ক্রসফায়ারের ভয় দেখিয়ে টাকা আত্মসাতের অভিযোগ পুলিশের বিরুদ্ধে

Send
ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি
প্রকাশিত : ০৬:৩০, জুন ০২, ২০২০ | সর্বশেষ আপডেট : ০৬:৩৯, জুন ০২, ২০২০

ছবি: জেলা প্রতিনিধিব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়ায় প্রবাসীকে ক্রসফায়ার ও মাদক মামলায় ফাঁসিয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে পাঁচ পুলিশের বিরুদ্ধে। কয়েক দফায় ৯০ হাজার টাকা হাতিয়ে নেওয়া হয় বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী হারুন মিয়া।

এ ঘটনায় প্রবাসী হারুন মিয়া গত ৩০ মে (শনিবার) জেলা পুলিশ সুপারের কাছে লিখিত অভিযোগ করেন। অভিযুক্তরা হলেন, আখাউড়া থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মতিউর রহমান, হুমায়ূন কবির, সহকারী উপ-পরিদর্শক (এসএসআই) খোরশেদ, সাদা পোশাক পরিহিত পুলিশ সদস্য সোহাগ ও অজ্ঞাতনামা মহিলা পুলিশ।

লিখিত অভিযোগে বলা হয়, আখাউড়া পৌর এলাকার মসজিদপাড়ার (উত্তর) বাসিন্দা হারুন মিয়া দীর্ঘদিন প্রবাসে ছিলেন। তিনি জানতে পারেন প্রতিবেশি কালাম মিয়ার স্ত্রী চিকুনী বেগম এবং তার মেয়েরা মাদক কারবারে জড়িত। কারবারে বাধা দেওয়ায় হারুন মিয়া এবং তার পরিবারের সদস্যদের হুমকি দেয় চিকুনী বেগম। গত ২৫ মে রাত দেড়টার দিকে এসআই মতিউর ও এসআই হুমায়ুন, এ.এস.আই সোহাগসহ আরও দুই জন পুলিশ সদস্য চিকুনী বেগমকে তার বাড়ি থেকে আটক করেন। পরবর্তীতে চিকুনী বেগম ও তার মেয়েদের কথায় পুলিশ সদস্যরা হারুনের বাড়িতে গিয়ে তল্লাশি চালায়।

অভিযোগে আরও বলা হয়, তল্লাশির নামে হারুনকে শারীরিক ও মানসিকভাবে হয়রানি করেন পুলিশ সদস্যরা। এছাড়া ঘরের সমস্ত আসবাবপত্র ওলোট-পালোট করে। এই সময় হারুন তার প্রতিবেশিদের ডেকে আনেন। এক পর্যায়ে পুলিশ সদস্যরা হারুনের ঘরে মাদক না পেয়ে ঘরে থাকা তার মা আয়েশা বেগমের পেনশনের আট হাজার এবং ব্যাংক থেকে উত্তোলন করে আনা ৩০ হাজার টাকা নিয়ে নেয়। এরপর হারুনকে মারধর করে অভিযুক্ত পুলিশ সদস্যরা ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন। পরে ভোর চারটার দিকে আবারও অভিযুক্ত পুলিশ সদস্যরা হারুনের বাড়িতে এসে মিথ্যা মামলায় গ্রেফতার ও ক্রসফায়ারের ভয় দেখিয়ে এক লাখ টাকা দাবি করেন। পরে বিষয়টি ৫০ হাজার টাকায় সুরাহা হয়। পরে হারুন তার বৃদ্ধ মায়ের পেনশনের আট হাজার টাকা ফেরত চাইলে এসআই মতিউর টাকা ফেরত দেন।

এই ব্যাপারে অভিযুক্ত এসআই মতিউর রহমানের মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি সাংবাদিকদের কাছে অভিযোগ অস্বীকার করে জানান, এই ধরনের কোনও ঘটনা ঘটেনি।

এসআই হুমায়ূন কবির তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ মিথ্যা এবং তিনি ষড়যন্ত্রের শিকার বলে দাবি করেন।

এই ব্যাপারে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার পুলিশ সুপার মোহাম্মদ আনিসুর রহমান সাংবাদিকদের জানান, তিনি লিখিত অভিযোগ পেয়েছেন। অভিযোগের বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হবে। তদন্ত করে অভিযোগ প্রমান হলে পুলিশের বিধান অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। 

/এনএস/

লাইভ

টপ