X
শনিবার, ০৩ ডিসেম্বর ২০২২
১৮ অগ্রহায়ণ ১৪২৯

মনোনয়ন ফরম তোলার আগে জানলেন তারা ‌মারা গেছেন

মো. নাজমুল হুদা নাসিম, বগুড়া
১৭ অক্টোবর ২০২১, ১৯:১৩আপডেট : ১৭ অক্টোবর ২০২১, ১৯:১৯

বগুড়ার সোনাতলা পৌরসভার নির্বাচন আগামী ২ নভেম্বর। গত ৪ অক্টোবর মনোনয়ন ফরম বিক্রি শুরু হয়েছে। ৫ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর হতে দীর্ঘদিন ধরে প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন চরমগাছা গ্রামের মৃত আবদুল কুদ্দুসের ছেলে অবসরপ্রাপ্ত সেনা সদস্য আবুল কাশেম শেখ।

কিন্তু উপজেলা নির্বাচন অফিসে মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করতে গিয়ে জানতে পারেন, ডাটাবেজে তার নাম নেই। অনেক খোঁজাখুঁজির পর জানলেন, ১০ বছর আগেই তিনি মারা গেছেন।

একই ঘটনা ঘটেছে শাজাহানপুর উপজেলার আড়িয়া ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য (মেম্বর) প্রার্থী আবদুল মোতালেব ফেরদৌসের সঙ্গে। তিনি ওই ওয়ার্ডের সাবেক সদস্য। তৃতীয় ধাপে আগামী ২৮ নভেম্বর ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন। মেম্বার পদে এবারও নির্বাচন করতে চান তিনি। এর প্রস্তুতি হিসেবে করোনা টিকা নিতে অনলাইন নিবন্ধন ও ভোটার তালিকায় খোঁজ করে দেখেন, তার নাম নেই। পরে উপজেলা নির্বাচন অফিসে খোঁজ নিয়ে জানতে পারেন, তিনি মারা গেছেন।

নির্বাচন কর্মকর্তারা বলছেন, ভুলে এমন ঘটনা ঘটে থাকতে পারে। আবেদন করলে এটা সংশোধন করা হবে। তবে তারা এবার নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন না।

আবুল কাশেম শেখ বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করতে গিয়ে দেখি, ডাটাবেজে নাম নেই। আমি নাকি ১০ বছর, অর্থাৎ ২০১১ সালে মারা গেছি! নির্বাচন অফিস মৃত বানিয়েছে। ফলে এবারের নির্বাচন অংশ নিতে পারছি। কবে জীবিত দেখানো হবে সেটাও কেউ নিশ্চিত করে বলতে পারছে না।’

সোনাতলা উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা আশরাফ হোসেন জানান, সংশোধনের আবেদন করলে এটার সমাধান হবে। তবে এবার ভোটে অংশ নিতে ও ভোট দিতে পারবেন না আবুল কাশেম।

আবদুল মোতালেব ফেরদৌস শাজাহানপুর উপজেলার আড়িয়া ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের মানিকদিবা বিন্নাচাপড় গ্রামের আবদুল গফুরের ছেলে। গত নির্বাচনে বর্তমান সদস্য আবদুর রহমানের কাছে ১৪৫ ভোটে পরাজিত হন তিনি। এবার আবদুর রহমান, আবদুল বাসেদ রঞ্জু ও ফেরদৌস প্রার্থী হওয়ার জন্য সকল প্রস্তুতি গ্রহণ করেছেন। 

ফেরদৌসের ছেলে রাসেল আহমেদ জানান, তার বাবা এবারও প্রার্থী হবেন। তাই অনেকদিন ধরেই মাঠে রয়েছেন। প্রস্তুতি হিসেবে করোনার টিকার অনলাইন রেজিস্ট্রেশন ও ভোটার তালিকায় খোঁজ করে দেখেন, ফেরদৌসের নাম নেই। পরে উপজেলা নির্বাচন অফিসে খোঁজ নিয়ে জানতে পারেন, তিনি মারা গেছেন।

আবদুল মোতালেব ফেরদৌস বলেন, ‌‘গত নির্বাচনে সামান্য ভোটের ব্যবধানে আমি হেরে যাই। এবার অংশ নেওয়ার জন্য অনেকদিন ধরে মাঠে থেকে জনসেবামূলক কাজ করে আসছি। জনপ্রিয়তায় ঈর্ষান্বিত হয়ে নির্বাচন থেকে দূরে রাখতে প্রতিপক্ষের কেউ আমাকে মৃত বানিয়েছে। জীবিত দেখাতে নির্বাচন অফিসে আবেদন করেছি।’

শাজাহানপুর উপজেলা নির্বাচন অফিস সূত্র জানায়, যদি কোনও ভোটার মারা যান, তাহলে পরিবারের পক্ষ থেকে বিষয়টি নির্বাচন অফিসকে অবহিত করতে হয়। পরে একজন মাঠকর্মী তদন্ত করে এবং স্থানীয় ইউপি সদস্য ও চেয়ারম্যানের সঙ্গে কথা বলেন। ওই মাঠকর্মীর যাচাই-বাছাইয়ের প্রতিবেদন অনুসারে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হয়ে থাকে। এ ছাড়া মৃত্যুর কারণে ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ দিতে হলেও ইউনিয়ন পরিষদের মৃত্যু সনদ লাগে।

এ বিষয়ে শাজাহানপুর উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা দুলাল হোসেন সাংবাদিকদের বলেন, এমন হওয়ার কথা নয়। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে।

/এসএইচ/
রাজশাহীতে বিএনপির গণসমাবেশ শুরু
রাজশাহীতে বিএনপির গণসমাবেশ শুরু
রুশ নাগরিক হিসেবে শপথ নিলেন স্নোডেন
রুশ নাগরিক হিসেবে শপথ নিলেন স্নোডেন
তুরস্কের সঙ্গে আলোচনা যুক্তরাজ্যের
তুরস্কের সঙ্গে আলোচনা যুক্তরাজ্যের
দেখে নিন শেষ ষোলোয় কে কার মুখোমুখি
দেখে নিন শেষ ষোলোয় কে কার মুখোমুখি
সর্বাধিক পঠিত
আঙুলের অপারেশনে শিশুর মৃত্যু, গোসলের সময় দেখা গেলো পুরো পেটে সেলাই
আঙুলের অপারেশনে শিশুর মৃত্যু, গোসলের সময় দেখা গেলো পুরো পেটে সেলাই
শাহবাগে প্রাইভেটকারের ধাক্কায় মৃত্যু দুর্ঘটনা নয়, হত্যাকাণ্ড: রমনা ডিসি
শাহবাগে প্রাইভেটকারের ধাক্কায় মৃত্যু দুর্ঘটনা নয়, হত্যাকাণ্ড: রমনা ডিসি
রিমান্ডে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছে আবিরের মা-বাবা
আয়াত হত্যারিমান্ডে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছে আবিরের মা-বাবা
তারেক রহমানকে ‘বেয়াদব’ বললেন ওবায়দুল কাদের
তারেক রহমানকে ‘বেয়াদব’ বললেন ওবায়দুল কাদের
বিএনপির সমাবেশে খালেদা জিয়ার যোগদান নিয়ে যা বললেন তথ্যমন্ত্রী
বিএনপির সমাবেশে খালেদা জিয়ার যোগদান নিয়ে যা বললেন তথ্যমন্ত্রী