১২ শিক্ষকের বিদ্যালয়ে দুই পরীক্ষার্থী, পাস করেনি কেউ

নীলফামারী প্রতিনিধি
১৩ মে ২০২৪, ১৯:৫৩আপডেট : ১৩ মে ২০২৪, ১৯:৫৩

নীলফামারীর ডিমলা উপজেলার শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এবারের এসএসসি পরীক্ষায় পাস করেনি কোনও শিক্ষার্থী। ১২ শিক্ষকের এই বিদ্যালয় থেকে মাত্র দুজন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিল। তারাও অকৃতকার্য হয়েছে। এ নিয়ে স্থানীয়দের মাঝে চলছে আলোচনা-সমালোচনা।

শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, বিদ্যালয়টিতে প্রধান শিক্ষকসহ ১২ জন শিক্ষক ও তিন জন কর্মচারী রয়েছেন। এখানে ছাত্রীর সংখ্যা দুই শতাধিক। এর মধ্যে এবার এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেয় দুজন।

উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ১৯৯৯ সালে উপজেলার সদর ইউনিয়নের বাবুরহাট এলাকায় শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হয়। প্রতিষ্ঠার পর থেকে সরকারি অনুদানের জন্য আবেদন করলেও এখনও এমপিওভুক্ত হয়নি। বঙ্গবন্ধু ও তার পরিবারের নামে প্রতিষ্ঠানটি হওয়ায় সরকারি করার জন্য ২০২১ সালের অক্টোবর মাসে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মেমোরিয়াল ট্রাস্টের অনুমোদন পায়। যা প্রক্রিয়াধীন আছে। প্রতিষ্ঠানটিতে প্রধানসহ ১২ জন শিক্ষক এবং তিন জন কর্মচারী রয়েছেন। ২০১১ সালের জানুয়ারি মাসে এটি একাডেমিক স্বীকৃতি পায়। তবে ষষ্ঠ থেকে দশম শ্রেণি পর্যন্ত পাঠদানের অনুমতি থাকলেও শিক্ষার্থীর সংখ্যা জানাতে পারেনি শিক্ষা অফিস।

সোমবার বেলা ১১টায় বিদ্যালয়ে গিয়ে দেখা গেছে, প্রতিষ্ঠানের সব কক্ষ তালাবদ্ধ। খোলা হয়নি অফিসসহ শ্রেণিকক্ষের দরজা-জানালা। বিদ্যালয় সংলগ্ন মাঠ ফাঁকা। কোনও ছাত্রীকে দেখা যায়নি।

স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রতিষ্ঠানটি বেশিরভাগ সময় বন্ধ থাকে। হঠাৎ কোনও সময় দু’একজন শিক্ষক-কর্মচারী আসলেও কোনও ছাত্রছাত্রীকে প্রতিষ্ঠানে আসতে দেখা যায় না।

অকৃতকার্য হওয়া দুই ছাত্রী জানায়, স্যাররা বিদ্যালয়ে আসেন না। বিদ্যালয়ে বসার চেয়ার-টেবিল নেই। পরীক্ষার আগে ফরম পূরণ করে আমাদের জানানো হয়, এসএসসি পরীক্ষা দিতে হবে। একপ্রকার বাধ্য হয়ে পরীক্ষায় অংশ নিয়েছি। আসলে পরীক্ষা দেওয়ার মতো আমাদের কোনও প্রস্তুতি ছিল না।

বাবুরহাট এলাকার বাসিন্দা আব্দুল মোতালেব বলেন, ‘পরিচালনা কমিটি ও শিক্ষকরা বিদ্যালয়টি এমপিওভুক্ত করার জন্য অনেক চেষ্টা করে যাচ্ছেন। কিন্তু বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মেমোরিয়াল ট্রাস্টের অনুমোদন পেলেও এখনও এমপিওভুক্ত হয়নি। শিক্ষকরা ঠিকমতো বেতন-ভাতা পান না। কোনও রকমে জীবনযাপন করে প্রায় ২৪ বছর ধরে প্রতিষ্ঠান চালাচ্ছেন। হয়তো এমপিওভুক্ত হলে পড়াশোনার চিত্র বদলে যেতো।’

বিদ্যালয় এলাকার বাসিন্দা তমিজ উদ্দিন বলেন, ‘এখানে ঠিকমতো ক্লাস হয় না। শিক্ষার্থীদের কখনও আমার চোখে পড়েনি। তবে মাঝেমধ্যে কয়েকজন শিক্ষককে আসতে দেখি। মাসের বেশিরভাগ দিন বন্ধই থাকে। কারণ শিক্ষার্থী নেই বললেই চলে। আশপাশের ও আমাদের ছেলেমেয়েরা অন্য বিদ্যালয়ে পড়ে।’

সোমবার সকালে বিদ্যালয়ে গিয়ে প্রধান শিক্ষক আকতার হাবিব সরকারের মোবাইল নম্বরে একাধিকবার কল দিয়ে সেটি বন্ধ পাওয়া যায়। পরে বাড়িতে গিয়েও তাকে পাওয়া যায়নি।

তবে বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক মজিবর রহমান বাংলা ট্রিবিউনকে বলেছেন, আমাদের বিদ্যালয়ের বিভিন্ন ক্লাসে ২৫০ জন শিক্ষার্থী আছে। এর মধ্যে দুজন এসএসসিতে অংশ নিলেও পাস করেনি।

জানতে চাইলে নীলফামারী জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মো. হাফিজুর রহমান বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘বিদ্যালয়টি ননএমপিওভুক্ত হওয়ায় বেহাল দশায় ফেলেছে। এজন্য দায়ী পরিচালনা কমিটি ও শিক্ষকরা। বঙ্গবন্ধু পরিবারের নামে নামকরণ করে দায় সেরেছে তারা। মোটেও কাজটি ঠিক করেনি। এক ধরনের অপরাধ করেছে। বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সঙ্গে কথা বলে উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তাকে দিয়ে তদন্তের পর ব্যবস্থা নেবো।’

ডিমলা উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আব্দুল হালিম বলেন, উপজেলায় একটি বিদ্যালয়ে ফলাফলের শতকরা হার শূন্য। সেটি শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়। কেউ পাস করেনি।

নীলফামারী জেলা থেকে এবার ৫১৩টি বিদ্যালয় এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়েছে জানিয়ে দিনাজপুর মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষাবোর্ডের চেয়ারম্যান প্রফেসর স. ম. আব্দুস সামাদ আজাদ বলেন, ‘দিনাজপুর বোর্ডে চারটি বিদ্যালয়ের ফলের শতকরা হার শূন্য। এর মধ্যে ডিমলা উপজেলার শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় একটি। এমপিওভুক্ত করার ক্ষেত্রে এখানে আমাদের করার কিছুই নেই। শিক্ষা মন্ত্রণালয় এর তথ্য চাইলে আমরা পাঠিয়ে দেবো। ওই বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটি হয়তো সঠিকভাবে এমপিওভুক্ত করার প্রক্রিয়া মানেনি, তাই অনুমোদন পায়নি। পড়াশোনার এই অবস্থা হলে কখনও এমপিওভুক্ত হবে না।’

/এএম/
সম্পর্কিত
উত্তরপত্র মূল্যায়নে গাফিলতির অভিযোগ, কী ব্যবস্থা নেবে সরকার?
কুমিল্লা শিক্ষাবোর্ডএসএসসিতে ১৯৪৪ শিক্ষার্থীর ফল পরিবর্তন, ফেল থেকে পাস ৩৩৬ জন
২০২৭ সালের এসএসসির রুটিন প্রকাশ
সর্বশেষ খবর
প্রথমে গোল করেও জিততে পারলো না বাংলাদেশ 
প্রথমে গোল করেও জিততে পারলো না বাংলাদেশ 
চট্টগ্রামে একদিনে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত ১৩৮ জন, আক্রান্ত ছাড়িয়েছে সাড়ে ৩ হাজার
চট্টগ্রামে একদিনে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত ১৩৮ জন, আক্রান্ত ছাড়িয়েছে সাড়ে ৩ হাজার
চীনের ‘ব্লু ইকোনমি’র অভিজ্ঞতা কাজে লাগতে চান শিক্ষামন্ত্রী
চীনের ‘ব্লু ইকোনমি’র অভিজ্ঞতা কাজে লাগতে চান শিক্ষামন্ত্রী
জ্বালানি তেলের মূল্য বৃদ্ধি: ‘মড়ার ওপর খাঁড়ার ঘা’
জ্বালানি তেলের মূল্য বৃদ্ধি: ‘মড়ার ওপর খাঁড়ার ঘা’
সর্বাধিক পঠিত
নিউ ইয়র্কের উদ্দেশে ঢাকা ছাড়লেন প্রধানমন্ত্রী, সফরসঙ্গী কারা?
নিউ ইয়র্কের উদ্দেশে ঢাকা ছাড়লেন প্রধানমন্ত্রী, সফরসঙ্গী কারা?
‘নিজেকে শেষ করার’ আগে চিরকুটে কষ্টের কথা লিখে গেছেন মরিয়ম
‘নিজেকে শেষ করার’ আগে চিরকুটে কষ্টের কথা লিখে গেছেন মরিয়ম
এমপি গাজী নজরুল ও তার প্রথম স্ত্রী পুলিশি হেফাজতে
এমপি গাজী নজরুল ও তার প্রথম স্ত্রী পুলিশি হেফাজতে
সরকারি চাকরিজীবীর মৃত্যুতে আজীবন পেনশন পাবেন স্ত্রী বা স্বামী, তবে....
সরকারি চাকরিজীবীর মৃত্যুতে আজীবন পেনশন পাবেন স্ত্রী বা স্বামী, তবে....
অপ্রতিম হত্যা: আদালতে স্বীকারোক্তি দিয়ে যা জানিয়েছে তিন আসামি 
অপ্রতিম হত্যা: আদালতে স্বীকারোক্তি দিয়ে যা জানিয়েছে তিন আসামি