কারাগার থেকে কয়েদি পালানোর ঘটনায় তদন্ত কমিটির কার্যক্রম শুরু

Send
গাজীপুর প্রতিনিধি
প্রকাশিত : ১২:০১, আগস্ট ০৯, ২০২০ | সর্বশেষ আপডেট : ১২:০১, আগস্ট ০৯, ২০২০

তদন্ত কমিটির প্রধান অতিরিক্ত কারা মহাপরিদর্শক আবরার হোসেন



গাজীপুরের কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগার-২ থেকে নিখোঁজ হওয়া যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত কয়েদি আবু বকর সিদ্দিকের খোঁজ শনিবার (৮ আগস্ট) সন্ধ্যা পর্যন্ত পাওয়া যায়নি। তাকে পালিয়ে যেতে সাহায্য করা হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে সংশ্লিষ্টরা ধারণা করছেন। এ ঘটনায় গঠিত তিন সদস্যের তদন্ত কমিটির সদস্যরা তদন্ত কাজ শুরু করেছেন। তারা শনিবার কারাগার এলাকা পরিদর্শন করেছেন। 

কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগার-২ এর সিনিয়র সুপার জাহানারা বেগম জানান, বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) সন্ধ্যায় লকআপের সময় বন্দিদের গণনাকালে যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত কয়েদি আবু বকর সিদ্দিককে পাওয়া যায়নি। কারাগারের ভেতরে বিভিন্ন সেল ও ওয়ার্ডসহ আশেপাশের এলাকায় তন্ন তন্ন করে খোঁজা হয়। কারাগারের সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ সংগ্রহ করে তা পর্যবেক্ষণ করা হলেও কোথাও তার সন্ধান মেলেনি। এ ঘটনায় শুক্রবার বিকালে কারা কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের কোনাবাড়ি থানায় অভিযোগ করা হয়েছে। কারাগারের জেলার বাহারুল আলম এ মামলার বাদী হয়েছেন। পলাতক ওই কয়েদিকে আটক করতে পুলিশ ও র‌্যাবসহ আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা গাজীপুরসহ বিভিন্নস্থানে অভিযান চালাচ্ছে। কিন্তু শনিবার সন্ধ্যা পর্যন্ত তার হদিস পাওয়া যায়নি।




তদন্ত কমিটি শনিবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে কাশিমপুরের এ কারাগারে আসেন। তারা দিনভর কারাগার এলাকা পরিদর্শন করেন এবং কারাগারের সিসিটিভি ফুটেজ পর্যবেক্ষণ করেন। এসময়ে তারা কারা কর্মকর্তা, রক্ষী ও বন্দিসহ বিভিন্নজনের সঙ্গে কথা বলেন।

অতিরিক্ত কারা মহাপরিদর্শক কর্নেল আবরার হোসেন তদন্ত কমিটির প্রধান। তিন সদস্যের এ কমিটির অন্যরা হলেন, ঢাকা রেঞ্জের ডিআইজি (প্রিজন্স) তৌহিদুর রহমান ও মানিকগঞ্জ কারাগারের জেলার বিকাশ রায়হান। তদন্ত শেষে এ কমিটিকে তিন কার্য দিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিল করতে বলা হয়েছে।
তদন্ত কমিটির প্রধান অতিরিক্ত কারা মহাপরিদর্শক কর্নেল আবরার হোসেন সাংবাদিকদের বলেন, ‘তদন্তের কার্যক্রম এগিয়ে চলছে। কারাগার থেকে কয়েদি কীভাবে পালিয়ে গেছে। ঘটনার সঙ্গে কারা জড়িত, কারা দায়ী-আমরা সে বিষয়ে খোঁজ নিচ্ছি ও তদন্ত করছি। আমরা তদন্তের প্রাথমিক কার্যক্রম সম্পন্ন করেছি। অল্প সময়ের মধ্যেই বাকি কার্যক্রম সম্পন্ন করা সম্ভব হবে। তদন্ত কার্যক্রম শেষ হলেই সবকিছু জানা যাবে। তাই তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত এ বিষয়ে এ মুহূর্তে কোনও তথ্য জানানো সম্ভব হচ্ছে না।’

তিনি আরও বলেন, নতুন করে কারও বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। এ ব্যাপারে তদন্ত কমিটি সুপারিশ করবে। তিনি বিকালে গাজীপুরে কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগারের গেটে এসব কথা বলেন।


এ বিষয়ে গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের উপ-কমিশনার (ক্রাইম) শরিফুর রহমান, কোনাবাড়ি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এমদাদ হোসেন ও মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা পরিদর্শক (তদন্ত) মিজানুর রহমান ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন এবং খোঁজ খবর নেন।
কারা মহাপরিদর্শক (আইজি প্রিজন্স) ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এ কে এম মোস্তফা কামাল পাশা বলেছেন, যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত ওই কয়েদি কারাগারের ভেতরে নেই। তাকে খোঁজা হচ্ছে।
তিনি জানান, কয়েদি পালানোর ঘটনায় ইতোমধ্যে ১২ জনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এদের মধ্যে প্রধান কারা রক্ষী ও সহকারী কারা রক্ষীসহ ৫ জনের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা করা হয়েছে।


আরও পড়ুন:

কারাগার থেকে আসামি পালানোর ঘটনায় ১২ কর্মকর্তা বরখাস্ত

/এসটি/

লাইভ

টপ