করোনা উপসর্গ নিয়ে মৃতের দাফনে বাধা, অবশেষে কবরের জায়গা দিলেন মেম্বার

Send
জাকির মোস্তাফিজ মিলু, ঠাকুরগাঁও
প্রকাশিত : ১৩:২৩, মে ৩০, ২০২০ | সর্বশেষ আপডেট : ১৩:২৬, মে ৩০, ২০২০

করোনা ছড়ানোর জিগির তুলে প্রথমে স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির লোকজন বাধা দিলেন লাশ দাফনে। প্রশাসন থেকে তখন যাওয়া হলো মৃতের বাবার বাড়িতে। পরিবারের আপত্তি না থাকলেও বাধা হয়ে দাঁড়ায় এলাকাবাসী। নিজ জন্মস্থানের আজীবনের চেনা মানুষদের এমন নিষ্ঠুরতা অবশ্য মেয়েটিকে দেখতে হয়নি। কারণ সে তখন এসব কিছুর অনেক ঊর্ধ্বে। অবশেষে সদয় হলেন ইউনিয়ন পরিষদের একজন মেম্বার। নিজের জায়গায় তার কবরের ব্যবস্থা করে দিলেন।

ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার ইউএনও আব্দুল্লাহ আল মামুনের তত্ত্বাবধানে পরে সেখানেই শেষ ঠিকানা হলো মেয়েটির।

২৩ বছরের ওই নারী সদর উপজেলার আকচা ইউনিয়নের ছুট বঠিনা গ্রামের বাসিন্দা। তার স্বামীর বাড়ি সদরের আউলিয়াপুর ইউনিয়নের কচুবাড়ী গ্রামে।

ঠাকুরগাঁওয়ের সিভিল সার্জন ডা. মাহফুজার রহমান সরকার জানান, সদর উপজেলার রানী করোনা উপসর্গ নিয়ে সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। শুক্রবার (২৯ মে) ভোরে সেখানে মারা যান তিনি। পরে স্বামীর বাড়ির লোকজন তার লাশ নিতে অস্বীকৃতি জানায়। তার স্বামী আকবার আলী সদর উপজেলার আউলিয়াপুর কচুবাড়ী এলাকার বাসিন্দা।

ইউএনও আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, সদরের আউলিয়াপুর ইউনিয়নের কচুবাড়ি গ্রামে স্বামীর বাড়িতে লাশ দাফনের জন্য কবর খোঁড়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। তবে গ্রামবাসীর বাধায় সেটা সম্ভব হয়নি।

শুক্রবার বিকালে উপজেলা প্রশাসন, স্বাস্থ্য বিভাগ ও ইসলামিক ফাউন্ডেশনের সহায়তায় সদরের আকচা ইউনিয়নে ওই গৃহবধূর লাশ নেওয়া হয়। পরে ইউনিয়নের কশালবাড়ি গ্রামে বাবার বাড়ির পাশে একজন ইউপি সদস্যের জায়গায় তাকে দাফন করা হয়।

আকচা ইউপি চেয়ারম্যান সুব্রত কুমার বর্মন বলেন, ‘লাশ পারিবারিক গোরস্থানে দাফনের জন্য কবর খোঁড়ার চেষ্টা করলে গ্রামবাসী বাধা দেয়। পরে পাশেই আরেকটি জায়গায় কবর খোঁড়ার চেষ্টা করা হলে সেখানেও বাধা দেয় গ্রামবাসী। পরে আমার ইউনিয়নের কশালবাড়ি গ্রামে পাঁচ নম্বর ওয়ার্ড সদস্য রমজান আলীর নিজের জমিতে ওই গৃহবধূর লাশ দাফন করা হয়।’

কবরের জায়গা দান করা রমজান আলী বলেন, ‘গ্রামবাসীর বাধার মুখে করোনাভাইরাসের উপসর্গ নিয়ে মারা যাওয়া গৃহবধূর লাশ দাফন করা সম্ভব হচ্ছিল না। তাই মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে নিজের জমিতে লাশ দাফনের ব্যবস্থা করি।’

তিনি বলেন, ‘ডাক্তার ও বিশেষজ্ঞদের পক্ষ থেকে বারবার প্রচার করা হচ্ছে, লাশ থেকে করোনা ছড়ায় না। তারপরও মানুষের এই ভীতি ও স্বার্থপরতা আমাকে পীড়া দেয়।’

ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, ‘সকাল থেকেই আমরা আউলিয়াপুর ও আকচা ইউনিয়নে গৃহবধূর লাশ দাফনের চেষ্টা করি। কিন্তু গ্রামবাসী কবর খুঁড়তে দেয়নি। পরে আকচা ইউপি সদস্য রমজান আলীর জমিতে দাফন করা হয়।’

ঠাকুরগাঁওয়ের জেলা প্রশাসক ড. কামরুজ্জামান সেলিম বাংলা ট্রিবিউন-কে বলেন, করোনায় প্রশাসন, পুলিশ, স্বেচ্ছাসেবীসহ অনেক সাধারণ মানুষ জনসেবার নতুন দৃষ্টান্ত তৈরি করেছে। তবে এ সময়ে এ রকম নেতিবাচক দৃষ্টান্তও দেখা যাচ্ছে। এ ব্যাপারে গণসচেতনতা ও মানুষের মধ্যে মানবিকতা জাগিয়ে তোলা জরুরি। ইউপি সদস্য রমজান সে উদাহরণই রাখলেন। তাকে অভিনন্দন।

/এমপি/

লাইভ

টপ