বাংলাদেশের নাগরিকত্ব ও কক্সবাজারে জমি পেয়েছিলেন আলী

বিদেশ ডেস্ক
০৪ জুন ২০১৬, ২৩:১৬আপডেট : ০৪ জুন ২০১৬, ২৩:২৬
image

আজ থেকে প্রায় ৩৮ বছর আগে মোহাম্মদ আলী এসেছিলেন বাংলাদেশে। ১৯৭৮ সালে স্ত্রী ভেরোনিকাকে সঙ্গে নিয়ে এক সপ্তাহের সফরে বাংলাদেশে আসেন তিনি। তখন সদ্য স্বাধীন বাংলাদেশের বয়স মাত্র সাত বছর। তাকে সম্মাননা জানাতে দেওয়া হয় বাংলাদেশের নাগরিকত্ব। সেই সঙ্গে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে কক্সবাজারে তাকে দেওয়া হয় ২ একর জমি।

আলী ও ভেরোনিকা

বাংলাদেশে মোহাম্মদ আলীর সফর নিয়ে একটি তথ্যচিত্র নির্মিত হয়। যার নাম – ‘মোহাম্মদ আলী গোজ ইস্ট: বাংলাদেশ, আই লাভ ইউ’। সেই তথ্যচিত্রে পুরো সফরের বিবরণ উঠে আসে।

ওই তথ্যচিত্রের ভিডিওতে দেখা যায়, ঢাকায় হাজার হাজার মানুষ তাকে স্বাগত জানাচ্ছেন। ঢাকায় পৌঁছার পর তাকে স্বাগত জানাতে প্রায় ২০ লাখ মানুষ উপস্থিত হয়েছিলেন।

বাংলাদেশের বেশ কয়েকটি নয়নাভিরাম স্থানে তিনি ভ্রমণ করেন। এর মাঝে রয়েছে সুন্দরবন, সিলেট, রাঙ্গামাটি ও কক্সবাজার। সেই সময় বাংলাদেশের নাগরিকত্ব দেওয়া হয়েছিল মোহাম্মদ আলীকে। কক্সবাজারের কলাতলিতে দেওয়া হয় ২ একর জমি। তিনি এর প্রতিক্রিয়ায় বলেন, ‘যদি আমাকে আমেরিকা থেকে তাড়িয়ে দেওয়া হয়, তাহলে এখন আমার আরেকটি বাড়ি আছে।’

আলীর সেই বক্সিং ম্যাচ

সফরে ঢাকা স্টেডিয়ামে এক বক্সিং ম্যাচে অংশ নিয়েছিলেন তিনি। ১২ বছরের এক বাঙালি ছেলে সেই ম্যাচে আলীর বিরুদ্ধে বক্সিংয়ে নেমেছিলেন। আলীকে সম্মান জানাতে বাংলাদেশের বক্সিং স্টেডিয়াম তার নামে নামকরণ করা হয়।

বাংলাদেশে এসে অত্যন্ত গর্বিত ও খুশি হয়েছিলেন আলী। ফিরে গিয়ে তিনি সবাইকে বলেছিলেন, ‘স্বর্গ দেখতে চাইলে বাংলাদেশে যাও।’

তবে এখন আর চাইলেও বাংলাদেশে ফেরা হবে না তার। তবে মানবিকতা আর ন্যায়পরায়ণতার প্রতীক ওই মানুষটির বাংলাদেশ সফরের স্মৃতি আজও বহন করে আছে বাংলাদেশ নামের সেই ‘স্বর্গ’।

১৯৪২ সালের ১৭ জানুয়ারি কেন্টাকির লুইসভিলায় জন্মগ্রহণ করা মোহাম্মদ আলী গত বৃহস্পতিবার (২ জুন) থেকে অ্যারিজোনার ফিনিক্সের এক হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন। তার শ্বাসতন্ত্রের জটিলতা তৈরি হয়েছিল বলে জানান চিকিৎসকরা। অবস্থার অবনতি ঘটছিল হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পর থেকেই। শুক্রবার রাতে ৭৪ বছর বয়সে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন সর্বকালের সেরা বা ‘দ্য গ্রেটেস্ট বক্সার’ হিসেবে পরিচিত এই তারকা।

৩৮ বছর আগে বাংলাদেশের সঙ্গে যে নিবিড় বাঁধনে জড়িয়েছিলেন কিংবদন্তি এ বক্সার, না ফেরার দেশে চলে যাওয়ার পরও তা আলগা হয়নি। আলী মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছেন রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, বিরোধীদলীয় নেতা রওশন এরশাদ ও বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বাংলাদেশের ব্যবহারকারীরাও আলীর বিভিন্ন মন্তব্য-ছবি-বক্তব্য এবং তাকে নিয়ে নিজেদের অনুভূতি প্রকাশ করেছেন।

সূত্র: ইন্টারন্যাশনাল বিজনেস টাইমস।

/এসএ/এএ/

সম্পর্কিত
সর্বশেষ খবর
ফ্রিল্যান্সারদের আয় থেকে সাড়ে ৭ শতাংশ কর কাটা নিয়ে যা বলছে এনবিআর 
ফ্রিল্যান্সারদের আয় থেকে সাড়ে ৭ শতাংশ কর কাটা নিয়ে যা বলছে এনবিআর 
কনটেন্ট ক্রিয়েটরদের আয়ে ৭.৫% কর নেওয়ার অভিযোগ, স্পষ্ট করার দাবি সারজিসের
কনটেন্ট ক্রিয়েটরদের আয়ে ৭.৫% কর নেওয়ার অভিযোগ, স্পষ্ট করার দাবি সারজিসের
ভাতের সঙ্গে জমবে মজাদার সরষে সবজি
ভাতের সঙ্গে জমবে মজাদার সরষে সবজি
মার্কিন যুদ্ধবিরতি প্রত্যাখ্যান হিজবুল্লাহর, চলছে ইসরায়েলি হামলা
মার্কিন যুদ্ধবিরতি প্রত্যাখ্যান হিজবুল্লাহর, চলছে ইসরায়েলি হামলা
সর্বাধিক পঠিত
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ
দায়িত্ব ছাড়ার প্রসঙ্গে হুমায়ুন রশীদ চৌধুরীর উদাহরণ টানলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী
দায়িত্ব ছাড়ার প্রসঙ্গে হুমায়ুন রশীদ চৌধুরীর উদাহরণ টানলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী
হতাশা থেকে আত্মহত্যা বাংলাদেশ ব্যাংকের অতিরিক্ত পরিচালকের, ধারণা পুলিশের
হতাশা থেকে আত্মহত্যা বাংলাদেশ ব্যাংকের অতিরিক্ত পরিচালকের, ধারণা পুলিশের
মমতার বিরুদ্ধে বিদ্রোহে সফল ঋতব্রত, নেপথ্যে কী
মমতার বিরুদ্ধে বিদ্রোহে সফল ঋতব্রত, নেপথ্যে কী