যুবলীগ নেতাকে মারধরের ঘটনায় দুর্গাপুরের ওসি প্রত্যাহার

Send
নেত্রকোনা প্রতিনিধি
প্রকাশিত : ১৯:২৭, আগস্ট ১১, ২০২০ | সর্বশেষ আপডেট : ২১:০২, আগস্ট ১১, ২০২০

একজন যুবলীগ নেতাকে থানায় এনে মারধর করার অভিযোগে নেত্রকোনার দুর্গাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মিজানুর রহমানকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) দুপুরে তাকে পুলিশ লাইন্সে সংযুক্ত করা হয়। তার স্থলে জেলা গোয়েন্দা বিভাগের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহ নুর এ আলমকে দায়িত্ব হস্তান্তর করা হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন নেত্রকোনা পুলিশ সুপার আকবর আলী মুন্সি।
এছাড়াও ঘটনার অধিকতর তদন্তের জন্য ময়মনসিংহ রেঞ্জ অফিস থেকে অতিরিক্ত উপ-পুলিশ মহাপরিদর্শককে প্রধান করে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটিও গঠন করা হয়। কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন- রেঞ্জ অফিসের পুলিশ সুপার ফারুক, নেত্রকোনা জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আল আমিন হোসাইন।

এর আগে, ওসি মিজানের বিরুদ্ধে সোমবার রাতে এক যুবলীগ নেতা আলম তালুকদার (৩২)-কে থানার এনে বেধরক মারধরের অভিযোগ ওঠে। আহত ওই যুবলীগ নেতা বর্তমানে ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নিচ্ছেন। তিনি দুর্গাপুরের বাকলজোড়া ইউনিয়ন যুবলীগের কার্যকরী কমিটির সদস্য ও বাকলজোড়া এলাকার মৃত আলাল তালুকদারের ছেলে।

স্থানীয় বাসিন্দা ও জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, সোমবার সন্ধ্যায় আলম তালুকদার পৌর শহরের এমপির মোড় এলাকায় সড়কের পাশে অবস্থান করছিলেন। এসময় মো. আব্দুল কাইয়ুম (২৫) নামে স্থানীয় এক ছাত্রদলকর্মীসহ তিন জন একটি মোটর সাইকেলে করে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে যাচ্ছিলেন। কাইয়ুম উপজেলার মেলাডহর গ্রামের নুরুল ইসলামের ছেলে। বিষয়টি দেখে আলম তালুকদার কাইয়ুমকে মোটর সাইকেল থামাতে বলেন। কিন্তু কাইয়ুম চলে যেতে চাইলে আলম তালুকদার ও তার সঙ্গে থাকা কয়েকজন দৌড়ে গিয়ে কাচারি মোড় এলাকায় কাইয়ুমকে আটক করে। এসময় কাইয়ুমের সঙ্গে থাকা দুই সহযোগী দৌড়ে পালিয়ে যান। পরে আলম তালুকদার কাইয়ুমকে আটক করলে দুজনের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়। এক পর্যায়ে আলম পাশের একটি ঘরে নিয়ে কাইয়ুমকে জিজ্ঞাসাবাদসহ মারধর করেন। একই সঙ্গে পুলিশে খবর দেন। পরে পুলিশ এসে আলম ও কাইয়ুমকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়। সেখানে কাইয়ুম আলমের বিরুদ্ধে অপহরণের অভিযোগ আনেন। এসময় থানার ওসি মিজানুর রহমান আলম তালুকদারকে থানায় বেধরক মারধর করেন। এতে আলম গুরুতর আহত হলে তাকে পুলিশ ও স্বজনরা দুর্গাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য রাত ১০টার দিকে তাকে ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসাপাতালে নিয়ে ভর্তি করা হয়। এই ঘটনার পর মঙ্গলবার সকালে নেত্রকোনা পুলিশ সুপার মো. আকবর আলী মুন্সী, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) মুহাম্মদ ফকরুজ্জামান জুয়েল, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (হেডকোয়ার্টার) মো. আল আমিন হোসাইন ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। পরে দুপুরের পর ওসি মিজানকে দুর্গাপুর থানা থেকে প্রত্যাহার করা হয়।

এ ব্যপারে কথা বলতে ওসি মিজানুর রহমানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি ফোন ধরেননি।

পুলিশ সুপার মো. আকবর আলী মুন্সী ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, 'আমি সকালে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। ওসি মিজানের কিছু কার্যক্রম প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে। একজন পুলিশ কর্মকর্তার যে ধরণের আচরণ প্রয়োজন, মিজান তা করেননি। মিজানকে থানা থেকে সরিয়ে পুলিশ লাইন্সে যুক্ত করা হয়েছে।'

অপর প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, 'এ বিষয়ে আরও অধিকতর তদন্তের জন্য ময়মনসিংহ রেঞ্জের পক্ষ থেকে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।'

 

 

/এএইচ/

লাইভ

টপ