দেশ-বিদেশের সাড়া পেয়ে উজ্জীবিত ‘১০ টাকার ডাক্তার’ ডা. এবাদুল্লাহ

Send
মো. আসাদুজ্জামান, সাতক্ষীরা
প্রকাশিত : ১৫:১৭, এপ্রিল ০১, ২০১৬ | সর্বশেষ আপডেট : ১৫:২০, এপ্রিল ০১, ২০১৬

ডা. এবাদুল্লাহগরিবের ভরসা সেই ‘১০ টাকার ডাক্তার’ এবাদুল্লাহ এবার সাড়া পেলেন বিদেশি বন্ধুদের। বাংলা ট্রিবিউনে সাতক্ষীরার সাবেক সিভিল সার্জন ডা. এবাদুল্লাহকে নিয়ে বিশেষ প্রতিবেদন প্রকাশিত হওয়ার পর বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে তার সঙ্গে কাজ করার জন্য আগ্রহ প্রকাশ করেছেন বিশিষ্ট ব্যক্তিরা। এতে করে গরিবের ভরসা ডা. এবাদুল্লাহ নতুনভাবে উজ্জীবিত হয়েছেন। মানবসেবায় চির উদ্দীপ্ত ডা. এবাদুল্লাহ বিদেশি বন্ধুদের আহ্বানে সাড়া দিয়ে অন্তরের অন্তঃস্থল থেকে বাংলা ট্রিবিউন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছেন কৃতজ্ঞতা।

বাংলা ট্রিবিউনে সংবাদ প্রকাশের পর তার অনুভূতি জানতে চাইলে তিনি বলেন, যৌবনের উদ্দীপনাকে উপেক্ষা করে গরিব, দুঃখী, অসহায় মানুষের সেবায় নিজেকে বিলিয়ে দিয়েছি। টাকার পেছনে ছুটিনি, ছুটেছি আর্তপীড়িত মানুষের পেছনে। এই দীর্ঘ যাত্রায় অনেকে অনেক রকম টিপ্পনী কেটেছেন, ‘৫ টাকার ডাক্তার’ বলে বিদ্রুপ করেছেন। তারপরও আমি থেমে থাকিনি। শুধু গরিব মানুষের কথা ভেবে আমি আমার ফি বাড়াইনি। এখন সব কিছুর খরচ প্রচণ্ডভাবে বেড়ে যাওয়ায় অল্প কিছুদিন ধরে রোগীদের কাছে ফি নেই মাত্র ১০ টাকা।

এই দীর্ঘ চিকিৎসা জীবনে আমার পাশে সেভাবে কেউ কখনও দাঁড়ায়নি। কখনও কেউ আমাকে নিয়ে লেখালেখিও করেনি। আমিও নির্মোহ মানুষ, কারও কাছে কখনও কিছু চাইনি। তবে বাংলা ট্রিবিউন হঠাৎ আমাকে নিয়ে ফিচার করলো। আমার পাশে দাঁড়ালো। এর যে এমন প্রতিক্রিয়া পাবো স্বপ্নেও ভাবিনি। এখন দেশ-বিদেশ থেকে আমার অনেক শুভাকাঙ্ক্ষী, অনেক রোগী যাদের চিকিৎসাসেবা দিয়েছিলাম তারা ফোন করে খোঁজ-খবর নিচ্ছেন, সহযোগিতা করতে চাইছেন। এজন্য বাংলা ট্রিবিউনকে আমি কী বলে যে ধন্যবাদ দেবো তা ভাষায় প্রকাশ করতে পারছি না। আশা করছি, যারা আমাকে সহযোগিতা করতে চেয়েছেন তারা সবসময় পাশে থাকবেন। আশা করছি বাংলা ট্রিবিউন আমার পাশে থাকবে।

তিনি আরও বলেন, যে দেশের মানুষ দু’বেলা দু মুঠো অন্ন জোগাড় করতে পারে না, বিনা চিকিৎসায় ধুঁকে ধুঁকে মারা যায় তাদের চিকিৎসা না পাওয়াটা আমাকে ভীষণ ভাবাতো। তাই তাদের জন্য নিজেকে উৎসর্গ করে দিয়েছি। এ কাজ করার জন্য কেউ আমাকে স্বীকৃতি দেবে বা কোনও মেডেল দেবে এমন কথা কখনও ভাবিনি। সরকারি বা বেসরকারি স্বীকৃতির আশাও করি না। চাকরি জীবন শেষে নিজের অবসরটা তাদের সেবা করেই কাটিয়ে দিতে চাই। আসলে রোগীদের বিনামূল্যে সেবা দেওয়াটাই ছিল আমার লক্ষ্য। কিন্তু আমার তো জমিদারি নেই, যে বাড়িতে রোগী দেখি তার ভাড়া, বিদ্যুৎ খরচ, অন্যান্য চিকিৎসা সরঞ্জাম খরচ, নার্স আছেন তার বেতন এসব কারণে তাদের কাছ থেকে নামমাত্র ফি-টা নিতে হয়। যদি এ বিষয়ে আর কিছু সহযোগিতা পাওয়া যেতো তাহলে হয়তো রোগীদের আরও কিছু ওষুধপত্র দিয়েও সাহায্য করা যেতো।

ডা. এবাদুল্লাহ ও প্রতিবেদকএই প্রতিবেদন পড়ার পরে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে এবং কানাডা, অস্ট্রেলিয়া থেকেও আমার চিকিৎসা পেয়ে অনেকে সুস্থ হয়েছেন এমন অনেকেই আমাকে ফোন করেছেন, খোঁজ খবর নিয়েছেন। এজন্য আজ গর্বে আমার বুক ভরে গেছে। একটা মানুষ এক জীবনে আর কী চায়! আমার মনে হয়েছে, চাকরি জীবন শেষে আজ আমার স্বপ্নপূরণ হতে যাচ্ছে। বিশ্ববাসীর কাছে বাংলা ট্রিবিউন আমাকে যেভাবে তুলে ধরেছে তাতে আমার জীবন ধন্য।

আমার স্বপ্ন গরিব দুঃখী মানুষের মাঝে বিনামূল্যে ওষুধ সরবরাহ করা। পরীক্ষা-নিরীক্ষার অভাবে যেসব অসহায় মানুষ সঠিকভাবে চিকিৎসা সেবা পান না তাদের জন্য আমি স্বল্প খরচে পরীক্ষা-নিরীক্ষার ব্যবস্থা করেছি। কিন্তু সেটি বিশ্বমানের নয়। এ ব্যাপারে আরেকটু সহযোগিতা পেলে কৃষক, শ্রমিক, রিকশাচালক, ভ্যানচালক, খেটে খাওয়া দিনমজুররা স্বল্প খরচে রোগ নির্ণয়ের সুযোগ পাবে। একই সঙ্গে এসব ছিন্নমূল মানুষের বেঁচে থাকার আকাঙ্ক্ষা বেড়ে যাবে।

এদিকে সাতক্ষীরা সরকারি কলেজের সাবেক উপাধ্যক্ষ নিমাই চন্দ মণ্ডল বলেন, আমি একদিন তার চিকিৎসা সেবা নিয়ে ধন্য হয়েছি। এবাদুল্লা সাহেব একজন অসাধারণ ডাক্তার। তিনি বলেন, সাতক্ষীরা শহরে তখন ভালো ডাক্তার ছিল না, কিন্তু আমার সমস্যাটা ছিল প্রকট। ডা. এবাদুল্লাহ তখন ফি নিতেন পাঁচ টাকা। বিশ্বাসই করতে পারিনি। তারপর ডাক্তারের চেম্বারে গিয়ে সেবা নেওয়ার পর আমার বিশ্বাস আরও দৃঢ় হয়। ডা. এবাদুল্লাহকে সহযোগিতা করে গরিব মানুষদের চিকিৎসাসেবায় সহযোগিতা করতে সাবেক এই উপাধ্যক্ষও সবার প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।

/টিএন/আপ-এজে

লাইভ

টপ