বিগত প্রায় দুই যুগেরও বেশি সময় ধরে বিদেশি নাগরিকদের মাধ্যমে দেশের সংস্কৃতি, ইতিহাস ও ঐতিহ্যকে নিয়মিতভাবে টিভি পর্দায় তুলে ধরছেন বরেণ্য নির্মাতা-সঞ্চালক হানিফ সংকেত। এবারের ঈদ ‘ইত্যাদি’তেও তার ব্যতিক্রম থাকছে না। বরং এবারের আয়োজনটি আরও জাঁকালো হলো। সম্প্রতি শুটিংয়ে বাংলাদেশের সংস্কৃতিকে ঘিরে নানা আয়োজনে দিনভর মেতেছিলো অর্ধশতাধিক বিদেশি।
এমনটাই জানিয়েছে নির্মাণ প্রতিষ্ঠান ফাগুন অডিও ভিশন।
হানিফ সংকেত জানান, বিদেশিদের মাধ্যমে দেশের সংস্কৃতি ছড়িয়ে পড়ছে বিশ্বের নানা প্রান্তে। বিদেশিদের নিয়ে তাদের মাতৃভাষার বদলে বাংলা ভাষায় গ্রামের সহজ-সরল মানুষের চরিত্রে অভিনয় করিয়ে তুলে ধরা হয় লোকজ সংস্কৃতি, গ্রামীণ কুসংস্কার, বিভিন্ন অসঙ্গতি, সামাজিক সমস্যা, গ্রামীণ খেলাধুলা ইত্যাদি। এবারও তাই থাকছে আরও বিস্তৃত আয়োজনে।
এবারের পর্বে অংশগ্রহণ করেছেন যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, স্পেন, নেদারল্যান্ডস্, অস্ট্রেলিয়া, দক্ষিণ আফ্রিকা, চীন, জাপান, কোরিয়া, সুইজারল্যান্ড, নরওয়ে, সুইডেনসহ বিভিন্ন দেশের অর্ধশতাধিক নাগরিক। যারা এ দেশে বিভিন্ন দূতাবাস ও বিদেশি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে কর্মরত রয়েছেন।
বর্তমান প্রযুক্তি নির্ভর বিশ্বে মানুষের দৈনন্দিন জীবন এখন অনেকটা স্মার্টফোন নির্ভর। যার ছোঁয়া এখন গ্রামীণ জনপদেও পৌঁছে গেছে। সবার হাতে হাতে স্মার্টফোন। গ্রামীণ জনপদে এর ব্যবহার ও অপব্যবহারের ওপর করা হয়েছে এবারের বিদেশি পর্ব। পাশাপাশি রয়েছে বিদেশিদের অংশগ্রহণে চিত্ত দোলানো নৃত্য।
হানিফ সংকেত বলেন, ‘মাত্র কয়েকদিনের পরিচয়ে বিদেশিদের সাথে যে আত্মিক বন্ধন তৈরি হয় তা কখনোই ভোলার নয়।’
বিদেশিদের সঙ্গে কাজ করতে গিয়ে অভিজ্ঞতার কথা জানতে চাইলে এই নির্মাতা-সঞ্চালক বলেন, ‘ওরা অপেশাদার তবে অনেক পেশাদার শিল্পীরও ওদের কাছ থেকে অনেক কিছু শেখার আছে। বিশেষ করে বিদেশিদের সময়জ্ঞান, নিষ্ঠা, একাগ্রতা, কষ্ট সহিষ্ণুতা, আন্তরিকতা দেখে আমি মুগ্ধ।’
প্রতিবারের মতো এবারও ঈদের বিশেষ ‘ইত্যাদি’ একযোগে বিটিভি ও বিটিভি ওয়ার্ল্ডে প্রচার হবে ঈদের পরদিন রাত ৮টার বাংলা সংবাদের পর। যথারীতি অনুষ্ঠানটির চিত্রনাট্য রচনা, পরিচালনা ও উপস্থাপনা করেছেন হানিফ সংকেত।









