‘রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন বহিরাগতরা নিয়ন্ত্রণে নিয়ে নেয়’

রাবি প্রতিনিধি
১৩ মার্চ ২০২৩, ১৯:২৮আপডেট : ১৩ মার্চ ২০২৩, ১৯:২৮

শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে বহিরাগতরা ঢুকে সহিংস রূপ দিয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) উপাচার্য অধ্যাপক গোলাম সাব্বির সাত্তার। তিনি বলেছেন, ‘প্রথম দিকে আন্দোলনে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা ছিলেন। পরে বহিরাগতরা নিয়ন্ত্রণে নিয়ে নেয়। এই আন্দোলনটাকে সহিংস রূপ দেওয়া, আগুন লাগানো- এটা বহিরাগতদের কাজ ছিল। যে কারণে ওই আন্দোলন আর ছাত্রদের হাতে ছিল না। এই বহিরাগতরা সামান্য ঘটনাকে পুঁজি করে বড় কিছু করতে চেয়েছিল। তবে কিছু সংবেদনশীল শিক্ষার্থী বিষয়টি প্রশমনে কাজ করেছেন।’

সোমবার (১৩ মার্চ) দুপুরে উপাচার্যের কনফারেন্স কক্ষে আয়োজিত প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি এ কথা বলেন। রাবি শিক্ষার্থীদের সঙ্গে স্থানীয়দের সংঘর্ষের ঘটনার দুই দিন পর সামগ্রিক পরিস্থিতি ও প্রশাসনের পদক্ষেপ জানাতে এই প্রেস ব্রিফিং করেন উপাচার্য।

ব্রিফিংয়ের শুরুতে ব্যর্থতা স্বীকার করে উপাচার্য অধ্যাপক গোলাম সাব্বির সাত্তার বলেন, ‘আমরা কাউকে দোষারোপ করতে চাই না। এই ধরনের উদ্ভূত পরিস্থিতিতে শিক্ষার্থীদের আমরা বোঝাতে চেষ্টা করি। কিন্তু কোনও কোনও ক্ষেত্রে যখন ব্যর্থ হয়ে যাই- যখন বহিরাগতদের উসকানি থাকে, বহিরাগতদের যে আস্ফালন ছিল- এটাতে শিক্ষার্থীদের অভিমান হবে এটাই স্বাভাবিক। তখন নিয়ন্ত্রণের জন্য স্থানীয় প্রশাসনের প্রয়োজন পড়ে। তারা কতটুকু কীভাবে দায়িত্ব পালন করেছে, এই বিষয়ে মন্তব্য করতে চাই না। আমার মনে হয়, প্রথম দিকে সবাই একটু সচেষ্ট থাকলে এত বড় ঘটনা ঘটতো না। এটা খুব দুঃখজনক। আমার নিরীহ শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা করেছে, এটা খুব ন্যক্কারজনক।’

উপাচার্য বলেন, ‘এই বিশ্ববিদ্যালয়ে বহিরাগতদের দৌরাত্ম্য বেড়েছে। পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে আমরাও চাই, বাইরের মানুষ আসুক, সৌন্দর্য উপভোগ করুক। কিন্তু বেশিরভাগ বহিরাগতই শিক্ষার্থীদের বিভিন্নভাবে হেনস্তা করে। তাই বহিরাগতদের বিষয়ে কঠোর হবে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। সন্ধ্যার পর কোনও বহিরাগত ক্যাম্পাসে থাকতে পারবে না।’ ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থীর পরিচয়পত্র নিয়ে চলার অনুরোধ করেন তিনি।

এক প্রশ্নের জবাবে উপাচার্য বলেন, ‘সংঘর্ষের জেরে রবিবার ও সোমবার ক্লাস-পরীক্ষা বন্ধ ছিল, তবে মঙ্গলবার থেকে ক্লাস-পরীক্ষা শুরু হবে। তবে এগুলোর চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়ে থাকে সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলো।’

আহত শিক্ষার্থীদের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘আহত শিক্ষার্থীদের চিকিৎসায় যত টাকা খরচ হয়, বিশ্ববিদ্যালয় তা বহন করবে। এখানে যদি কারও মনে হয়, উন্নত চিকিৎসা দরকার, তবে তাদের ঢাকায় পাঠানো হবে। এ বিষয়ে প্রক্রিয়া চলছে।’

ছাত্রদের ওপর গুলি করার আদেশ দিলো কে এমন প্রশ্নে উপাচার্য বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয় কাউকে আদেশ করে না। কে গুলি করলো তা আপনারাই বের করেন। আমরা ইতিমধ্যে পাঁচ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি করেছি। তারা সব বিষয়ে তদন্ত করবে। কতজন আহত হলো, গুলি কেন লাগলো কারও কোনও অবহেলা ছিল কি না তা দেখে সাত দিনের মধ্যে জানাবে। তারা সুপারিশও করবে।’

সংবাদ সম্মেলনে এ সময় উপস্থিত ছিলেন- দুই উপ-উপাচার্য মো. সুলতান-উল-ইসলাম ও মো. হুমায়ুন কবীর, জনসংযোগ দফতরের প্রশাসক অধ্যাপক প্রদীপ কুমার পাণ্ডে, সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ডিন মো. ইলিয়াছ হোসেন, প্রক্টর অধ্যাপক আসাবুল হক।

/এফআর/
সম্পর্কিত
ব্রাজিল-আর্জেন্টিনা সমর্থকদের সংঘর্ষ, আহত অর্ধশতাধিক
গোপালগঞ্জে সংঘর্ষ-ভাঙচুর, আহত ২০
ইসলামী ব্যাংকের গ্রাহকদের ওপর পুলিশের গুলি, জামায়াতের নিন্দা
সর্বশেষ খবর
ফ্রিল্যান্সারদের আয় থেকে সাড়ে ৭ শতাংশ কর কাটা নিয়ে যা বলছে এনবিআর 
ফ্রিল্যান্সারদের আয় থেকে সাড়ে ৭ শতাংশ কর কাটা নিয়ে যা বলছে এনবিআর 
কনটেন্ট ক্রিয়েটরদের আয়ে ৭.৫% কর নেওয়ার অভিযোগ, স্পষ্ট করার দাবি সারজিসের
কনটেন্ট ক্রিয়েটরদের আয়ে ৭.৫% কর নেওয়ার অভিযোগ, স্পষ্ট করার দাবি সারজিসের
ভাতের সঙ্গে জমবে মজাদার সরষে সবজি
ভাতের সঙ্গে জমবে মজাদার সরষে সবজি
মার্কিন যুদ্ধবিরতি প্রত্যাখ্যান হিজবুল্লাহর, চলছে ইসরায়েলি হামলা
মার্কিন যুদ্ধবিরতি প্রত্যাখ্যান হিজবুল্লাহর, চলছে ইসরায়েলি হামলা
সর্বাধিক পঠিত
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ
দায়িত্ব ছাড়ার প্রসঙ্গে হুমায়ুন রশীদ চৌধুরীর উদাহরণ টানলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী
দায়িত্ব ছাড়ার প্রসঙ্গে হুমায়ুন রশীদ চৌধুরীর উদাহরণ টানলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী
হতাশা থেকে আত্মহত্যা বাংলাদেশ ব্যাংকের অতিরিক্ত পরিচালকের, ধারণা পুলিশের
হতাশা থেকে আত্মহত্যা বাংলাদেশ ব্যাংকের অতিরিক্ত পরিচালকের, ধারণা পুলিশের
যুদ্ধবিরোধী প্রস্তাব পাসের পর এবার কী ঘটবে ইরানে
যুদ্ধবিরোধী প্রস্তাব পাসের পর এবার কী ঘটবে ইরানে