রংপুর-৪ আসনে কারচুপি আর ইঞ্জিনিয়ারিং করে স্বল্প ভোটের ব্যবধানে হারিয়ে দেওয়ার অভিযোগ তুলে ভোট পুনঃগণনার দাবিতে বিক্ষোভ করেছেন পরাজিত বিএনপি প্রার্থী এমদাদুল হক ভরসার নেতাকর্মীরা। শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) বেলা ১২টা থেকে দুপুর আড়াইটা পর্যন্ত রংপুরের কাউনিয়া উপজেলা সদরে বাস স্ট্যান্ড এলাকায় রংপুর-লালমনিরহাট-কুড়িগ্রাম মহাসড়ক করে বিক্ষোভ করেন তারা।
আড়াই ঘণ্টাব্যাপী অবরোধ কর্মসূচি পালনকালে মহাসড়কে সব ধরনের যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। দুই পাশে শত শত যানবাহন আটক পড়ে। পরে রংপুর বিভাগীয় বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক অধ্যক্ষ আসাদুল হাবিব দুলুর হস্তক্ষেপে অবরোধ তুলে নেওয়া হয়। সেই সঙ্গে রবিবার (১৫ ফেব্রুয়ারি) সকালের মধ্যে রংপুর-৪ আসনের ভোট পুনঃগণনা শুরু করা না হলে রংপুর জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় ঘেরাও ও অবস্থান কর্মসূচির ঘোষণা দেওয়া হয়।
সেখানে রংপুর-৪ আসনের বিএনপি প্রার্থী এমদাদুল হক ভরসা অভিযোগ করেন, নির্বাচনে ১১ দলের প্রার্থী এনসিপির সদস্য সচিব আখতার হোসেন রংপুরের রিটার্নিং কর্মকর্তা জেলা প্রশাসক এনামুল আহসানের সহযোগিতায় ভোটকেন্দ্র থেকে বিএনপির পোলিং বের করে ইঞ্জিনিয়ারিং করেন। এর মধ্য দিয়ে এনসিপি প্রার্থীকে বিজয়ী করা হয়। তাকে ৭ হাজারের ভোটের ব্যবধানে পরাজিত দেখানো হয়।
তিনি বলেন, ধানের শীষ মার্কার ৯ হাজারেও বেশি ভোট বাতিল করা হয়। সেই সঙ্গে বিপুল ভোটে বিএনপি জয়ী হলেও ইঞ্জিনিয়ারিং করে এনসিপি প্রার্থীকে জয়ী ঘোষণা করা হয়। বারবার বলা সত্ত্বেও ভোট পুনঃগণনা করা হচ্ছে না।
পরাজিত এ প্রার্থী বলেন, দাবি মানা না হলে আরও কঠোর আন্দোলন কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।
অবরোধ করে বিক্ষোভ চলার সময় রংপুর বিভাগীয় বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক ও লালমনিরহাট সদর আসনের নবনির্বাচিত এমপি অধ্যাক্ষ আসাদুল হাবিব দুলু সেখানে এসে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে সংহতি প্রকাশ করেন।
তিনি বলেন, মহাসড়ক অবরোধ করে জনদুর্ভোগ করার প্রয়োজন নেই। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন তিনি। এ সময় হাজারও নেতাকর্মীদের সামনে এমদাদুল হক ভরসা বিএনপি নেতার গলা জড়িয়ে হাউমাউ করে কাঁদতে থাকেন। তিনি বলেন, তাকে পরিকল্পিতভাবে পরাজিত দেখানো হয়েছে। এ সময় তিনি ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ভোট পুনঃগণনা করা না হলে কঠোর আন্দোলন গড়ে তোলার হুঁশিয়ারি দেন।









