রাজশাহী আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তার কার্যালয়ে কোনও লিখিত বা মৌখিক পরীক্ষা ছাড়াই ১৪৩ জন আউটসোর্সিং কর্মী নিয়োগের ঘটনায় ঘুষ গ্রহণের অভিযোগে নির্বাচন কর্মকর্তা মো. আনিছুর রহমানকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। একই সঙ্গে অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটিও গঠন করেছে নির্বাচন কমিশন সচিবালয়। কমিটিকে পাঁচ কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।
গত ২০ জুলাই নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের এক প্রজ্ঞাপনে জনস্বার্থে আনিছুর রহমানকে সাময়িক বরখাস্তের কথা জানানো হয়। পরদিন ২১ জুলাই তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করে নির্বাচন কমিশন সচিবালয়। কমিটির আহ্বায়ক করা হয়েছে নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের যুগ্ম সচিব (প্রশাসন ও অর্থ) ডিএম আতিকুর রহমানকে। আদেশে বলা হয়েছে, রাজশাহী অঞ্চলে আউটসোর্সিং পদ্ধতিতে ১৪৩ জন কর্মী নিয়োগে আর্থিক দুর্নীতির অভিযোগ সরেজমিন তদন্ত করে পাঁচ কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিল করতে হবে। তদন্তে নিয়োগ প্রক্রিয়া, অভিযোগের সত্যতা এবং সংশ্লিষ্টদের ভূমিকা যাচাই করা হবে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, গত ২৩ জুন নির্বাচন কমিশন সচিবালয় দেশের সব আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তার জন্য আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে জনবল নিয়োগ সংক্রান্ত নির্দেশনা জারি করে। একই দিনে পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের বাংলাদেশ পাবলিক প্রকিউরমেন্ট অথরিটি (বিপিপিএ) ই-জিপির পরিবর্তে অফলাইনে ডাইরেক্ট প্রোকিউরমেন্ট মেথড (ডিপিএম) অনুসরণের অনুমোদন দেয়। নির্দেশনায় ৩০ জুনের মধ্যে নিয়োগ কার্যক্রম সম্পন্ন করার কথা বলা হয়।
ওই নির্দেশনা অনুযায়ী, রাজশাহী বিভাগের বিভিন্ন জেলা ও উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তার কার্যালয়ের জন্য ১৪৩ জন কর্মী নিয়োগের প্রক্রিয়া শুরু করে আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তার কার্যালয়। জনবল সরবরাহের কার্যাদেশ পায় কেএসএফ ট্রেড লিমিটেড নামের একটি প্রতিষ্ঠান। পাঁচ জন চালক, ৬৯ জন পরিচ্ছন্নতাকর্মী এবং ৬৯ জন নিরাপত্তা প্রহরীসহ মোট ১৪৩ জন জনবল সরবরাহের দায়িত্ব পায় প্রতিষ্ঠানটি। নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী আগে থেকেই কর্মরত আউটসোর্সিং কর্মীদের অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা ছিল। সে অনুযায়ী ১৩৭ জন কর্মরত কর্মীর তালিকা ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের কাছে পাঠানো হয়। পরে প্রতিষ্ঠানটি ১৪৩ জনের চূড়ান্ত তালিকা জমা দিলে জুলাইয়ের প্রথম সপ্তাহে পর্যায়ক্রমে তারা নিজ নিজ কর্মস্থলে যোগ দেন।
এরই মধ্যে সম্প্রতি গণমাধ্যমে খবর আসে, নিয়োগপ্রাপ্তদের কাছ থেকে জনপ্রতি ৭০ থেকে ৮০ হাজার টাকা করে ঘুষ নেওয়া হয়েছে। তবে নিয়োগ পাওয়া কয়েকজনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা ঘুষ দেওয়ার বিষয়টি অস্বীকার করেছেন। অস্থায়ী এই নিয়োগ পেতে তারা কোনও টাকা দেননি বলে দাবি করেছেন।
কেএসএফ ট্রেড লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক শামীম হোসাইন বলেন, ‘নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনা ও কেন্দ্রীয় অনুমোদনের ভিত্তিতেই আগের কর্মীদের বহাল রাখা হয়েছে। আমরা আলাদা কোনও তালিকা তৈরি করিনি; নির্বাচন কমিশনের দেওয়া তালিকা অনুযায়ীই নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে।’
ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করে তিনি বলেন, ‘প্রতিষ্ঠানের অগোচরে কেউ ব্যক্তিগতভাবে অর্থ লেনদেন করে থাকলে তার দায় প্রতিষ্ঠান নেবে না।’
সাময়িক বরখাস্ত হওয়া আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা মো. আনিছুর রহমান বলেন, ‘সরকার নির্ধারিত নীতিমালা ও বিধিবিধান অনুসরণ করেই পুরো নিয়োগ কার্যক্রম সম্পন্ন হয়েছে। মূল্যায়ন কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতেই নিয়োগ দেওয়া হয়েছে এবং কোথাও কোনও ধরনের অনিয়ম বা বিধি বিধানের ব্যত্যয় ঘটেনি।’

নির্বাচন অফিসে পরীক্ষা ছাড়াই ১৪৩ জনকে নিয়োগ, কারা দিলো কীভাবে?







