৪শ’ লিটার পেট্রোল ফাও না দেওয়ায়...

Send
নাটোর প্রতিনিধি
প্রকাশিত : ০৩:৩১, নভেম্বর ০১, ২০২০ | সর্বশেষ আপডেট : ০৩:৩২, নভেম্বর ০১, ২০২০

নাটোর

বিশাল রাজনৈতিক শোভাযাত্রা করার খায়েশে শতাধিক মোটর সাইকেল ও অন্যান্য যানবাহন নিয়ে গণসংযোগ করতে চেয়েছিলেন তিনি। এজন্য তার অনুসারীদের যানবাহনগুলোতে  প্রায় ৪শ’ লিটার তেল দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিলেন। কিন্তু, পেট্রোল পাম্প কর্তৃপক্ষ অতীতের অভিজ্ঞতায় এ টাকা মার যেতে পারে ধারণা করে তেলের মূল্য আগাম চেয়ে বসে। এটাকেই অপরাধ হিসেবে তুলে ধরে তুমুল তর্কে নামেন নেতা এবং ওই পাম্পের কন্ট্রোল রুমের চাবি কেড়ে নিয়ে চলে যান। বিষয়টি পরে প্রশাসনের ও দলীয় ঊর্ধ্বতন নেতাদের জানানো হলে দুপুরে চাবি ফিরিয়ে দিয়ে যান ওই নেতা। তার নাম রোকনুজ্জামান লুলু।  নাটোরের লালপুর উপজেলা স্বেচ্ছাসেবকলীগের সাবেক আহ্বায়ক ও বর্তমানে সরকারদলীয় ঠিকাদার এই নেতা আগে ছিলেন উপজেলা ছাত্রলীগের যুগ্ম সম্পাদক।

শনিবার সকালে লালপুর উপজেলার গোাপালপুর এলাকায় সততা ফিলিং স্টেশনে এই ঘটনা ঘটে।

তার কাছে সম্ভাব্য তেল বিক্রির টাকা আগাম চাওয়ায় ওই ফিলিং স্টেশন তেলের মাপ কম দিচ্ছে এমন অভিযোগ তোলেন লুলু। এসময় ভ্রাম্যমাণ আদালত এনে প্রতিষ্ঠানটি সিলগালা করিয়ে দেওয়ার হুমকি  দেন তিনি। তবে তার অভিযোগ গায়ে না মেখে ভ্রাম্যমাণ আদালত ডাকার জন্য পাম্প কর্তৃপক্ষ বললে আর কিছু করতে না পেরে কন্ট্রোল রুমের চাবি জোর রে নিয়ে যান লুলু। দুপুরে ওই চাবি ফেরত দেওয়ার আগে কয়েক ঘণ্টায় ৫০ হাজার টাকার তেল বিক্রির সম্ভাবনা নষ্ট হয় যায় বলে অভিযোগ করেছেন পাম্প কর্তৃপক্ষ।

তবে অভিযোগ অস্বীকার করে ওই ঠিকাদার লুলা জানান, তেল মাপের চেয়ে কম দিচ্ছে আবার তেলের মানও খারাপ। এ কথা জেনে তিনি ওই জায়গায় গিয়েছিলেন মাত্র।

সততা ফিলিং স্টেশনের অর্থ পরিচালক ফরহাদুজ্জামান জানান, এর আগেও  বিভিন্ন সময় স্থানীয় এই রাজনৈতিক নেতাসহ অন্য অনেকেই গণসংযোগের সময় শোভাযাত্রার গাড়িবহরের জন্য তেল নিয়ে টাকা পরিশোধ করে নাই। শনিবার সকালে ওই ঠিকাদার তার প্রায় ১শ’ মোটরসাইকেল ও অন্য যানে তেল দিতে বলে যার পরিমাণ প্রায় ৪শ’ লিটার। অতীতের অভিজ্ঞতার কারণে এসময় তারা তেল দেওয়ার আগে টাকা পরিশোধ করতে বলে। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে লুলু তাদের কন্ট্রোলরুমের চাবি নিয়ে নেয়। এরপর লুলু তাকে হুমকি দেয় যে,প্রশাসন দিয়ে তার ওই ফিলিং স্টেশনে ভ্রাম্যমাণ আদালত করে সিলগালা করে দেবে।

বিষয়টি তিনি তার ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানোর পর প্রায় ১২ টার দিকে লুলু চাবি দিয়ে চলে যায়। অথচ এই সময়ে তারা ৫০-৬০ টা গাড়িতে প্রায় ৫০ হাজার টাকার তেল বিক্রি করতে পারতেন।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে অভিযুক্ত ঠিকাদার ও সরকারদলীয় নেতা রোকনুজ্জামান লুলু অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, কিছু লোক তার কাছে জানিয়েছে যে ওই ফিলিং স্টেশনে তেল মাপের চেয়ে কম দিচ্ছে আবার তেলের মানও খারাপ। ওটা যাচাইয়ের জন্যই তিনি গিয়েছিলেন। এর বাইরে কিছু হয়নি।

বিষয়টি সম্পর্কে জানতে চাইলে পাম্পটির পরিচালনা পর্ষদের সদস্য অমল কুমার ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, ওই ঘটনায় কিছু সময়ের জন্য তেল বিক্রি বন্ধ ছিল। তবে বিষয়টি মীমাংসা হয়ে গেছে।

 

/টিএন/

লাইভ

টপ