‘ধাপের ওপর রান্দি-বাড়ি, ধাপের ওপরে খাই’

Send
গোপালগঞ্জ প্রতিনিধি
প্রকাশিত : ১৯:৪৯, আগস্ট ০৩, ২০২০ | সর্বশেষ আপডেট : ২১:১৩, আগস্ট ০৩, ২০২০




কচুরিপানার ধাপের ওপর আশ্রয় নিয়েছেন বানভাসি মানুষগোপালগঞ্জে প্রতিদিনই নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হচ্ছে। আগে গোপালগঞ্জ সদর, কাশিয়ানী ও মুকসুদপুর উপজেলার ১৫টি গ্রামের বাসিন্দারা পানিবন্দি ছিলেন। নতুন করে যোগ হয়েছে কোটালীপাড়া উপজেলার কলাবাড়ি ইউনিয়নের শিমুলবাড়ি, কাফুলাবাড়ি ও রামনগর গ্রাম। এ নিয়ে জেলার ১৮টি গ্রামের অন্তত আড়াই হাজার পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। এরমধ্যে পাঁচশ’ পরিবার উঁচু এলাকার বিভিন্ন স্কুল ও রাস্তার পাশে আশ্রয় নিয়েছে। অনেকে কচুরিপানা দিয়ে ধাপ বানিয়ে তার ওপর গরু-ছাগল ও হাঁস-মুরগি নিয়ে আশ্রয় নিয়েছেন। এসব এলাকার ছোট-বড় প্রায় এক হাজারের বেশি পুকুর বন্যার পানিতে ভেসে গেছে।

কোটালীপাড়া উপজেলার কলাবাড়ী ইউনিয়নের রামনগর গ্রামের দিপঙ্কর বালার স্ত্রী লক্ষ্মী বালা বলেন, ‘প্রায় ১০-১২ দিন হলো বাড়িতে পানি উঠেছে। খুব কষ্টের মধ্য দিয়ে এই পানির ভেতর বসবাস করছি। কচুরিপানা দিয়ে ধাপ বানিয়ে তার ওপর গবাদিপশু-পাখি নিয়ে আশ্রয় নিয়েছি। ধাপের ওপরই রান্দি-বাড়ি, ধাপের ওপরে খাই।’

কচুরিপানার ধাপ বানিয়ে রাখা হয়েছে গবাদিপশুকলাবাড়ী ইউনিয়নের রামনগর, কাফুলাবাড়ী, শিমুলবাড়ী গ্রামের তিন শতাধিক পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে বলে জানান স্থানীয় চেয়ারম্যান মাইকেল ওঝা। তিনি বলেন, শতাধিক পরিবার ঘরবাড়ি ছেড়ে রামনগর বাজার ও এর পাশের এলাকাগুলোর উঁচু জায়গায় আশ্রয় নিয়েছে। অনেকে বাড়িতে কচুরিপানা দিয়ে ধাপ তৈরি করে তার ওপর বসবাস করছে। অপরদিকে, কলাবাড়ী ইউনিয়নের নিচু এলাকার প্রায় পাঁচ শতাধিক মাছের ঘের তলিয়ে গেছে।

রামনগর গ্রামের রেখা রানী বাগচী বলেন, প্রায় এক সপ্তাহ ধরে পানিবন্দি অবস্থায় আছি। বাড়িতে ধাপ বানিয়ে তার ওপর খুব কষ্টে বসবাস করছি।

কুমরিয়া গ্রামের পরিতোষ বিশ্বাস বলেন, ধারদেনা করে ১০ বিঘা জমিতে মাছের ঘের করেছিলাম। বন্যার পানিতে আমার ঘেরের সব মাছ ভেসে গেছে। আমি এখন পরিবার পরিজন নিয়ে কীভাবে বাঁচবো ভেবে পাচ্ছি না।

কচুরিপানার ধাপ বানিয়ে রাখা হয়েছে হাঁস-মুরগিউপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এস এম মাহফুজুর রহমান বলেন, ইতোমধ্যে উপজেলা প্রশাসন থেকে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত ৬৫টি পরিবারকে ত্রাণ সহায়তা দেওয়া হয়েছে। আগামীতেও উপজেলা প্রশাসন ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে থাকবে।

জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ইতোমধ্যে দুর্গতদের সাহায্যে তিনশ’ মেট্রিক টন চাল এবং শিশু, গো-খাদ্য ও শুকনো খাবারের জন্য ছয় লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।

/টিটি/এমওএফ/

সম্পর্কিত

লাইভ

টপ