আইসোলেশনে থেকে সরকারের দোষ ধরেন বিএনপি নেতারা: তথ্যমন্ত্রী

Send
নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম
প্রকাশিত : ২৩:২৮, জুলাই ০৪, ২০২০ | সর্বশেষ আপডেট : ০১:৪৪, জুলাই ০৫, ২০২০

চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ায় একটি অনুষ্ঠানে তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ

জনগণের সহায়তায় এগিয়ে না এসে আইসোলেশনে থেকে বিএনপি নেতারা সরকারের দোষ ধরেন এমন মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ। তিনি বলেছেন, বিএনপি’র অনেক নেতা আছে, যারা ঘরের মধ্যে আইসোলেশনে থেকে শুধু প্রেস ব্রিফিং করে, আর সরকারের দোষ ধরে। জনগণের সহায়তায় তারা এগিয়ে আসেনি। সারাদেশে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মী এবং কিছু স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের কর্মীরাই আছে মানুষের পাশে।

শনিবার (৪ জুলাই) দুপুরে চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলা অডিটরিয়ামে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জন্য চিকিৎসা সরঞ্জামাদি প্রদান ও বন্যহাতির আক্রমণে মৃত ব্যক্তির পরিবারকে সরকারের আর্থিক অনুদানের চেক বিতরণ উপলক্ষে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে তথ্যমন্ত্রী প্রধান অতিথি ছিলেন।

হাছান মাহমুদ বলেন, যারা ঘরে বসে বসে শুধু সমালোচনা করছে, তারা কিন্তু ঘর থেকে বের হচ্ছে না। অন্যদিকে আওয়ামী লীগ ও সরকারের কেউ কিন্তু বসে নেই। আমাদের দলের বহু নেতা করোনায় আক্রান্ত হয়েছে। অনেক নেতা মৃত্যুবরণ করেছে। মৃত্যু যে কোনও সময় হতে পারে, তাই বলে জনগণের এই দুর্দশার সময় বসে থাকবো সেটা হতে পারে না। প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের জনগণের পাশে থাকার জন্য নির্দেশ দিয়েছেন। তাঁর নির্দেশনা মেনে আমরা জনগণের পাশে আছি, ভবিষ্যতেও থাকবো।

তিনি আরও বলেন, করোনা ভাইরাসের মহামারি শুরুর পর থেকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশের মানুষকে করোনা থেকে রক্ষা করার জন্য প্রাণান্তকর চেষ্টা করে যাচ্ছেন। মানুষকে সুরক্ষা দেওয়ার জন্য, যাতে খাদ্যের সঙ্কট না হয়, গরিব মানুষের যাতে কোনোভাবে অসুবিধা না হয় সেজন্য নানাভাবে তিনি কাজ করে যাচ্ছেন। ক্রমান্বয়ে দেশে করোনাভাইরাস মোকাবিলার সামর্থ্য এবং সক্ষমতাও বৃদ্ধি পেয়েছে। আজকে তিন মাসের বেশি দুর্যোগে বাংলাদেশে আল্লাহর রহমতে খাদ্যের অভাব হয়নি। খাদ্যের অভাবে কোনও মানুষ মৃত্যুবরণ করেনি। খাদ্যের জন্য কোনও জায়গায় হাহাকার নাই।

তথ্যমন্ত্রী বলেন, করোনাভাইরাসে মৃত্যুর হার পৃথিবীতে সর্বনিম্ন যে কয়টি দেশে আছে তার মধ্যে বাংলাদেশ অন্যতম। বাংলাদেশে এখন করোনাভাইরাসে মৃত্যুর হার ১.২৫ শতাংশ। ভারতে সেটি ৩ শতাংশের বেশি, পাকিস্তানে ২ শতাংশের বেশি। ইউরোপ আমেরিকার দেশগুলোতে ৫ থেকে ১৬ শতাংশ। প্রধানমন্ত্রী সবাইকে সঙ্গে নিয়ে অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে করোনা ভাইরাস মোকাবিলা করছেন বিধায় আমাদের দেশে মৃত্যুর হার অনেক দেশের চেয়ে কম।

সকলকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার অনুরোধ জানিয়ে ড. হাছান মাহমুদ বলেন, রাঙ্গুনিয়ায়ও অনেক করোনা আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হয়েছে। আমাদের মনে রাখতে হবে আমার সুরক্ষা আমার হাতে। আমি যদি সচেতন না হই সরকার কিংবা ডাক্তারসহ অন্য কেউ আমাকে সুরক্ষিত করতে পারবে না। সেজন্য আমার সুরক্ষা আমার হাতে এটি মাথায় রেখেই আমাদেরকে করোনা ভাইরাসের সময় জীবন এবং কর্মকাণ্ড পরিচালনা করতে হবে। অসচেতন থাকলে যে কেউ যে কোনও সময় আক্রান্ত হতে পারে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মাসুদুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান মো. শফিকুল ইসলাম, সহকারী পুলিশ সুপার আবুল কালাম আজাদ, বিভাগীয় বন কর্মকর্তা আবু নাছের মোহাম্মদ ইয়াছিন নেওয়াজ, উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা রেহানুল ইসলাম, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার শামসুল আলম তালুকদার, চেয়ারম্যান ইদ্রিছ আজগর, মুজিবুল হক হিরু, উপজেলা আওয়ামী লীগের দফতর সম্পাদক আবু তাহের প্রমুখ। অনুষ্ঠান শেষে তথ্যমন্ত্রী রাঙ্গুনিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স পরিদর্শন করে চিকিৎসা ব্যবস্থার খোঁজখবর নেন। এসময় তিনি হাসপাতালের চিকিৎসা ব্যবস্থার আরও উন্নতি ও আধুনিকায়নকল্পে নানা উদ্যোগের কথা জানান। 

/টিএন/

লাইভ

টপ