করোনা হটস্পট নওগাঁয় নেই পিসিআর ল্যাব ও আইসিইউ সুবিধা

Send
আব্দুর রউফ পাভেল, নওগাঁ
প্রকাশিত : ২৩:১৫, জুন ৩০, ২০২০ | সর্বশেষ আপডেট : ২৩:৩০, জুন ৩০, ২০২০

নওগাঁ জেনারেল হাসপাতাল ও মেডিক্যাল কলেজ

উত্তরবঙ্গের সীমান্তবর্তী জেলা নওগাঁয় প্রায় ২৮ লাখ লোকের বসবাস। রাজশাহী বিভাগের মধ্যে করোনা সংক্রমণে ইতোমধ্যে হটস্পটে পরিণত হয়েছে এই জেলা। প্রতিদিনই এখানে বৃদ্ধি পাচ্ছে করোনায় আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা। অথচ মেডিক্যাল কলেজ প্রতিষ্ঠা হলেও তাতে কোনও পিসিআর ল্যাব নেই। ফলে আক্রান্তদের নমুনা পরীক্ষা করতে লাগছে দীর্ঘসময়। চিহ্নিত হওয়ার আগের এই সময়টাতে আক্রান্তদের অনেকে আইসোলেশনে না গিয়ে ইচ্ছেমতো ঘুরে বেড়ানোয় এই জেলায় করোনার সংক্রমণ বাড়ছে। তাই নওগাঁয় করোনা পরীক্ষার পিসিআর ল্যাব বসানোসহ হাসপাতালে দ্রুত আইসিইউ ইউনিট স্থাপনের দাবি জানিয়েছেন জেলঅর সচেতন মহল।

নওগাঁয় রয়েছে ২৫০শয্যা বিশিষ্ট আধুনিক হাসপাতাল আর ২০১৮ সালে স্থাপন করা হয়েছে নওগাঁ মেডিকেল কলেজ। করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের পর থেকে আধুনিক সদর হাসপাতালে সম্ভাব্য রোগীদের করোনার নমুনা সংগ্রহ করে প্রথম দিকে রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হলেও বর্তমানে সপ্তাহে দুই দিন সংগ্রহ করা নমুনা পাঠানো হচ্ছে ঢাকায়। এর ফলে নমুনা পরীক্ষার রিপোর্ট আসতে সময় লাগছে ৮-১০ দিন।

সরেজামন পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, রোগীরা নমুনা দিয়ে ফল পাওয়ার আগে ঘুরে বেড়াচ্ছে বিভিন্ন কাজের অজুহাতে। এর ফলে নিজের অজান্তেই তারা নতুন করে সংক্রমিত করছে অন্যদের।

এদিকে নওগাঁয় প্রতিদিন প্রায় ৭০-৮০ জনের নমুনা সংগ্রহ করা হচ্ছে। কোনও কোনও দিন সংখ্যা এর চেয়েও অনেক বেশি। এছাড়া বেসরকারিভাবে নওগাঁর আর কোথাও করোনা পরীক্ষার কেন্দ্র না থাকায় সদর হাসপাতালে এসে দীর্ঘ লাইন ধরে অপেক্ষা করে করোনা ভাইরাসের নমুনা দিতে হচ্ছে। আর ফলাফলের জন্য অপেক্ষা করতে হচ্ছে দিনের পর দিন।

অন্যদিকে বগুড়া ও রাজশাহীতে করোনা পরীক্ষার কেন্দ্র থাকলেও সেগুলোতে পরীক্ষার অনেক চাপ থাকার কারণে নওগাঁর নমুনাগুলো স্বাস্থ্য বিভাগ ঢাকায় পাঠাতে বাধ্য হচ্ছেন। অথচ নওগাঁয় যদি করোনা পরীক্ষা কেন্দ্র থাকতো তাহলে মানুষ সহজেই নমুনা পরীক্ষার ফল জানতে পারতো আর সঙ্গে সঙ্গেই করোনা আক্রান্ত ব্যক্তিরা প্রতিরোধমূলক জরুরি পদক্ষেপ গ্রহণ করতে পারতেন। এতে করে করোনা সংক্রমণ উল্লেখ্যযোগ হারে কমতো। অপরদিকে, জেলা প্রশাসন ও স্বাস্থ্য বিভাগ বলেছে নওগাঁয় দ্রুত করোনা পরীক্ষার পিসিআর ল্যাব ও আইসিইউ স্থাপনের জন্য স্বাস্থ্য অধিদফতরকে লিখিত ভাবে আবেদন করা হয়েছে এবং সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রক্ষা করা হচ্ছে।

নওগাঁর সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন একুশে পরিষদের পক্ষ থেকে করোনা সংক্রমণের শুরু থেকেই জেলায় একটি পিসিআর ল্যাব ও আইসিইউ স্থাপনের জন্য মানববন্ধন, স্মারকলিপি প্রদানসহ নানা কর্মসূচি পালন করে আসছে।

সদর হাসপাতালে নমুনা দিতে আসা অনেক মানুষই জানান, করোনা সংক্রমণ কমানোর জন্য পরীক্ষার কোনও বিকল্প নেই। কিন্তু হাসপাতালে এসে নমুনা দিয়ে দিনের পর দিন অপেক্ষা করতে হয় ফলের জন্য। যার কারণে এই করোনাভাইরাস সংক্রমণ দিন দিন বেড়েই চলেছে। তাই নওগাঁয় করোনা পরীক্ষার ল্যাব ও আইসিইউ স্থাপন করা অতি জরুরি।

নওগাঁ সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন একুশে পরিষদের সভাপতি এ্যাড. ডিএম আব্দুল বারী বলেন, করোনা সংক্রামণের প্রথম থেকেই আমরা নওগাঁয় একটি পিসিআর ল্যাব ও আইসিইউ স্থাপনের জন্য শান্তিপূর্ণ আন্দোলন চালিয়ে আসছি। করোনা নামক এই মরণঘাতী রোগ থেকে নওগাঁর আপামর মানুষকে বাঁচাতে হলে দ্রুত নওগাঁয় পিসিআর ল্যাব ও আইসিইউ স্থাপনের কোনও বিকল্প নেই।

নওগাঁর ডেপুটি সিভিল সার্জন ডা. মনজুর-এ-মুর্শেদ বলেন, নওগাঁয় পিসিআর ল্যাব ও আইসিইউ স্থাপনের জোর চেষ্টা চালানো হচ্ছে তবে করোনা রোগীর জন্য অক্সিজেন খুবই প্রয়োজনীয় বলে স্বাস্থ্য অধিদফতর নওগাঁয় কেন্দ্রীয়ভাবে অক্সিজেন সরবরাহ কেন্দ্র স্থাপনের আশ্বাস দিয়েছে। আমরা স্বাস্থ্য অধিদফতরের সঙ্গে সর্বদা যোগাযোগ রক্ষা করে যাচ্ছি।

নওগাঁ জেলা প্রশাসক মো. হারুন-অর-রশিদ বলেন, মাননীয় খাদ্যমন্ত্রীর ডিও লেটারসহ আমরা জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে করোনাভাইরাস পরীক্ষার জন্য নওগাঁয় দ্রুত পিসিআর ল্যাব ও আইসিইউ স্থাপনের জন্য লিখিতভাবে আবদেন করেছি। এছাড়াও এই বিষয়ে আমরা সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ অব্যাহত রেখেছি।

প্রসঙ্গত: নওগাঁ জেলায় করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে এ পর্যন্ত ৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। জেলায় মোট আক্রান্ত হয়েছে সোমবার পর্যন্ত ৪৫১ জন। আর এখন পর্যন্ত মোট সুস্থ হয়েছেন  ২১৪ জন।

/টিএন/

লাইভ

টপ