হিন্দি চলচ্চিত্রের কিংবদন্তি চিত্রনাট্যকার সেলিম খান (৯০) বর্তমানে ভেন্টিলেটরে রয়েছেন। মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) তার মস্তিষ্কে সামান্য রক্তক্ষরণ ধরা পড়ে। মুম্বাইয়ের লীলাবতী হাসপাতালে ভর্তি করার পর আজ (১৮ ফেব্রুয়ারি) সকালে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা পদ্ধতি সম্পন্ন করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন তার চিকিৎসক ডা. জালিল পারকার।
বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) স্বাস্থ্য বুলেটিনে ডা. পারকার জানান, ‘‘মস্তিষ্কে খুব সামান্য রক্তক্ষরণ হয়েছে। আজ সকালে ‘ডিএসএ’ নামের একটি বিশেষ পরীক্ষা ও চিকিৎসা পদ্ধতি সম্পন্ন করা হয়েছে। অস্ত্রোপচারের প্রয়োজন হয়নি। তিনি এখনও ভেন্টিলেটরে আছেন। আশা করছি, আগামীকাল ভেন্টিলেটর থেকে সরানো যাবে। বয়সের কথা মাথায় রাখলে সুস্থ হতে কিছুটা সময় লাগবে।”
তিনি আরও বলেন, ‘সেলিম খান স্থিতিশীল আছেন। সার্বিকভাবে বলা যায়, তিনি ভালো আছেন।’
ভর্তি হওয়ার সময় উচ্চ রক্তচাপ, হঠাৎ ঝাঁকুনি দেখা গিয়েছে। চিকিৎসকের ভাষ্য অনুযায়ী, হাসপাতালে আনার সময় সেলিম খানের রক্তচাপ বেশ উচ্চ ছিল এবং তিনি শরীরে হালকা ঝাঁকুনির মতো উপসর্গ অনুভব করছিলেন। দ্রুত তাকে জরুরি বিভাগে ভর্তি করে প্রয়োজনীয় প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়।
পারিবারিক চিকিৎসক ডা. সন্দীপ চোপড়া মঙ্গলবার সকালে সেলিম খানকে লীলাবতী হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে যান। প্রাথমিক পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে স্থানান্তর করা হয়।
ডা. পারকার বলেন, ‘আমরা কিছু গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা করতে চেয়েছিলাম। সেই কারণেই সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে তাকে ভেন্টিলেটরে রাখা হয়েছে, যাতে অবস্থার অবনতি না ঘটে।’
চিকিৎসক আরও স্পষ্ট করে জানান, বিভিন্ন গণমাধ্যমে যেভাবে তার শারীরিক অবস্থাকে অত্যন্ত সংকটজনক বলা হচ্ছিল, বাস্তবে পরিস্থিতি ততটা গুরুতর ছিল না।
বর্তমানে স্নায়ুরোগ বিশেষজ্ঞ ও হৃদরোগ বিশেষজ্ঞসহ একটি উচ্চপর্যায়ের চিকিৎসক দল সার্বক্ষণিকভাবে সেলিম খানের শারীরিক অবস্থা পর্যবেক্ষণ করছে।
এদিকে সেলিম খানের অসুস্থতার খবর ছড়িয়ে পড়তেই পরিবারের সদস্যরা হাসপাতালে ছুটে যান। তার সন্তানদের মধ্যে অভিনেতা সালমান খান, আরবাজ খান এবং কন্যা আলভিরা খান উপস্থিত হন। এমনকি হাসপাতালে সালমানের সঙ্গে দেখা গেছে তার প্রেমিকা লুলিয়া ভান্তুরকেও!
সেলিম খানের দীর্ঘদিনের লেখক-সঙ্গী জাভেদ আখতার এবং অভিনেতা সঞ্জয় দত্ত মঙ্গলবার রাতে হাসপাতালে গিয়ে খোঁজখবর নেন।
সেলিম খান হিন্দি চলচ্চিত্রের ইতিহাসে অন্যতম প্রভাবশালী চিত্রনাট্যকার। জাভেদ আখতারের সঙ্গে জুটি বেঁধে তিনি উপহার দিয়েছেন অসংখ্য কালজয়ী চলচ্চিত্রের গল্প ও চিত্রনাট্য। তাদের যৌথ সৃষ্ট চরিত্র ও সংলাপ হিন্দি মূলধারার সিনেমাকে নতুন ধারা দিয়েছে।
বর্তমানে চিকিৎসকেরা আশাবাদী, দ্রুত সাড়া দিলে তিনি শিগগিরই ভেন্টিলেটর থেকে মুক্ত হবেন। তবে বয়সজনিত কারণে পুরোপুরি সুস্থ হতে কিছুটা সময় লাগতে পারে।
সূত্র: এনডিটিভি








