হয়রানির অভিযোগে দাগনভূঞা থানার ওসিকে প্রত্যাহার

Send
ফেনী প্রতিনিধি
প্রকাশিত : ০৮:০১, অক্টোবর ২২, ২০২০ | সর্বশেষ আপডেট : ১১:৪৮, অক্টোবর ২২, ২০২০

৩ব্যবসায়ীসহ বিভিন্ন ব্যক্তিকে হয়রানির অভিযোগে ফেনীর দাগনভূঞা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আসলাম সিকদারকে প্রত্যাহার করা হয়েছে| বুধবার (২১ অক্টোবর) রাতে চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি মো. আনোয়ার হোসেনের এক আদেশে তাকে প্রত্যাহার করা হয়| সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার (সোনাগাজী-দাগনভূঞা সার্কেল) মো. সাইফুল আহম্মদ ভূঁইয়া বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ওসি আসলাম সিকদার অত্র থানায় যোগাদানের পর জেলার দাগনভূঞার অসংখ্য ব্যক্তিকে মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানিসহ মামলার ভয়ভীতি ও নিরিহ ব্যক্তিকে থানায় আটকিয়ে রেখে হয়রানির অভিযোগ আসে পুলিশ সদর দফতরসহ চট্টগ্রাম রেঞ্জ অফিসে। তার বিরুদ্ধে এই দফতরে আদালতের স্থিতি অবস্থা বজায় রাখার আদেশ অমান্য করে টাকার বিনিময়ে একের জমি অন্যকে দখল করে দিতে সহয়তার অভিযোগ করেন কয়েক ব্যাক্তি।

দাগনভূঞার থানার বাসিন্দা, চট্টগ্রামের আগ্রাবাদের যমুনা ট্রেডিং নামের একটি প্রতিষ্ঠানের মালিক রফিকুল ইসলাম বাংলা ট্রিবিউনকে জানান, আসলাম সিকদার তার কাছে বিভিন্ন অজুহাতে অর্থ চেয়ে না পেয়ে তাকে মিথ্যা মামলায় আসামি করে হয়রানি করেছেন। এই ব্যাপারে তিনি চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআিইজিসহ পুলিশ সদর দফতেরে লিখিত অভিযোগ করেছেন। সুবিচার পাওয়ার আশায় অপেক্ষার প্রহর গুনছেন।

উপজেলার দেবরামপুর গ্রামের প্রবাসী আব্দুল মোমিন পুত্র আব্দুল আওয়াল বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ৫ বছর পূর্বে তার পিতা প্রবাস থেকে পাঠানো টাকায় উপজেলা সদরের বাড়ি করার জন্য ৬ শতক জমি ক্রয় করেন। উক্ত জমি মাটি ভরাট করে তারা বাউন্ডারি ওয়াল নির্মাণ করে রাখেন। এমতবস্থায় চলতি মাসে ওসি আসলাম সিকদারের সহায়তা নিয়ে স্থানীয় ভূমি দস্যু খ্যাত ফারুক আহমেদ সুমন উক্ত ভূমি জবর দখল করে ঘর নির্মাণ করার চেষ্টা করে। এই ব্যাপারে নিরুপায় হয়ে তিনি আদালতে মামলা দায়ের করেন। আদালত উক্ত ভূমি স্থিতি অবস্থা বজায় রাখার জন্য ওসিকে নির্দেশ দেন। কিন্তু আদালতের আদেশ অমান্য করে ওসি পুলিশ প্রহরা বসিয়ে তার মালিকীয় ভূমিতে ফারুক আহমেদ সুমনকে স্থাপনা নির্মাণ কাজে সহায়তা করে আসছে। এই ব্যাপারে পুলিশ সদর দফতর ও জেলা পুলিশ সুপারের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়ে প্রতিকার প্রার্থনা করেছেন বলেও তিনি জানিয়েছেন।

অন্যদিকে করিমুল হক নামের স্থানীয় ব্যবসায়ীর মালিকীয় উপজেলা সদরের ভূমিও একই কায়দায় ওসি দাগনভূঞা বাজার ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক জসিম উদ্দিন লিটনকে জবর দখল করে নিতে সহায়তা করেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। ভুক্তভোগীর মনোনীত প্রতিনিধি সাইফুল ইসলাম সোহেল এমন অভিযোগ করে বলেন, উক্ত জমি স্থিতি অবস্থায় বজায় রাখতে ওসির প্রতি আদালতের নির্দেশ থাকার পরও তিনি দিনে বেলায় উপস্থিত থেকে পুলিশ দিয়ে উক্ত জমি দখল করে নিতে ব্যবসায়ী লিটনকে সহয়তা করেন। এমন অন্যায়ের প্রতিবাদ করায় ওসি তাকে মিথ্যা মামলা জড়িয়ে দিয়ে হয়রানি করেছে।

ফেনী শহরের নাজির রোড় এলাকার বাসিন্দা ইতালি প্রাবসী মো. সেলিম অভিযোগ করেন, গত মার্চে এক বন্ধুকে নিয়ে শহর থেকে দাগনভূঞা উপজেলা সদরে যাওয়ার পথে তার মটরসাইকেল থানায় নিয়ে যায় মানিক নামের এক এএসআই। পরে তাদেরকে ওসির সামনে হাজির করে। ওসি তার ফোন সেটটি রেখে দিতে বলেন। এতে সে প্রতিবাদ করায় তাকে থানা হাজতে আটক করে রাখে। পরে ওই এএসআই তার স্ত্রীকে ফোন করে থানায় এনে অভিযোগ করে সেও তার সঙ্গীর কাছে ইয়াবা পাওয়া গেছে। এক লাখ টাকা দিলে ছেড়ে দেবে। না হয় ওসির নির্দেশ রয়েছে মাদক মামলা দিয়ে কোটে চালান দিতে। পরে নিরুপায় হয়ে ওই এএসআইয়ের পরামর্শে তার স্ত্রী ওসিকে ৫০ হাজার টাকা দিয়ে তাদেরকে থানা হাজত থেকে ছাড়িয়ে আনেন।

তিনি আরও অভিযোগ করেন, একই দিন থানা হাজাতে আরও ছয় ব্যক্তিকে মাদকের অভিযোগে আটক করা হয় । তাদের কাছ থেকেও নানা অংকে টাকা আদায় করে ছেড়ে দেওয়া হয় ।

সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার (সোনাগাজী-দাগনভূঁইয়া সার্কেল) মো. সাইফুল আহম্মদ ভূঁইয়া বলেন, ওসি আসলাম উদ্দিনের বিরুদ্ধে এই অভিযোগগুলো তদন্ত করেছে চট্টগ্রাম রেঞ্জ পুলিশের একজন এডিশনাল আইজি। তদন্তের পরে জানা যাবে এসব অভিযোগ কতটা সত্য কি মিথ্যা। 

/আরআইজে/

লাইভ

টপ