দেশের বাজারে পেঁয়াজের দাম নিয়ন্ত্রণে দীর্ঘ সাড়ে পাঁচ মাস বন্ধ থাকার পর আবারও দিনাজপুরের হিলি স্থলবন্দর দিয়ে পণ্যটি ভারত থেকে আমদানি শুরু হয়েছে। পেঁয়াজ আমদানি শুরু হওয়ার ফলে দেশের বাজারে দাম কমে আসবে বলে জানিয়েছেন বন্দরের আমদানিকারকরা।
রবিবার (১৭ আগস্ট) বিকাল পৌনে ৪টায় পেঁয়াজ বোঝাই একটি ট্রাক প্রবেশের মধ্য দিয়ে পণ্যটি আমদানি শুরু হয়েছে। এদিন নওগাঁর ব্যবসায়ী জগদীশ চন্দ্র রায় ৩০ টন পেঁয়াজ আমদানি করেন। এতে বন্দরে আমদানিকারক ও শ্রমিকদের মাঝে কর্মচাঞ্চল্য ফিরতে শুরু করেছে। পরে সততা বাণিজ্যালয় নামের হিলি স্থলবন্দরের আরেক আমদানিকারকের ২৯ টন পেঁয়াজবোঝাই ট্রাক প্রবেশ করে। বিকাল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত দুই ট্রাকে ৫৯ টন পেঁয়াজ এসেছে।
বন্দরে পেঁয়াজ খালাসের দায়িত্বে নিয়োজিত সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট রাশেদুল ইসলাম বলেন, দেশের বাজারে পেঁয়াজের দাম নিয়ন্ত্রণে সরকার পণ্যটি আমদানির অনুমতি দিয়েছে। আমার আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান নওগাঁর জগদীশ চন্দ্র রায় আজ ৩০ টন এনেছেন। দ্রুত প্রক্রিয়া শেষ হলে খালাস করে আমদানিকারকের কাছে বুঝিয়ে দেওয়া হবে।
আমদানিকারক শহিদুল ইসলাম বলেন, পেঁয়াজ আমদানির অনুমতি দেওয়ায় আজ বিকাল থেকে বন্দর দিয়ে আমদানি শুরু হয়েছে। তবে ৩০ টন করে পেঁয়াজ আমদানির অনুমতি দেওয়ায় এলসি করাসহ অন্য খরচ বাড়তি লাগছে। এর ফলে আমদানি খরচ বাড়বে। এতে দেশের বাজারে দাম কমানোর স্বার্থে আমদানির অনুমতি দিলেও তা তেমন কাজে লাগবে না। তাই আমদানির পরিমাণের বাধ্যবাধকতা তুলে নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন আমদানিকারকরা।
হিলি স্থলবন্দরের উপসহকারী উদ্ভিদ সংগনিরোধ কর্মকর্তা ইউসুফ আলী বলেন, দেশের বাজারে পেঁয়াজের দাম নিয়ন্ত্রণে সরকার আমদানির অনুমতি দিয়েছে। রবিবার স্থলবন্দরের পাঁচ আমদানিকারক ৩০ টন করে সর্বমোট ১৫০ টন পেঁয়াজ আমদানির অনুমতি পেয়েছেন। ইতোমধ্যে এলসি খুলে জগদীশ চন্দ্র রায় ও সততা বাণিজ্যালয় নামের দুই আমদানিকারক ৫৯ টন পেঁয়াজ আমদানি করেছেন। দ্রুত পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে সার্টিফিকেট প্রদান করা হবে। এরপর তারা বন্দর থেকে পেঁয়াজ খালাস নিতে পারবেন।
প্রসঙ্গত, বন্দর দিয়ে সর্বশেষ ৩ মার্চ পেঁয়াজ আমদানি হয়েছিল। এরপর থেকে বাংলাদেশ সরকার পেঁয়াজ আমদানির অনুমতি বন্ধ রাখায় ভারত থেকে পণ্যটি আসা সম্পূর্ণরূপে বন্ধ ছিল।









