বাহাদুরাবাদ পয়েন্টে যমুনার পানি বিপৎসীমার ১২৯ সেন্টিমিটার ওপরে

Send
জামালপুর প্রতিনিধি
প্রকাশিত : ১৮:৫৬, জুলাই ১৬, ২০২০ | সর্বশেষ আপডেট : ১৮:৫৬, জুলাই ১৬, ২০২০

ঙঙগত ২৪ ঘণ্টায় জামালপুরের বাহাদুরাবাদ ঘাট পয়েন্টে যমুনা নদীর পানি বেড়ে বিপৎসীমার ১২৯ সেন্টিমিটার এবং জগন্নাথগঞ্জ ঘাট পয়েন্টে ৩৯ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এতে জেলার সাত উপজেলার প্রায় ছয় লাখ মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। বিভিন্ন সড়কে পানি উঠে পড়ায় বন্ধ হয়ে গেছে যোগাযোগ ব্যবস্থা। গ্রামীণ হাট-বাজারগুলোতে পানি উঠে পড়ায় দুর্ভোগ বেড়েছে। দুর্গত এলাকায় বিশুদ্ধ পানি ও খাদ্যের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) জামালপুর জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ আবু সাঈদ এবং পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) পানি পরিমাপক (গেজ রিডার) আব্দুল মান্নান বাংলা ট্রিবিউনকে পানি বৃদ্ধির বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

এলাকাবাসী জানায়, বাড়িঘরে পানি ঢুকে পানিবন্দি মানুষ পরিবার পরিজন ও গৃহপালিত গরু-ছাগল নিয়ে পড়েছেন চরম বিপাকে। বাড়িঘরে পানি ঢুকে পড়ায় অনেক পরিবার বাঁধে আশ্রয় নিচ্ছে। বানভাসীদের দুর্ভোগ কমাতে জেলা প্রশাসন ত্রাণ বিতরণ কার্যক্রম অব্যাহত রাখলেও চাহিদার তুলনায় ত্রাণের পরিমাণ অপ্রতুল বলে দাবি করছেন জনপ্রতিনিধিরা।

BT-Newএদিকে জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জ রেলওয়ে স্টেশনের রেললাইন বন্যার পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় জামালপুর-দেওয়ানগঞ্জ রুটে ট্রেন চলাচল বন্ধ ঘোষণা করেছে কর্তৃপক্ষ। এতে বিপাকে পড়েছে ট্রেনের যাত্রীরা। এছাড়া বুধবার বিকালে বন্যার পানির প্রবল স্রোতে মাদারগঞ্জ উপজেলার মহিষবাথান-মাহমুদপুর বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধের ৫০ মিটার ভেঙে গেছে। এতে ১০টি গ্রাম প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এ ব্যাপারে মাদারগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আমিনুল ইসলাম বলেন, ‘বাঁধের ভাঙা অংশ দ্রুত মেরামতের জন্য স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানকে বলা হয়েছে।’

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক মো. আমিনুল ইসলাম জানান, বন্যার পানিতে ৭৩৯ হেক্টর জমির আমন বীজতলা, ১৬ হাজার ৬৬ হেক্টর জমির আউশ ধান এবং ২১ হাজার ২৭ হেক্টর জমির পাট তলিয়ে গেছে।

জামালপুরের সিভিল সার্জন ডা. প্রণয় কান্তি দাস জানান, দুর্গতদের স্বাস্থ্যসেবার জন্য কাজ ৮০টি মেডিক্যাল টিম গঠন করা হয়েছে।

জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ আবু সাঈদ জানান, যমুনা নদীর পানি বৃদ্ধির হার তুলনামূলকভাবে কম। তাই তিনি আশা করছেন যমুনার পানি কিছুটা কমার সম্ভাবনা রয়েছে। আগামী ২৪ ঘণ্টার ভেতর যমুনা নদীর পানি বৃদ্ধি বা কমার বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া যাবে বলে জানান তিনি।

জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা মো. নায়েব আলী জানান, জেলায় বন্যাকবলিত এলাকায় এখন পর্যন্ত ৩১০ মেক্ট্রিক টক জিআর চাল, নগদ ১২ লাখ ৫০ হাজার টাকা, চার হাজার প্যাকেট শুকনো খাবার এবং গো-খাদ্য বাবদ দুই লাখ টাকা বিতরণ করা হচ্ছে।

/এমএএ/

লাইভ

টপ