বগুড়ার সারিয়াকান্দিতে দীর্ঘদিন ড্রেজিং না করায় যমুনা নদীর নাব্যতা সংকট দেখা দিয়েছে। ডুবোচরে আটকে যাচ্ছে নৌকা। এতে উপজেলার বেশ কয়েকটি নৌরুট কিছুদিন ধরে বন্ধ রয়েছে। প্রধান নৌরুটে নানা ভোগান্তিতে নৌযান চলাচল করছে। এতে চরাঞ্চলের কৃষকরা তাদের উৎপাদিত কৃষিপণ্য সহজে পরিবহন করতে পারছেন না। জনগণের চলাচলেও বিঘ্ন ঘটছে। ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গত কয়েক বছর আগেও সারিয়াকান্দিতে বর্ষাকালে যমুনা নদীতে প্রচুর পানি ও খরস্রোত ছিল। ফলে বন্যায় উপজেলার বিশালাকার এলাকা প্লাবিত হতো। তখন পরিপূর্ণ ছিল যমুনা নদীর নাব্যতা। কিন্তু চলতি বছরে সারিয়াকান্দিতে যমুনা নদীর পানি বিপদসীমা অতিক্রম করেনি। এ বছর উপজেলায় কোনও বন্যাও হয়নি। গত কয়েক মাস ধরেই যমুনা নদীর পানি একেবারেই তলানিতে গিয়ে পৌঁছেছে। এতে উপজেলায় এখন যমুনা নদীর নাব্যতা সংকট বিরাজ করছে। নাব্যতা সংকটে যমুনা নদীতে বেশ কিছু ডুবোচর সৃষ্টি হয়েছে। এসব ডুবোচরে প্রতিনিয়ত মাঝিদের নৌকা আটকে যাচ্ছে। মাঝিরা পানিতে নেমে নৌকা ডুবোচর থেকে সরিয়ে নিচ্ছেন। এতে নৌকা পারাপারে তাদের ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, উপজেলার একমাত্র নৌপথ সারিয়াকান্দি এবং মাদারগঞ্জ। এটি কালিতলা গ্রোয়েনবাঁধ থেকে প্রায় এক কিলোমিটার এলাকাজুড়ে বিশালাকার চরের সৃষ্টি হয়েছে। প্রতিনিয়ত মাঝিদের দেওয়া চাঁদায় এই চর কেটে ড্রেনের মতো খাল সৃষ্টি করা হয়েছে। সেই পথ দিয়ে খুবই কষ্টে প্রতিদিন শতাধিক নৌকা উপজেলার বিভিন্ন নৌঘাটে চলাচল করছে।
নাব্যতা সংকটে উপজেলার পারতিত পরল গ্রামের আলতাফ আলীর খেয়াঘাট, হাসনাপাড়া খেয়াঘাট, নিজবলাই খেয়াঘাট, দিঘাপাড়া খেয়াঘাট, চারালকান্দি খেয়াঘাটসহ বেশ কিছু খেয়াঘাট বন্ধ হয়ে গেছে। এ ছাড়া উপজেলার যমুনা নদীর বেশিরভাগ এলাকাজুড়ে বালুচরের সৃষ্টি হয়েছে। এসব বালুচর ডিঙিয়ে কৃষকরা তাদের উৎপাদিত কৃষিপণ্য খুব কষ্টে পরিবহন করছেন। কেউ ঘোড়ার গাড়িতে করে বেশি ভাড়ায় বা পায়ে হেঁটে ঘাড়ে করে তাদের কৃষিপণ্য পরিবহন করছেন। উপজেলার প্রায় অর্ধেকের বেশি ফসল যমুনার চরাঞ্চলে উৎপাদিত হয়। এসব ফসল পরিবহনে কৃষকদের বাড়তি পরিবহন খরচ হচ্ছে। এতে তাদের উৎপাদিত ফসলের উৎপাদন খরচ বাড়ছে।
সারিয়াকান্দির আলতাফ আলী খেয়াঘাটের মাঝি আলতাফ আলী বলেন, ‘যমুনা নদীর নাব্যতা সংকটে তার খেয়াঘাট গত কয়েক মাস ধরেই বন্ধ রয়েছে। যত টাকা দিয়ে নৌঘাটটি ইজারা নিয়েছি সেই টাকাই উঠবে না।’
ভোগান্তির কথা জানিয়ে কাজলা ইউনিয়নের কুড়িপাড়া চরের কৃষক মহসিন আলী বলেন, ‘নদীতে যদি পানি থাকতো তাহলে আমরা খুব সহজেই নৌকায় আমাদের কৃষি ফসলগুলো বাজারাজাত করতে পারতাম। পানি না থাকায় ঘোড়ার গাড়িতে সার, মরিচসহ নানা ধরনের ফসল ১২০ টাকা ভাড়া দিয়ে বাজারে নিয়ে যেতে হচ্ছে। এতে আমাদের ফসলের উৎপাদন খরচ বাড়ছে, অপরদিকে সেই অনুযায়ী আমরা বাজারে দাম পাচ্ছি না।’
সারিয়াকান্দির কালিতলা নৌঘাটের মাঝি আমিনুল ইসলাম বলেন, ‘যমুনা নদীতে চলাচল করতে নৌকা বারবার চরে আটকে যাচ্ছে। খুবই কষ্টে পারাপার করছি। নিজেদের টাকা দিয়ে ড্রেজিং করে উপজেলার ব্যস্ততম নৌপথ চালু রেখেছি।’
এ প্রসঙ্গে বগুড়ার জেলা প্রশাসক তৌফিকুর রহমান বলেন, ‘সারিয়াকান্দিতে নৌবন্দর স্থাপনের কাজ চলমান রয়েছে। নৌবন্দর হলে সারা বছর নৌপথ ড্রেজিংয়ের আওতায় থাকবে।’








