বাড়িতে লাশ রেখে ‘ঘুষের টাকা’ উদ্ধার

পঞ্চগড় প্রতিনিধি
১২ আগস্ট ২০২২, ২০:৩১আপডেট : ১২ আগস্ট ২০২২, ২০:৪৬

পঞ্চগড় সদর উপজেলার সাতমেরা ইউনিয়নের প্রধানপাড়ার দারুল ফালাহ দাখিল মাদ্রাসার সাবেক সভাপতি জুলফিকার আলীর বাসায় লাশ রেখে ঘুষের টাকা উদ্ধার করেছেন স্বজন ও এলাকাবাসী। চাকরির জন্য দেওয়া ঘুষের ১২ লাখ টাকা উদ্ধারের জন্য অভিযুক্ত ব্যক্তির বাড়িতে লাশ রেখে বৃহস্পতিবার (১১ আগস্ট) রাত ৮টা থেকে গভীর রাত পর্যন্ত অনশন করেন স্বজনরা।

পুলিশ জানায়, খবর পেয়ে সদর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। রাত ২টার দিকে বিষয়টি মীমাংসার জন্য বৈঠক ডাকা হয়। বৈঠকে ঘুষের ১২ লাখ টাকার মধ্যে ছয় লাখ টাকা ফেরত দেওয়ার শর্তে অনশন প্রত্যাহার করেন স্বজন ও এলাকাবাসী। নগদ এক লাখ ও পাঁচ লাখ টাকার চেক দিয়ে দুই মাসের মধ্যে পরিশোধ করবেন মর্মে মুচলেকা দেন অভিযুক্ত জুলফিকার। রাত সাড়ে ৩টায় লাশ নিয়ে যান স্বজনরা। শুক্রবার (১২ আগস্ট) সকাল ১০টায় প্রধানপাড়ার পারিবারিক কবরস্থানে দবিরুল ইসলামের লাশ দাফন করা হয়।

ভুক্তভোগী পরিবার ও এলাকাবাসী জানায়, সাতমেরা ইউনিয়নের প্রধানপাড়া দাখিল মাদ্রাসার সাবেক সভাপতি জুলফিকার আলী দুই বছর আগে মাদ্রাসার লাইব্রেরিয়ান পদে একই এলাকার জাকিরুল ইসলামকে চাকরি দেওয়ার কথা বলে তার বাবা দবিরুল ইসলামের (৫৫) কাছ থেকে ১২ লাখ টাকা নেন। দুই মাস আগে জুলফিকারের সভাপতির সময়সীমা শেষ হয়। টাকা ফেরত দিতে চাপ দেয় জাকিরুলের পরিবার। কিন্তু বিভিন্নভাবে হয়রানি ও টালবাহানা করে সময়ক্ষেপণ করে আসছিলেন জুলফিকার। ২০ দিন আগে জুলফিকারের কাছে টাকা ফেরত চাইতে বাড়িতে যান জাকিরুলের বাবা দবিরুল। তখন দবিরুলকে টাকা না দিয়ে লাঞ্ছিত ও মারধর করতে উদ্ধত হন জুলফিকার। সেইসঙ্গে বাড়ি থেকে বের করে দেন। অপমান সইতে না পেরে বাড়ি এসে স্ট্রোক করেন দবিরুল। দীর্ঘদিন ধরে চিকিৎসাধীন থাকার ৭ আগস্ট আবারও স্ট্রোক করেন। উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে রংপুর প্রাইম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে বৃহস্পতিবার দুপুরে মারা যান তিনি। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে স্বজন ও এলাকাবাসী দবিরুলের লাশ জুলফিকারের বাড়িতে রেখে অনশন শুরু করেন। 

জাকিরুলের অভিযোগ, ‘চাহিদা মতো টাকা দিয়েও চাকরি না হওয়ায় এবং টাকা ফেরত না দেওয়ায় আমার বাবা স্ট্রোক করেন। সেইসঙ্গে মারা যান। আমার বাবার মৃত্যুর জন্য দায়ী জুলফিকার।

জাকিরুল ইসলাম বলেন, ‘জমি, গরু-ছাগলসহ প্রয়োজনীয় মালামাল বিক্রি করে জুলফিকারকে ১২ লাখ টাকা দিয়েছেন বাবা। কিন্তু চাকরি দেননি, এমনকি টাকাও ফেরত দেননি। উল্টো বাবাকে লাঞ্ছিত ও হয়রানি করেছেন।’

দবিরুল ইসলামের বড় ছেলে আব্দুস সবুর বলেন, ‌‘ছোট ভাইকে চাকরি দেওয়ার কথা বলে প্রধানপাড়া দাখিল মাদ্রাসার শিক্ষক আমানুল্লাহসহ বিভিন্ন ব্যক্তির উপস্থিতিতে আমার বাবার কাছ থেকে ১২ লাখ টাকা নিয়েছেন জুলফিকার। চাকরি না হওয়ায় টাকা উদ্ধারের সহযোগিতা চেয়ে জেলা প্রশাসন ও পুলিশসহ বিভিন্ন দফতরে লিখিত অভিযোগ দিয়েও কোনও লাভ হয়নি। অবশেষে টাকা ফেরত চাওয়ায় বাবাকে অপমান করে বাড়ি থেকে বের করে দিয়েছেন। এতে স্ট্রোক করে আমার বাবা মারা গেছেন।’

তিনি বলেন, ‘লাশ নিয়ে অনশনের পর বৈঠকে জুলফিকার আলীকে ছয় লাখ টাকা মাফ করে দিতে বলেন সালিশদাররা। পরে ছয় লাখ টাকা মাফ করে দিয়েছি আমরা। বাকি ছয় লাখ টাকা দেবেন বলেছেন তিনি। এরমধ্যে এক লাখ টাকা পেয়েছি। বাকি টাকা দুই মাসের মধ্যে দেবেন বলেছেন।’ 

মৃত দবিরুলের বড় ভাই বদিরুল ইসলাম বলেন, ‘টাকার চিন্তায় স্ট্রোক করে শেষ পর্যন্ত মারা গেলো আমার ভাই। প্রতারক জুলফিকারের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই আমরা।’

সাতমেরা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান রবিউল ইসলাম রবি বলেন, ‘লাশ নিয়ে অনশনের খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যাই। পরে ইউনিয়নের ইউপি সদস্য হেলাল উদ্দীনের বাড়িতে বৈঠক হয়। বৈঠকে ইউপি সদস্য হেলাল উদ্দীন, জগদল বাজার বণিক সমিতির সভাপতি জাহাঙ্গীর প্রধান, সাধারণ সম্পাদক আবু তাহের, দবিরুল ইসলামের ভাই বদিরুল ইসলাম, ছেলে আব্দুস সবুর, জুলফিকার আলী ও সদর থানা পুলিশসহ গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে ছয় লাখ টাকায় বিষয়টি মীমাংসা হয়। বাকি টাকা মাফ করে দিয়েছেন স্বজনরা। সকালে লাশ দাফন করা হয়েছে।’

সদর থানার ওসি আব্দুল লতিফ মিয়া বলেন, ‘লাশ নিয়ে অনশনের খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে গভীর রাতে উভয়পক্ষকে নিয়ে বৈঠকে বসা হয়। ছয় লাখ টাকা ফেরত দেওয়ার শর্তে বিষয়টি মীমাংসা করা হয়েছে। দুই মাসের মধ্যে বাকি টাকা ফেরত দেবেন বলে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন অভিযুক্ত জুলফিকার।’ 

এ বিষয়ে বারবার জানতে চাইলেও কোনও কথা বলতে রাজি হননি অভিযুক্ত জুলফিকার আলী। একপর্যায়ে তিনি বলেন, ‘আমার কোনও কথা নেই।’

/এএম/এমওএফ/
সম্পর্কিত
তীব্র গরমে ৪ জনের মৃত্যু
বজ্রপাতে একদিনে ১২ জনের মৃত্যু
চাঁপাইনবাবগঞ্জে বজ্রাঘাতে ৬ জনের মৃত্যু, ৪ জনই গিয়েছিলেন আম কুড়াতে
সর্বশেষ খবর
তেল ও বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর গণবিরোধী সিদ্ধান্ত বাতিল করতে হবে: জামায়াত
তেল ও বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর গণবিরোধী সিদ্ধান্ত বাতিল করতে হবে: জামায়াত
সান মারিনোর বিপক্ষে বাংলাদেশ ম্যাচে প্রথমবার থাকছে ভিএআর 
সান মারিনোর বিপক্ষে বাংলাদেশ ম্যাচে প্রথমবার থাকছে ভিএআর 
বিদ্যুৎ-জ্বালানির দাম কমানোর দাবি এনসিপির
বিদ্যুৎ-জ্বালানির দাম কমানোর দাবি এনসিপির
ভৈরবে রেলপথ অবরোধ: ৫টি ট্রেন মাঝরাস্তায় আটকা, চলাচল ব্যাহত
ভৈরবে রেলপথ অবরোধ: ৫টি ট্রেন মাঝরাস্তায় আটকা, চলাচল ব্যাহত
সর্বাধিক পঠিত
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ
দায়িত্ব ছাড়ার প্রসঙ্গে হুমায়ুন রশীদ চৌধুরীর উদাহরণ টানলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী
দায়িত্ব ছাড়ার প্রসঙ্গে হুমায়ুন রশীদ চৌধুরীর উদাহরণ টানলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী
যুদ্ধবিরোধী প্রস্তাব পাসের পর এবার কী ঘটবে ইরানে
যুদ্ধবিরোধী প্রস্তাব পাসের পর এবার কী ঘটবে ইরানে
শিশু রামিসা হত্যাকাণ্ড: নিজেকে নির্দোষ দাবি ডলারের
শিশু রামিসা হত্যাকাণ্ড: নিজেকে নির্দোষ দাবি ডলারের
আপা ডাকায় নয়, বাসি মিষ্টি পাওয়ায় জরিমানা করেছি
সংবাদ সম্মেলনে ইউএনও মুনমুন নাহার আশাআপা ডাকায় নয়, বাসি মিষ্টি পাওয়ায় জরিমানা করেছি