বাঁধ ভেঙে হাওরে ঢুকেছে পানি, ২ কোটি টাকার ফসল নষ্টের শঙ্কা

হিমাদ্রি শেখর ভদ্র, সুনামগঞ্জ
০২ এপ্রিল ২০২২, ১৯:৪১আপডেট : ০২ এপ্রিল ২০২২, ১৯:৪১

উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে পাটলাই নদীর পানি উপচে সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলার নজরখালি বাঁধ ভেঙে তলিয়ে গেছে ১৬০ হেক্টর জমির ফসল। সেই সঙ্গে উপজেলার শ্রীপুর উত্তর ও দক্ষিণ ইউনিয়নের গোলাবাড়ি, ছিলাইন তাহিরপুর, মান্দিয়াতা, রংচি, ইন্দ্রপুর, বাগলি, জয়পুর, লামাগাঁও ও রামসিমপুরসহ ১০ গ্রামের দুই হাজার কৃষকের ফসলি জমির ধান তলিয়ে গেছে। এতে দুই কোটি টাকার ফসল নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

শনিবার (২ এপ্রিল) সকালে পাটলাই নদীর পানির চাপে বাঁধটি ভেঙে যায়। গত কয়েকদিন হাওর পাড়ের কৃষকরা বাঁধটি রক্ষার চেষ্টা চালিয়ে আসছিলেন। 

গোলাবাড়ি গ্রামের হাবিবুর রহমান বলেন, ‘সকালে তাহিরপুর সীমান্তের বিভিন্ন পাহাড়ি ছড়া দিয়ে পানি এসে পাটলাই নদীর পানি বেড়ে যায়। বাঁধের ওপর দিয়ে পানি বেয়ে যায়। এর কিছুক্ষণ পর বাঁধ ভেঙে ফসল তলিয়ে যায়।’ 

সোলেমানপুর গ্রামের তানভীর আহমদ বলেন, ‘সাত দিন পর হাওরের ফসল কাটা যেতো। কিন্তু পাহাড়ি ঢলে বাঁধ ভেঙে হাওরে পানি ঢোকায় আমরা ক্ষতিগ্রস্ত হলাম।’

ছিলাইন তাহিরপুর গ্রামের সেলিম মিয়া বলেন, ‘এই হাওরে পানি উন্নয়ন বোর্ড কোনও বাঁধ দেয়নি। স্থানীয়রা টাকা দিয়ে বাঁধ দিয়েছেন। ওই বাঁধ ভেঙে ফসল তলিয়ে গেছে আমাদের।’

আরও পড়ুন: ভেঙেছে টাঙ্গুয়া হাওরের ফসল রক্ষা বাঁধ, ডুবছে ১২০ হেক্টর জমির ধান

তাহিরপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা হাসান উদ দৌলা বলেন, ‘টাঙ্গুয়ার হাওরে কৃষি জমির পরিমাণ খুবই কম। এটি মাছের অভয়াশ্রম। বাঁধ ভেঙে যাওয়ায় কৃষকের দুই কোটি টাকার ফসল নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।’ 

তাহিরপুর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান করুণা সিন্ধু চৌধুরী বাবুল বলেন, ‘টাঙ্গুয়ার হাওর একটি রামসার সাইট। এখানে বাঁধ দেওয়া নিষেধ। তারপরও উপজেলা পরিষদের উদ্যোগে পানির প্রাথমিক চাপ কমাতে ছোট একটি বাঁধ দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু বাঁধ টেকেনি। এটি সংস্কার করা হবে না।’

তাহিরপুর প্রেসক্লাবের সভাপতি রমেন্দ্র নারায়ণ বৈশাখ বলেন, ‘বাঁধ ভেঙে হাওরের অনেক কৃষকের ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। হাওরে পানি ঢোকায় তাহিরপুর ও মধ্যনগর উপজেলার শনি হাওর, মাটিয়ান হাওর ও মহালিয়ার হাওরসহ কিছু বাঁধে পানির চাপ কমবে। এসব হাওর রক্ষা পাবে। এরই মধ্যে যাদুকাটা নদীর পানি কমতে শুরু করেছে।’

তাহিরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রায়হান কবির বলেন, ‘টাঙ্গুয়ার হাওরে বাঁধ দেওয়ার নিয়ম নেই। এটি মূলত মাছের হাওর। প্রতিবছর স্থানীয়রা নিজেদের অর্থায়নে বাঁধ দেয়। হাওরে কৃষি জমির পরিমাণ কম। মেঘালয় পাহাড়ের ছড়া দিয়ে পাটলাই নদীর পানি বেড়ে বাঁধটি ভেঙে গেছে। এটি মেরামত কিংবা সংস্কারের সুযোগ নেই। পরে ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা করে সহযোগিতা করা হবে।’ 

সিলেট পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী প্রবীর কুমার গোস্বামী বলেন, ‘টাঙ্গুয়ার হাওরে বাঁধ দেওয়ার নিয়ম নেই। কখনও পানি উন্নয়ন বোর্ড এখানে বাঁধ দেয় না। স্থানীয়রা প্রতিবছর নিজেদের উদ্যোগে বাঁধ দেন। এবারও বাঁধ দিয়েছেন। কিন্তু বাঁধ টেকেনি। গেলো কয়েক বছর ধরে হাওরের এসব জমিতে ধান ফলানো হয়।’

 

/এএম/
সম্পর্কিত
সর্বশেষ খবর
হজে গিয়ে পাসপোর্ট হারালে যা করবেন
হজে গিয়ে পাসপোর্ট হারালে যা করবেন
রাস্তায় তোশক আর মুখে মুখ, দিল্লির আগুনে যেভাবে ‘হিরো’ হলেন স্থানীয়রা
রাস্তায় তোশক আর মুখে মুখ, দিল্লির আগুনে যেভাবে ‘হিরো’ হলেন স্থানীয়রা
সান মারিনোর বিপক্ষে জয় ছিনিয়ে আনতে চায় বাংলাদেশ 
সান মারিনোর বিপক্ষে জয় ছিনিয়ে আনতে চায় বাংলাদেশ 
আদ দ্বীন হাসপাতাল বন্ধ নাকি ত্রুটি সংশোধন, কী ব্যবস্থা নিচ্ছে সরকার
আদ দ্বীন হাসপাতাল বন্ধ নাকি ত্রুটি সংশোধন, কী ব্যবস্থা নিচ্ছে সরকার
সর্বাধিক পঠিত
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম দুই ওয়ানডের দল ঘোষণা বাংলাদেশের
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম দুই ওয়ানডের দল ঘোষণা বাংলাদেশের
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ
হতাশা থেকে আত্মহত্যা বাংলাদেশ ব্যাংকের অতিরিক্ত পরিচালকের, ধারণা পুলিশের
হতাশা থেকে আত্মহত্যা বাংলাদেশ ব্যাংকের অতিরিক্ত পরিচালকের, ধারণা পুলিশের
মমতার বিরুদ্ধে বিদ্রোহে সফল ঋতব্রত, নেপথ্যে কী
মমতার বিরুদ্ধে বিদ্রোহে সফল ঋতব্রত, নেপথ্যে কী