ভারতের লোকসভায় ‘মুসলিমবিরোধী’ নাগরিকত্ব বিল পাস

বিদেশ ডেস্ক
১০ ডিসেম্বর ২০১৯, ১২:৪৬আপডেট : ১০ ডিসেম্বর ২০১৯, ১৫:১২

ভারতের বিতর্কিত নাগরিকত্ব সংশোধনী বিলে অনুমোদন দিয়েছে দেশটির পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষ লোকসভা। সোমবার মধ্যরাতে লোকসভার অনুমোদন পায় ‘দ্য সিটিজেনশিপ (অ্যামেন্টমেন্ট) বিল, ২০১৯’ শীর্ষক এ বিল। বাংলাদেশ, পাকিস্তান ও আফগানিস্তান থেকে যাওয়া অমুসলিম শরণার্থীদের নাগরিকত্ব দিতে লোকসভায় এটি উত্থাপন করে ক্ষমতাসীন হিন্দু জাতীয়তাবাদী ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) নেতৃত্বাধীন সরকার। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির এক প্রতিবেদনে বিলটিকে ‘মুসলিমবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে। ভারতের লোকসভায় ‘মুসলিমবিরোধী’ নাগরিকত্ব বিল পাস
লোকসভায় দেওয়া বক্তব্যে ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ বলেন, ১৯৪৭ সালে ধর্মের ভিত্তিতে দেশভাগ করেছিল কংগ্রেস। এই কারণেই এখন এই বিল আনতে হয়েছে।

অমিত শাহ বলেন, ‘আমাদের কেন এই বিল নিয়ে আসতে হলো? স্বাধীনতার সময় যদি ধর্মের ভিত্তিতে দেশকে ভাগ করা না হতো; তাহলে এই বিলের আজ কোনও প্রয়োজন থাকত না।’ সাত ঘন্টা ধরে বিল নিয়ে আলোচনার পর যখন ভোটাভুটি হয় তখন ঘড়ির কাঁটা মধ্যরাত পেরিয়েছে। শেষ পর্যন্ত বিলের পক্ষে ভোট দেন ৩১১ জন, আর বিপক্ষে ছিলেন ৮০ জন।

বিল পাশের আগে অল ইন্ডিয়া মজলিস-ই-ইত্তেহাদুল মুসলিমিন (এআইএমআইএম) প্রেসিডেন্ট আসাদউদ্দিন ওয়াইসি-র অভিযোগেরও সমালোচনা করেন অমিত শাহ। তিনি বলেন, ‘আমাদের নাগরিকপঞ্জির জন্য মঞ্চ প্রস্তুতের কোনও প্রয়োজন নেই। আমরা দেশজুড়েই এনআরসি করব। একটিও অনুপ্রবেশকারীকে সেখানে রেহাই দেওয়া হবে না।’

ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দাবি, এই প্রস্তাবিত আইনের একমাত্র উদ্দেশ্য হচ্ছে আফগানিস্তান, পাকিস্তান ও বাংলাদেশ থেকে আসা অবৈধ অভিবাসীদের চিহ্নিত করা। যারা ধর্মীয় নিপীড়নের কারণে ভারতে পালিয়ে এসে ‘ভয়ঙ্কর’ জীবনযাপন করেছে, তাদের ভারতীয় নাগরিকত্ব দেওয়া। এই বিল ‘অসাংবিধানিক’ কিংবা ‘সংবিধানবিরোধী’ নয় বলেও দাবি অমিত শাহ।

তিনি বলেন, ১১৯ ঘন্টা ধরে ১৪০ জন প্রতিনিধির সঙ্গে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এই বিলে নাগরিকত্ব দেওয়ার জন্য তিন মুসলিম দেশকে বেছে নেওয়ার পক্ষেও যুক্তি দেন অমিত শাহ। তিনি বলেন, তিন দেশেরই রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম। এই তিন দেশের লাখো শরণার্থীকে নরকের যন্ত্রণা থেকে মুক্তি দেবে দিল্লি। অত্যাচারিত সংখ্যালঘুদের সম্মান, সুরক্ষা দেওয়া হবে।

নাগরিকত্ব বিল নিয়ে কংগ্রেসকে আক্রমণ শানিয়ে শাহ বলেন, গোটা বিলের নেপথ্যে রয়েছে মোহাম্মদ আলী জিন্নাহর তত্ত্ব মেনে নিয়ে কংগ্রেসের দেশভাগকে সমর্থনের রাজনীতি। ১৯৫০ সালে ভারত ও পাকিস্তানের সংখ্যালঘুদের রক্ষার জন্য নেহেরু-লিয়াকত চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছিল। মুসলিমরা কিন্তু ভারতে সুরক্ষিতই ছিল। কিন্তু পাকিস্তানে হিন্দুরা নির্যাতিত হয়েছিল। আপনারা কি বলতে চান, পাকিস্তানে বা বাংলাদেশে হিন্দুদের ওপর অত্যাচার হবে? এটা হতে পারে না।

অমিত শাহ বলেন, শরণার্থী এবং অনুপ্রবেশকারীদের মধ্যে একটি মৌলিক পার্থক্য আছে। এই বিলটি শরণার্থীদের জন্য। ভোট ব্যাংকের রাজনীতি না করে চোখ, কান খুলুন। লাখ লাখ, কোটি কোটি মানুষ ভয়ঙ্কর জীবনযাপন করছেন, মৌলিক সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি তাদের সোনালি সূর্যের ভোর উপহার দেবেন। সূত্র: জি নিউজ, এনডিটিভি।

/এমপি/
সম্পর্কিত
মমতার বিরুদ্ধে বিদ্রোহে সফল ঋতব্রত, নেপথ্যে কী
তৃণমূলের বিদ্রোহী নেতা কে এই ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়
দিনের গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক খবর
সর্বশেষ খবর
মন্ত্রিত্ব ছাড়া দীপেন দেওয়ান লিখলেন ‘বিএনপি আমার শেষ ঠিকানা’
মন্ত্রিত্ব ছাড়া দীপেন দেওয়ান লিখলেন ‘বিএনপি আমার শেষ ঠিকানা’
গৃহবধূকে ধর্ষণ, ছাত্রদল নেতা গ্রেফতার
গৃহবধূকে ধর্ষণ, ছাত্রদল নেতা গ্রেফতার
রাতে মেট্রোরেল চলাচলের সময় বাড়ছে
রাতে মেট্রোরেল চলাচলের সময় বাড়ছে
পঞ্চগড়ে ভাগনিকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ ও মামিকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে মামলা
পঞ্চগড়ে ভাগনিকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ ও মামিকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে মামলা
সর্বাধিক পঠিত
ইউএনজিএ’র সভাপতি হিসেবে কী সুবিধা পাবেন খলিলুর রহমান, দায়িত্ব কী  
ইউএনজিএ’র সভাপতি হিসেবে কী সুবিধা পাবেন খলিলুর রহমান, দায়িত্ব কী  
করদাতাদের জন্য ‘মাস্টারপ্ল্যান’, ২০৩১ পর্যন্ত করমুক্ত আয়ের সীমা কত হচ্ছে জানুন
করদাতাদের জন্য ‘মাস্টারপ্ল্যান’, ২০৩১ পর্যন্ত করমুক্ত আয়ের সীমা কত হচ্ছে জানুন
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
বাড়লো বিদ্যুতের দাম
বাড়লো বিদ্যুতের দাম