কর্মসংস্থানের উপযোগী দক্ষতা অর্জনে চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে ২ লাখ ২৫ হাজার ৩৩৬ জনকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে সরকারের ‘অ্যাকসেলারেটিং অ্যান্ড স্ট্রেংদেনিং স্কিলস ফর ইকোনমিক ট্রান্সফরমেশন’ বা অ্যাসেট প্রকল্পের আওতায়। এর মধ্যে নারী প্রশিক্ষণার্থীর সংখ্যাই বেশি। মোট প্রশিক্ষণার্থীর ৫৭ দশমিক ৯০ শতাংশ নারী।
মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) শিক্ষা মন্ত্রণালয় জানায়, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি থেকে আগস্ট পর্যন্ত শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের অধীন কারিগরি শিক্ষা অধিদফতরের মাধ্যমে এ প্রশিক্ষণ কার্যক্রম পরিচালিত হয়।
প্রকল্পের তথ্য অনুযায়ী, প্রশিক্ষণ সম্পন্নকারীদের মধ্যে নারী ১ লাখ ৩০ হাজার ৪৭০ জন এবং পুরুষ ৯৪ হাজার ৮৬৬ জন। অর্থাৎ পুরুষের তুলনায় নারী প্রশিক্ষণার্থীর সংখ্যা ৩৫ হাজার ৬০৪ জন বেশি। প্রশিক্ষণ নেওয়াদের মধ্যে ৪ হাজার ৮০ জন ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর সদস্য এবং ৭৭৯ জন প্রতিবন্ধী ব্যক্তি রয়েছেন।
কর্মসংস্থানের বাজারে প্রয়োজনীয় দক্ষতা তৈরির লক্ষ্যে প্রকল্পটির আওতায় দুই ধরনের প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। এর একটি প্রতিষ্ঠানভিত্তিক স্বল্পমেয়াদি প্রশিক্ষণ, অন্যটি শিল্প ও কর্মক্ষেত্রভিত্তিক প্রশিক্ষণ।
প্রতিষ্ঠানভিত্তিক প্রশিক্ষণে ২১ হাজারের বেশি
৩৬০ ঘণ্টার প্রতিষ্ঠানভিত্তিক স্বল্পমেয়াদি প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করেছেন ২১ হাজার ৭০২ জন। সরকারি টেকনিক্যাল স্কুল অ্যান্ড কলেজ, সরকারি কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, বাংলাদেশ শিল্প কারিগরি সহায়তা কেন্দ্র (বিটাক), আঞ্চলিক জনসংখ্যা প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট, আঞ্চলিক প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, বিশেষায়িত সরকারি কারিগরি প্রতিষ্ঠান এবং নির্বাচিত বেসরকারি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে এসব প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে।
এ প্রশিক্ষণে হাতে-কলমে কাজ শেখানো, ব্যবহারিক অনুশীলন এবং বিভিন্ন পেশার জন্য প্রয়োজনীয় কারিগরি দক্ষতা অর্জনের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এ ধরনের প্রশিক্ষণ সম্পন্নকারীদের মধ্যে নারী ছিলেন ৩৮ দশমিক ৮৭ শতাংশ।
কর্মক্ষেত্রভিত্তিক প্রশিক্ষণেও নারীর অংশগ্রহণ বেশি
অন্যদিকে শিল্পখাতের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও সংগঠনের মাধ্যমে কর্মক্ষেত্রভিত্তিক প্রশিক্ষণ নিয়েছেন ২ লাখ ৩ হাজার ৬৩৪ জন। তাদের মধ্যে ৫৯ দশমিক ৯৩ শতাংশই নারী।
দেশের বিভিন্ন শিল্প দক্ষতা কাউন্সিল, শিল্প সমিতি এবং চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির মাধ্যমে এসব প্রশিক্ষণ পরিচালিত হয়েছে।
প্রশিক্ষণের ধরন অনুযায়ী কোনও কোনও ক্ষেত্রে পুরো কার্যক্রমই শিল্পকারখানার বাস্তব কর্মপরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়েছে। আবার কোনো কোনো ক্ষেত্রে ৫০ শতাংশ প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানে এবং বাকি ৫০ শতাংশ শিল্পকারখানায় শিক্ষানবিশির মাধ্যমে সম্পন্ন হয়েছে।
মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এর ফলে প্রশিক্ষণার্থীরা নির্দিষ্ট পেশার কারিগরি দক্ষতার পাশাপাশি বাস্তব কর্মপরিবেশ, আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার, উৎপাদনব্যবস্থা, কর্মক্ষেত্রের শৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা সম্পর্কে অভিজ্ঞতা অর্জনের সুযোগ পেয়েছেন।
কর্মদক্ষতা অর্জনে নারীদের আগ্রহ
প্রকল্পসংশ্লিষ্টরা বলছেন, কর্মমুখী দক্ষতা উন্নয়ন কার্যক্রমে নারীদের ব্যাপক অংশগ্রহণ একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক। বিশেষ করে শিল্প ও কর্মক্ষেত্রভিত্তিক প্রশিক্ষণে নারী প্রশিক্ষণার্থীর সংখ্যা বেশি হওয়ায় কর্মসংস্থানের জন্য প্রয়োজনীয় দক্ষতা অর্জনে নারীদের আগ্রহ ও অংশগ্রহণের বিষয়টি সামনে এসেছে।
প্রশিক্ষণ শেষে জাতীয় দক্ষতা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (এনএসডিএ) মাধ্যমে প্রশিক্ষণার্থীদের মূল্যায়ন ও সনদায়ন করা হচ্ছে।
২০২৮ সাল পর্যন্ত বাড়লো প্রকল্পের মেয়াদ
এদিকে প্রকল্পের অর্জন ধরে রাখা এবং পুনর্গঠিত কর্মপরিকল্পনার আওতায় বর্ধিত লক্ষ্যমাত্রা বাস্তবায়নে অ্যাসেট প্রকল্পের মেয়াদ আরও ১৮ মাস বাড়ানো হয়েছে।
সরকারের গত ২৬ এপ্রিলের অনুরোধের পরিপ্রেক্ষিতে উন্নয়ন সহযোগী বিশ্বব্যাংক গত ২৯ জুলাই প্রকল্পের মেয়াদ বৃদ্ধি ও পুনর্গঠনে আনুষ্ঠানিক সম্মতি দেয়। ফলে প্রকল্পটির মেয়াদ ২০২৮ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে।
বর্ধিত সময়ে কর্মসংস্থানের চাহিদা ও ভবিষ্যৎ শ্রমবাজারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে কর্মমুখী দক্ষতা উন্নয়ন প্রশিক্ষণের পরিধি আরও বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে। বিশেষ করে নারী, ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী, প্রতিবন্ধী ব্যক্তি ও পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর অংশগ্রহণ বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হবে।
একই সঙ্গে প্রশিক্ষণার্থী নির্বাচন ও নিবন্ধনে স্বচ্ছতা, ডিজিটাল তথ্য ব্যবস্থাপনা, প্রশিক্ষণের অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ এবং প্রশিক্ষণের গুণগত মান নিশ্চিত করতে আরও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছে সংশ্লিষ্টরা।









