চীনের সঙ্গে বাণিজ্যযুদ্ধ, নির্বাচনে খেসারত গুনতে হবে ট্রাম্পকে

বিদেশ ডেস্ক
০১ আগস্ট ২০১৯, ১৪:২৪আপডেট : ০১ আগস্ট ২০১৯, ১৭:৩২

২০২০ সালে অনুষ্ঠিতব্য যুক্তরাষ্ট্রের পরবর্তী প্রেসিডেন্ট নির্বাচনেও প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে চাইছেন দেশটির বর্তমান প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। নিজ দল থেকে তার প্রার্থিতাও বলা চলে প্রায় নিশ্চিত। তবে চীনের বিরুদ্ধে তিনি যে বাণিজ্যযুদ্ধ শুরু করেছেন, শেষ পর্যন্ত মার্কিন নির্বাচনেই তাকে এর খেসারত গুনতে হবে বলে প্রতীয়মান হচ্ছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের যেসব অঙ্গরাজ্য উল্লেখযোগ্য পরিমাণে সয়াবিন উৎপাদন করে সেসব রাজ্যে নির্বাচনি বৈতরণী পার হওয়ার ট্রাম্পের জন্য কঠিন হয়ে পড়বে। কেননা, যুক্তরাষ্ট্রের সয়াবিন রফতানির ৬০ শতাংশই হয় চীনে। কিন্তু ট্রাম্পের বাণিজ্যযুদ্ধের প্রতিক্রিয়ায় চীনে মার্কিন সয়াবিন রফতানিতে ধস নেমেছে। ফলে শস্য বিক্রি করতে না পারায় চরম আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন কৃষকরা। ক্ষোভে ট্রাক্টর দিয়ে ক্ষেতের ফসল নষ্ট করে দিচ্ছেন অনেক কৃষক। পর্যাপ্ত সংরক্ষণাগারের অভাবে পচে যাচ্ছে অনেকের শস্য। ফলে স্বাভাবিকভাবেই সয়াবিন উৎপাদনকারী রাজ্যগুলোতে তার কাঙ্ক্ষিত ভোট পাওয়া অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। অথচ ২০১৬ সালের নির্বাচনে এসব রাজ্যে ভালো ফলাফল করেছিল ট্রাম্পের দল ক্ষমতাসীন রিপাবলিকান পার্টি। ডোনাল্ড ট্রাম্প
ট্রাম্পের নীতির ফলে বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়েছেন এসব রাজ্যের কৃষকরা। ফলে সঙ্গত কারণেই আগামী নির্বাচনে ফের ট্রাম্পের প্রতি রায় দিতে হয়তো দ্বিতীয়বার ভাবনার অবকাশ থাকবে তাদের। কেননা, বিদেশি পণ্যে শুল্কের পরিমাণ বাড়িয়ে যে বাণিজ্যযুদ্ধ শুরু করেছে হোয়াইট হাউজ, তার প্রত্যক্ষ শিকারে পরিণত হয়েছেন তারা। বিষয়টি নিয়ে ইতোমধ্যেই চিন্তার ভাঁজ পড়েছে যুক্তরাষ্ট্রের রিপাবলিকান শিবিরে।

৩১ জুন ক্লিভল্যান্ড ডটকমে লেখা এক কলামে বিষয়টির অবতারণা করেন রিপাবলিকান পার্টির একজন সিনিয়র রাজনীতিক।

ওই রাজনীতিক ডেভ ডডসন বলেন, রিপাবলিকান পার্টির ২০২০ সালের নির্বাচনি মানচিত্র অনেকটা দেশের সয়াবিন উৎপাদনের মানচিত্রের মতো দেখাচ্ছে। ২০১৬ সালের নির্বাচনে সয়াবিন উৎপাদনকারী শীর্ষ ১০ রাজ্যে সফলতা পেয়েছিলেন তিনি। কিন্তু আইওয়া ও ওহাইওর মতো অঙ্গরাজ্যে তার রেটিং এখন নেতিবাচক। নর্থ ডাকোতা এবং নেব্রাস্কাতেও জনপ্রিয়তা হারিয়েছেন ট্রাম্প। ২০১৬ সালের নির্বাচনে জিতলেও ইতোমধ্যেই এ দুই রাজ্যে তার সমর্থন কমেছে ১৭ থেকে ২২ শতাংশ।

বর্তমানে স্ট্যানফোর্ড গ্র্যাজুয়েট স্কুল অব বিজনেস-এ শিক্ষকতা করছেন ডেভ ডডসন। তার মতে, মার্কিন সয়াবিন চাষিদের জন্য এ বাণিজ্যযুদ্ধের প্রতিক্রিয়া হবে দীর্ঘমেয়াদি। তাদের প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে ভুগতে হবে। এখন ভোটের মাঠে নিজেদের পকেটের দিকে তাকিয়ে যদি এই কৃষক সম্প্রদায় সিদ্ধান্ত নেয় তাহলে ২০২০ সালের নির্বাচনে ২৭০টি ইলেকটোরাল ভোট জিতে ফের ক্ষমতায় আসা ট্রাম্পের জন্য খুবই কঠিন হয়ে পড়বে। সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি।

/এমপি/এমওএফ/
সম্পর্কিত
ইরানের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্নে মার্কিন চাপ মানছে না ওমান
ট্রাম্প ও নেতানিয়াহু কি এখন দুই পথের পথিক?
ইরানে বিভেদ সৃষ্টির চেষ্টা করছে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল: খামেনি
সর্বশেষ খবর
অতিরিক্ত আইজিপি হলেন ৫ ডিআইজি
অতিরিক্ত আইজিপি হলেন ৫ ডিআইজি
পুষ্টিগুণে ভরপুর পাঁচমিশালি সবজি ঘণ্ট
পুষ্টিগুণে ভরপুর পাঁচমিশালি সবজি ঘণ্ট
একদিনে হামে আরও ৪ মৃত্যু
একদিনে হামে আরও ৪ মৃত্যু
ইরানের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্নে মার্কিন চাপ মানছে না ওমান
ইরানের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্নে মার্কিন চাপ মানছে না ওমান
সর্বাধিক পঠিত
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ
হতাশা থেকে আত্মহত্যা বাংলাদেশ ব্যাংকের অতিরিক্ত পরিচালকের, ধারণা পুলিশের
হতাশা থেকে আত্মহত্যা বাংলাদেশ ব্যাংকের অতিরিক্ত পরিচালকের, ধারণা পুলিশের
দায়িত্ব ছাড়ার প্রসঙ্গে হুমায়ুন রশীদ চৌধুরীর উদাহরণ টানলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী
দায়িত্ব ছাড়ার প্রসঙ্গে হুমায়ুন রশীদ চৌধুরীর উদাহরণ টানলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী
মমতার বিরুদ্ধে বিদ্রোহে সফল ঋতব্রত, নেপথ্যে কী
মমতার বিরুদ্ধে বিদ্রোহে সফল ঋতব্রত, নেপথ্যে কী