পানিতে তলিয়ে গেছে চরের ধান ও ভুট্টা ক্ষেত, বিপাকে কৃষক

Send
কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি
প্রকাশিত : ১০:৩৩, জুন ০২, ২০২০ | সর্বশেষ আপডেট : ১০:৩৩, জুন ০২, ২০২০

পানিতে তলিয়ে যাওয়া ধান ক্ষেত



ঘূর্ণিঝড় আম্পানের প্রভাবে কয়েকদিনের ভারী বর্ষণ আর উজান থেকে নেমে আসা ঢলে কুড়িগ্রামের  ব্রহ্মপুত্র ও দুধকুমার  নদের পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। এতে চরের বোরো ধান ও ভুট্টাসহ সবজি ক্ষেত ডুবে গেছে। পচন থেকে বাঁচাতে আধা পাকা ধান কাটতে বাধ্য হচ্ছেন কৃষক। তবে গাছে কেবল মোচা (ফুল) আসায় ভুট্টা নিয়ে চরম বিপাকে পড়েছেন চাষিরা।

জেলার কৃষি বিভাগ জানায়, ২৯ মে পর্যন্ত জেলায় ৮৪ ভাগ বোরো ধান কাটা হয়েছে। চরাঞ্চলে কিছু ধান এখনও জমিতে থাকায় সেগুলো পানিতে তলিয়ে গেলেও তার পরিমাণ কম। 

পানিতে তলিয়ে যাওয়া ধান ক্ষেত
জেলার রৌমারী, উলিপুর ও সদর উপজেলার বিভিন্ন চরাঞ্চলে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গত কয়েকদিন অব্যাহত পানি বৃদ্ধির ফলে চরের বোরো ও ভুট্টাসহ বেশির ভাগ ফসলের ক্ষেত পানিতে তলিয়ে গেচে। হঠাৎ করে নদ-নদীর পানি বেড়ে যাওয়ায় এসব ফসল বিশেষ করে পাকা বোরো ধান এবং ভুট্টা নিয়ে চরম বিপাকে পড়েছেন চরাঞ্চলের কৃষক।


সদর উপজেলার যাত্রাপুর ইউনিয়নের শিক্ষক মুনির হোসেন জানান, ব্রহ্মপুত্রের পানি বাড়ায় চর রলাকাটা, চিরা খাওয়া, কালির আলগা, গোয়ালপুরি, পোড়ার চর, চর ভগবতীপুর, চর পার্বতীপুরসহ ব্রহ্মপুত্রের নিম্নাঞ্চলের সব চরেই কৃষি ক্ষেত ডুবে গেছে।  বিশেষ করে বেশ কিছু পাকা বোরা ধান, ভুট্টা, কাউন ও চিনাসহ চরাঞ্চলের সবজি ক্ষেত পানিতে তলিয়ে গেছে। 

পানিতে তলিয়ে যাওয়া ভুট্টা ক্ষেত
শিক্ষক মুনির হোসেন বলেন, ‘করোনার দুর্যোগে এমনিতেই কর্মহীন রয়েছেন এই অঞ্চলের মানুষ। এরমধ্যে আকস্মিক পানি বাড়ায় মানুষ আরও দুর্দশাগ্রস্থ হয়ে পড়েছে। দু-এক দিনের মধ্যে পানি নেমে না গেলে এসব ফসল আবাদকারী কৃষকরা স্থায়ীভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবেন।’
রলাকাটার চরের কৃষক আবুল হোসেন বলেন, ‘করোনাত মরার আগত হামাক না খায়া মরা নাগবে। তিন বিঘা জমির ধান সউগ তলে গেইছে। এই ধান আর পেটত দিবার পামো বলি মনে হয় না।’ 

পানিতে তলিয়ে যাওয়া ভুট্টা ক্ষেত
যাত্রাপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আইয়ুব আলী সরকার জানান, হঠাৎ পানি বাড়ায় বেশ কিছু ফসল পানিতে তলিয়ে গেছে। পানি নেমে না গেলে কেটে নেওয়াও সম্ভব নয়। এর ওপর চলছে নদী ভাঙন। চরাঞ্চলে মানুষ চরম বিপাকে দিনানিপাত করছে। আমরা প্রশাসনকে বিষয়টি অবহিত করেছি।
কড়িগ্রাম সদর উপজেলা ভারপ্রাপ্ত নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) ময়নুল ইসলাম জানান, সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদের কাছে ক্ষয়ক্ষতির প্রতিবেদন চাওয়া হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্তদের প্রয়োজনীয় সহায়তা করা হবে।

নদীর পানি বেড়ে যাওয়ায় চরের বাড়িঘরে পানি উঠেছে
পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী আরিফুল ইসলাম জানান, উজানের ঢলে জেলার নদ-নদীর পানি বেড়ে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হলেও শনিবার (৩০ মে) রাত থেকে পানি কমতে শুরু করবে। আপাতত ভারী বৃষ্টিপাত ও বন্যার কোনও আশঙ্কা নেই।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর, খামার বাড়ী, কুড়িগ্রামের অতিরিক্ত উপ-পরিচালক (পিপি) ষষ্ঠি চন্দ্র রায় জানান, চরাঞ্চলসহ জেলায় বোরো ধান কাটা প্রায় শেষ পর্যায়ে। নদ-নদীর পানি বেড়ে চরাঞ্চলে কিছু ধান ও ভুট্টা ক্ষেত পানিতে নিমজ্জিত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। দু-একদিনে মধ্যে পানি নেমে গেলে ভুট্টা ক্ষেত তেমন ক্ষতিগ্রস্ত হবে না। 

 

/এসটি/

লাইভ

টপ