁধ নির্মাণ কাজে শামিল হওয়ার আহ্বান জানিয়েছিলাম। তারা গত ৫দিন ধরে বাঁধ নির্মাণ কাজে স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ নিচ্ছেন।’

তিনি বলেন, ‘বাঁধের ওপর ঈদ জামাত আয়োজন নিয়ে একটি মহল রাজনীতি করতে চায়।’ এ কয়রার মানুষের ভাগ্য নিয়ে কোনও ধরনের রাজনীতি করার সুযোগ বা প্রয়োজন নেই বলে তিনি মন্তব্য করেন।

এ সংক্রান্ত আগের স্টোরি: 

পানিতে দাঁড়িয়েই কয়রাবাসীর ঈদের নামাজ

 

 

/টিএন/

লাইভ

টপ