সরকার নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি দামে খুচরা ব্যবসায়ীদের কাছে সার বিক্রির অভিযোগে নাটোরের সিংড়ায় এক বিসিআইসি ডিলারকে ৯৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) রাতে উপজেলার হাট সিংড়ায় অভিযান চালিয়ে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে এ জরিমানা করা হয়।
অভিযুক্ত ডিলার শিবনাথ সাহা। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান পরিচালনা করেন ভ্রাম্যমাণ আদালতের ম্যাজিস্ট্রেট ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) নিশাত আনজুম।
ভ্রাম্যমাণ আদালত সূত্রে জানা গেছে, বিসিআইসি ডিলার শিবনাথ সাহার দোকানে পর্যাপ্ত পরিমাণে সার মজুত ছিল। এসব সার সরকার নির্ধারিত মূল্যে কৃষকদের কাছে বিক্রি করার কথা। তবে নিয়ম ভঙ্গ করে সোমবার রাতে কয়েকজন খুচরা ব্যবসায়ীর কাছে সার বিক্রি করেন তিনি। এ সময় সার কেনাবেচার কোনও ভাউচারও পাওয়া যায়নি।
একপর্যায়ে শিবনাথ সাহা খুচরা ব্যবসায়ীদের কাছে বেশি দামে সার বিক্রির কথা স্বীকার করেন। পরে সার ব্যবস্থাপনা আইন ও ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইনের দুটি ধারায় তাকে যথাক্রমে ৪৫ হাজার ও ৫০ হাজার টাকা, মোট ৯৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
স্থানীয় কৃষকদের অভিযোগ, ডিলার শিবনাথ সাহা তাদের কাছ থেকেও বেশি দামে সার বিক্রি করতেন। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে তিনি নিয়মবহির্ভূতভাবে বাজার ও আশপাশের এলাকার খুচরা ব্যবসায়ীদের কাছে সার বিক্রি করতেন। এতে কৃষকদের সরকার নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি দামে সার কিনতে হতো। সারের কৃত্রিম সংকট তৈরি করে বেশি দামে বিক্রির অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে।
কৃষকেরা বলেন, চলনবিলে এখন পানির ভাটির টান শুরু হয়েছে। ধানসহ বিভিন্ন ফসলের চাষাবাদ চলছে। ফলে সার ও কীটনাশকের চাহিদা বেড়েছে। এর মধ্যে কিছু অসাধু ব্যবসায়ী অধিক মুনাফার আশায় সারের কৃত্রিম সংকট তৈরি করছেন বলে অভিযোগ তাদের। ফলে ডিলারদের কাছে গিয়েও অনেক সময় সার পাওয়া যাচ্ছে না। আবার সার পাওয়া গেলেও কোথাও কোথাও তা সরকার নির্ধারিত দামে বিক্রি করা হচ্ছে না।
তাদের দাবি, সামনে রবি মওসুম শুরু হলে এ অঞ্চলে সারের চাহিদা আরও বাড়বে। তাই কৃষকদের কাছে ন্যায্য মূল্যে সার পৌঁছে দিতে বিসিআইসি ও বিএডিসি ডিলারদের ওপর নিয়মিত নজরদারি এবং প্রশাসনের অভিযান অব্যাহত রাখা প্রয়োজন।
সহকারী কমিশনার (ভূমি) নিশাত আনজুম বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, অবৈধভাবে সার বিক্রির খবর পেয়ে কৃষি কর্মকর্তাকে সঙ্গে নিয়ে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হয়েছে। অভিযানে বিসিআইসি ডিলারকে জরিমানা করার পাশাপাশি সতর্ক করা হয়েছে। ভবিষ্যতে কৃষক ছাড়া অন্য কোথাও অবৈধভাবে সার বিক্রি করলে লাইসেন্স বাতিলের হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে। কৃষকদের কাছে ন্যায্য মূল্যে সার পৌঁছে দিতে অভিযান অব্যাহত থাকবে।









