শিশুরা রাস্তায় দাঁড়িয়ে কেন?

Send
আদিত্য রিমন
প্রকাশিত : ২০:২৩, অক্টোবর ৩০, ২০২০ | সর্বশেষ আপডেট : ০৯:১২, অক্টোবর ৩১, ২০২০

রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনের রাস্তার মধ্যে একাংশে দুর্ঘটনার ঝুঁকি নিয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড়িয়ে বেশ কিছু শিশু-কিশোর। আর রাস্তার আরেক অংশ দিয়ে ধুলা-বালি উড়িয়ে চলছে বিভিন্ন ভারী যানবাহন। সেই ধুলাবালি এসে লাগছে শিশুদের নাকে-মুখে। শুধু তাই নয়, এসব শিশু-কিশোরদের মুখে নেই করোনাভাইরাস প্রতিরোধের মাস্ক কিংবা ব্যক্তিগত সুরক্ষাসামগ্রী। কিন্তু কেন তারা রাস্তায় দাঁড়িয়ে আছে তাও জানে না। অভিভাবক ও সংগঠনের নেতারা বলেছেন বলেই দুপুরের প্রখর রোদের মধ্যে কষ্ট করে দাঁড়িয়ে আছেন তারা।

শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) সকাল ১০টা থেকে বেলা সাড়ে ১২টা পর্যন্ত প্রেসক্লাবের সামনে রাস্তায় হাতে ব্যানার ও গলায় প্ল্যাকার্ড নিয়ে শিশু-কিশোররা দাঁড়িয়ে থাকার দৃশ্য এটি। আর তাদের পাশে উচ্চস্বরে বাজছে বিভিন্ন ইসলামিক গজল।

সরেজমিন দেখা যায়, ফ্রান্সে ইসলামের শেষ নবী হজরত মোহাম্মদ (সা.) ‘ব্যঙ্গচিত্র’ প্রদর্শনের প্রতিবাদে এবং পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী উপলক্ষে সকাল ১০টায় জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনের রাস্তার মধ্যে সংগীতের মাধ্যমে শিশু-কিশোরদের নিয়ে প্রতিবাদের আয়োজন করে কলরব নামের একটি সাংস্কৃতিক সংগঠন। সেখানে ২ থেকে ১০ বছরের মধ্যকার অনেক শিশু অংশ নেয়। দুপুরের প্রখর রোদে তারা উভয়ে হাতে 'আমরা মুহাম্মদ (সা.) কে ভালোবাসি' ব্যানারের সামনে এবং গলায় বিভিন্ন লেখা সংবলিত প্ল্যাকার্ড নিয়ে দাঁড়িয়ে ছিল। আর শিক্ষক ও অভিভাবকরা পেছনে ছায়ায় দাঁড়িয়ে ছিলেন।

প্রতিবাদ মানববন্ধনে অংশ নেয় মাস্টারমাইন্ড স্কুলের শিশু শিক্ষার্থী আবিয়াজ। তার গলার ঝোলানো প্ল্যাকার্ডে লেখা 'আমাদের ভালোবাসা হজরত মোহাম্মদ (সা.)'।

কার সঙ্গে এখানে এসেছে জানতে চাইলে আবিয়াজ ভাঙা ভাঙা গলায় বলেন, 'নানু (সুলতানা) সঙ্গে এসেছেন। নানু এখানে দাঁড় করিয়ে রেখেছেন।'

দাঁড়িয়ে থাকতে কষ্ট হচ্ছে কিনা জানতে চাইলে আবিয়াজ বলেন, 'সকাল থেকে দাঁড়িয়ে আছি। কষ্ট হচ্ছে।' গলায় ঝুলানো ব্যানারে কী লেখা আছে সেটাও সে জানে না বলে জানিয়েছে।

তার মতো রোদের মধ্যে দাঁড়িয়ে ছিলেন শিশু ওয়াসবিয়া বিন জুহি। তার গলায় ঝুলানো প্ল্যাকার্ড লেখা ছিল 'রাসুলের অবমাননা আমরা কেউ সইবো না'। জুহি জানান, বাবা জহিরুল ইসলাম এখানে নিয়ে এসেছেন। সে কলরবে গজল শেখেন। স্কুলের নাম বলতে না পারলেও জানায় নার্সারিতে পড়ে।

শুধু এই দুজন নয়, প্রতিবাদে অংশ নেওয়া প্রতিটি শিশুর গলায় হজরত মোহাম্মদ (সা.) নিয়ে লেখা বিভিন্ন প্ল্যাকার্ড ঝুলছিল। প্রতিবাদ মানববন্ধনের পেছনে দাঁড়িয়ে ছিলেন এসব শিশুদের অভিভাবকরা। সেখানে কথা হয় অভিভাবক মমতাজ বেগম লালভীর সঙ্গে। তিনি বলেন, 'যেসব শিশু-কিশোররা কলরবে গজল শেখেন, তাদের আজ মানববন্ধনে অংশ নিতে বলা হয়েছে। সেই কারণে তারা শিশুদের এখানে নিয়ে এসেছেন।'

তাদের এখানে আসতে কী প্রতিষ্ঠানের পক্ষে থেকে বাধ্য করা হয়েছে কিনা লাভলীর কাছে জানতে চাইলে তিনি কিছু বলার আগেই সেখানে উপস্থিত হন কলরবের পরিচালক রশিদ আহমদ। তখন রশিদ আহমদ বলেন, 'আমাদের ভুল হয়েছে শিশুদের এখানে নিয়ে আসা এবং দাঁড়িয়ে রাখা। নবীর প্রতি ভালোবাসা থেকে আমরা এখানে এই ব্যতিক্রমী প্রতিবাদের আয়োজন করেছি।'

রোদ এবং ধুলাবালি এবং সড়ক দুর্ঘটনার ঝুঁকি নিয়ে কেন রাস্তার মধ্যে এই মানববন্ধন জানতে চাইলে রশিদ আহমদ বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, 'আসলে আমাদের ভুল হয়েছে। আশা করি সামনে আর এমন হবে না।'

করোনার মধ্যে শিশুদের মুখে মাস্ক নাই কেন জানতে চাইলে অভিভাবক ও কলরবের পক্ষ থেকে কেউ মন্তব্য করতে রাজি হননি।

/এএইচআর/এএইচ/এমওএফ/

সম্পর্কিত

লাইভ

টপ