ক্রেতা নেই কুমিল্লায় পেঁয়াজের পাইকারি বাজারে

Send
মাসুদ আলম, কুমিল্লা
প্রকাশিত : ২০:১২, সেপ্টেম্বর ২২, ২০২০ | সর্বশেষ আপডেট : ২০:২৫, সেপ্টেম্বর ২২, ২০২০

কুমিল্লায় পেঁয়াজের পাইকারি বাজারে জেলা প্রশাসনের ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান

‘ভারতের পেঁয়াজ রফতানি বন্ধ’ খবর পাওয়া মাত্রই কুমিল্লার যে আড়তদার-পাইকাররা পেঁয়াজের ঝাঁজ বাড়িয়েছিলেন, সেই ঝাঁজে আজ নিজেরাই কাঁদছেন। অতি মুনাফার লোভে পেঁয়াজের দাম বাড়িয়ে বিক্রি করে, বেশি দরে আরও পেঁয়াজের চালান এনে এখন আর সেগুলো বেচতে পারছেন না। কারণ, খুচরা দোকানি ও সাধারণ ক্রেতা, সবাই দাম আরও বাড়বে আশঙ্কায় হুড়োহুড়ি করে পেঁয়াজ কিনে স্টক করেন। পাশাপাশি কুমিল্লার প্রশাসনও পেঁয়াজ-বাজারে শুরু করেন কড়া মনিটরিং। এতে করে, অতি লোভী আড়তদার-পাইকাররা এখন ক্রয়মূল্যের চেয়ে দাম কমিয়ে দিয়েও পেঁয়াজের ক্রেতা পাচ্ছেন না। তাদের পেঁয়াজ গুদামেই পচতে শুরু করেছে।

অতি মুনাফার লোভে অতিরিক্ত পেঁয়াজ আমদানি করে গুদামজাত করা আড়ত ও পাইকারি ব্যবসায়ীদের ওই সিদ্ধান্ত ভুল ছিল। ৭৫ কিংবা ৮০ টাকার বাজার ধরতে ৬০ টাকা কেজিতে শত শত বস্তা অতিরিক্ত পেঁয়াজ কিনে গুদামজাত করেন কুমিল্লা চকবাজার তেরীপট্টিসহ জেলার আড়ত ও পাইকারি ব্যবসায়ীরা। কিন্তু কুমিল্লা জেলা প্রশাসনের মনিটরিং ও নজরদারিতে সেই দাম হাঁকিয়ে বিক্রি শুরু করতে পারেননি ওই ব্যবসায়ী সিন্ডিকেট।

সোমবার চকবাজার তেরীপট্টিতে ঘুরে দেখা যায়, বাজার ক্রেতা শূন্য। আড়ত ভর্তি পেঁয়াজ। কোথাও কোনও সংকট নেই। কয়েকজন মিলে গল্প করছেন। শ্রমিকরা কানে হেডফোন লাগিয়ে মোবাইল ফোনে গান শুনছেন। আবার কেউ বসে বসে দিন পার করছেন। কিন্তু, অন্যদিনগুলোতে এই সময়টি কেটেছে তাদের ব্যস্ততায়। মাথার ঘাম ঝরতো পা পর্যন্ত।

মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) তথ্য সংগ্রহের জন্য আড়তে প্রবেশ করলেই ব্যবসায়ী ও শ্রমিকরা জানতে চান কয় বস্তা লাগবে। লোকসানে ছেড়ে দেবেন। এদিকে (২০ সেপ্টেম্বর) আবারও ভারত পেঁয়াজ রফতানি শুরু করেছে, এমন তথ্যে কুমিল্লার ব্যবসায়ীদের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। সেই আতঙ্কের চাপ বাজারে প্রবেশ করলেই অনুভূত হয়।

হাজী ফয়েজ স্টোর, গ্রামীণ বাণিজ্যালয় ও শাহ পরান ট্রেডার্স নামে তেরীপট্টির কয়েকজন আড়তদার জানান, ভারত পেঁয়াজ রফতানি বন্ধের পর এই পর্যন্ত একটাই চালান আমদানি হয়েছে। বস্তায় সে পেঁয়াজ কেজিতে ৬০ টাকা পড়েছে। এছাড়া পরিবহন, লোড-আনলোডসহ অন্যান্য খরচ হিসাব করলে খুচরায় কেজি পড়বে ৬৫ টাকা। তবে আমদানির পর এক/দুই দিন কিছুটা বিক্রি হলেও গত দুই/তিন দিন পাইকারি বিক্রি নেই বললেই চলে।

তারা আরও জানান, গুদাম ও দোকানে স্টকে থেকে পেঁয়াজ পচে যাচ্ছে। বড় ধরনের ক্ষতি থেকে বাঁচতে লোকসানে পেঁয়াজ বিক্রি করছেন। তারপরও বাজারে ক্রেতা নেই।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, পেঁয়াজের বাজারে সিন্ডিকেটের কারসাজির কারণে ছোট ও মাঝারি আকারের অনেক খুচরা ব্যবসায়ী পেঁয়াজ বিক্রি ছেড়ে দিয়েছেন। দাম স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত তারা পেঁয়াজ বিক্রি করছেন না।

মামা-ভাগিনা স্টোরের পাইকারি ব্যবসায়ী জহিরুল ইসলাম অনিক দাবি করেন, গত দুইদিন কোনও পেঁয়াজ বিক্রি করতে পারিনি। বাজারে ক্রেতা নেই। দোকানে থাকা পেঁয়াজে ঘাটতি তৈরি হচ্ছে। অধিকাংশ বস্তায় পেঁয়াজে পচন ধরেছে। খরচ বাদে খুচরা ৬০ টাকা কেজিতে পেঁয়াজ ক্রয় করে এখন ৫০-৫৫ টাকায় বিক্রি করতে হচ্ছে বড় লোকাসানের আশঙ্কায়।

এদিকে নগরীর মগবাড়ি চৌমহনী থেকে আশা আরিফ নামে এক খুচরা ব্যবসায়ী জানান, পাইকারি মূল্যে ব্যবসায়ীরা তিন/চার দিন আগে যে পেঁয়াজের দাম বলেছেন কেজিতে ৭০-৭৫ টাকা সেই পেঁয়াজ আজ বলছে ৪৮-৫০ টাকা। কিন্তু, পেঁয়াজগুলো দেখতে গুণগতমানের না। খুচরা বাজারে বিক্রি করতে কষ্ট হবে।

এদিকে সোমবার কুমিল্লায় পেঁয়াজের বাজার নিয়ন্ত্রণ এবং অস্থিরতা সৃষ্টিকারী ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে অভিযান চালিয়েছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। কুমিল্লার চকবাজার তেরীপট্টিতে এই অভিযান পরিচালনা করেন কুমিল্লা জেলা প্রশাসকের সহকারী কমিশনার শামীম আরা।

তিনি জানান, অস্থিতিশীল করে তোলা পেঁয়াজের বাজার নিয়ন্ত্রণে কুমিল্লা জেলা প্রশাসন নিয়মিত মনিটরিং করছে। আড়ত, পাইকারি ও খুচরা বাজারে অভিযান চলমান রয়েছে। বর্তমানে পেঁয়াজের বাজার স্থিতিশীল রয়েছে।

/টিএন/

লাইভ

টপ
X