মিন্নির পরিকল্পনায়ই হত্যাকাণ্ড: বিচারক

Send
বরগুনা সংবাদদাতা
প্রকাশিত : ২১:১০, সেপ্টেম্বর ৩০, ২০২০ | সর্বশেষ আপডেট : ২৩:১২, সেপ্টেম্বর ৩০, ২০২০

ফাইল ছবিবরগুনার আলোচিত রিফাত শরীফ হত্যা মামলার রায়ের পর্যবেক্ষণে বিচারক বলেছেন, ‘রিফাতের স্ত্রী আয়শা সিদ্দিকা মিন্নির পরিকল্পনায়ই এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।’ বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) দুপুরে এই মামলার রায় ঘোষণা করা হয়। রায়ে মিন্নিসহ ছয় আসামির মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়।

বরগুনার জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক মো. আছাদুজ্জামান রায়ের পর্যবেক্ষণে বলেন, ‘পাঁচ জনের সহযোগী হিসেবে রিফাত শরীফ হত্যায় অংশ নেন মিন্নি। তারা ছয় জন রিফাত শরীফের মৃত্যু নিশ্চিত করেছেন। এজন্য কলেজ গেটের সামনে সময়ক্ষেপণ করেন মিন্নি। রিফাতকে যখন মারার জন্য আসামিরা নিয়ে যাচ্ছিল, তখন স্বাভাবিক ছিলেন মিন্নি। এতেই প্রমাণিত হয় মিন্নি হত্যা ষড়যন্ত্রে লিপ্ত ছিল। তারই পরিকল্পনায় এই হত্যাকাণ্ড ঘটেছে। এজন্য তাকেও ফাঁসি দেওয়া হয়েছে।’

যুবকদের সচেতন করতেই এই রায় জানিয়ে বিচারক বলেন, ‘রিফাত শরীফ হত্যা মামলার আসামিদের নির্মম বর্বরতা ও নির্মমতা মধ্যযুগীয় কায়দাকেও হার মানিয়েছে। এদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি না দিলে তাদের অনুসরণ করে অন্য যুবকরাও ধ্বংসের পথে যাবে। এসব আসামি সর্বোচ্চ শাস্তি পাওয়ার যোগ্য।’

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী মজিবুল হক কিসলু বলেন, ‘শুরু থেকেই বলেছিলাম মিন্নির ষড়যন্ত্রের কারণে রিফাত হত্যাকাণ্ড ঘটেছে। আদালতে রায়ের পর্যবেক্ষণেও তা-ই উঠে এসেছে। রিফাত শরীফকে হত্যার পরিকল্পনা করেছেন মিন্নি। একই সঙ্গে আসামিদের পরামর্শ ও দিকনির্দেশনাও দিয়েছেন তিনি। এজন্য মিন্নিকে ফাঁসি দিয়েছেন আদালত।’

তিনি আরও বলেন, ‘মামলার দুই নম্বর আসামি রিফাত ফরাজি, তিন নম্বর আসামি রিশান ফরাজি, ছয় নম্বর আসামি রাব্বি আকন এবং ১২ নম্বর আসামি টিকটক হৃদয় হত্যাকাণ্ডে মিন্নির সম্পৃক্ততার বিষয়টি স্বীকার করে আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। এছাড়া মিন্নি নিজেও রিফাত হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন।’

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীরা আদালতে জানান, নয়ন বন্ডের সঙ্গে মিন্নির বিয়ে হয়েছিল। সেই বিয়ে বলবৎ থাকার পাশাপাশি বিয়ের তথ্য গোপন করে ধর্মীয় এবং দেশের প্রচলিত আইন লঙ্ঘন করে মিন্নি রিফাত শরীফকে বিয়ে করে। এর প্রমাণ আদালতে উপস্থাপন করা হয়। এছাড়া হত্যাকাণ্ডের আগের দিন নয়ন বন্ডের বাসায় গিয়ে রিফাতকে হত্যার পরিকল্পনা করেন মিন্নি।

আদালতে হত্যাকাণ্ডের আগে ও পরে মিন্নির সঙ্গে হত্যাকারীদের মোবাইল ফোনে কথোপকথনের তালিকার পাশাপাশি মেসেজ আদান-প্রদানের তথ্য তুলে ধরা হয়। আদালতকে হত্যাকাণ্ডের দিন সিসি ক্যামেরার ভিডিও ফুটেজ দেখান আইনজীবীরা।

রিফাত হত্যা মামলায় তার স্ত্রী আয়শা সিদ্দিকা ওরফে মিন্নিসহ ছয় জনের ফাঁসির আদেশ দেওয়া হয়েছে। এ মামলার ১০ আসামির বাকি চার আসামিকে খালাস দেওয়া হয়েছে। ফাঁসির রায়প্রাপ্ত বাকি পাঁচ আসামি হলো: মোহাইমিনুল ইসলাম ওরফে সিফাত (১৯), রাকিবুল হাসান রিফাত ফরাজি (২৩), রাব্বি আঁকন (২১), রেজওয়ান আলী খান হৃদয় (২২) ও মো. হাসান (১৯)। মামলায় খালাস পেয়েছে মো. সাগর, কামরুল ইসলাম সাইমুন, মো. মুসা ও রাফিউল ইসলাম। মামলার চার্জশিটভুক্ত প্রাপ্তবয়স্ক আসামি মো. মুসা এখনও পলাতক রয়েছে।

প্রসঙ্গত, ২০১৯ সালের ২৬ জুন বরগুনা সরকারি কলেজের সামনে নয়ন বন্ড ও তার সহযোগী সন্ত্রাসীরা প্রকাশ্যে রামদা দিয়ে কুপিয়ে রিফাত শরীফকে গুরুতর আহত করে। পরে রিফাত বরিশাল শের-ই বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ওইদিনই মৃত্যুবরণ করেন।

আরও পড়ুন: 

রিফাত হত্যা মামলার আদ্যোপান্ত

রিফাত হত্যায় স্ত্রী মিন্নিসহ ৬ জনের ফাঁসির রায়

/এনএস/এমওএফ/

লাইভ

টপ
X