গুরুতর হার্ট অ্যাটাকে আক্রান্ত ব্যক্তিদের রক্তে মাইক্রো এবং ন্যানোপ্লাস্টিকের উপস্থিতি সাধারণ বা দীর্ঘস্থায়ী হৃদরোগীদের তুলনায় অনেকটাই বেশি। সম্প্রতি ইউরোপিয়ান হার্ট জার্নাল-এ প্রকাশিত এক গবেষণায় রক্তে প্লাস্টিকের ক্ষুদ্রকণার সঙ্গে তীব্র হার্ট অ্যাটাকের এক শক্তিশালী সম্পর্কের কথা তুলে ধরা হয়েছে।
ইতালির রোমের সান্ত’অ্যান্ড্রিয়া বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালের ক্লিনিক্যাল কার্ডিওলোজিস্ট ও গবেষণার প্রধান লেখক ড. পাসকোয়ালে পাওলিসো জানান, বায়ুদূষণ এবং ধূমপানের অভ্যাসের সঙ্গে হৃদরোগীদের রক্তে প্লাস্টিকের উপাদানের সরাসরি সংযোগ এবারই প্রথম পাওয়া গেলো।
৬১ জন রোগীর ওপর চালানো এই গবেষণায় দেখা গেছে, তীব্র হার্ট অ্যাটাকে আক্রান্ত ৮৪.২ শতাংশ রোগীর রক্তেই প্লাস্টিকের কণা মিলেছে। যার মধ্যে মোড়ক ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যে ব্যবহৃত পলিথিন-এর উপস্থিতি ছিল সবচেয়ে বেশি।
পাবলিক হেলথ ফাউন্ডেশন অব ইন্ডিয়ার চ্যান্সেলর ড. কে শ্রীনাথ রেড্ডি বলেন, ধূমপায়ীদের ফুসফুসের সুরক্ষা বলয় ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় সিগারেট ফিল্টার থেকে এই প্লাস্টিক সহজে রক্তে মিশে যায়, যা হৃদরোগের আরেকটি গোপন ঝুঁকি।
উল্লেখ্য, জাতিসংঘ পরিবেশ কর্মসূচির মতে, ১ ন্যানোমিটার থেকে ৫ মিলিমিটার আকৃতির এই মাইক্রোপ্লাস্টিক বাতাস, পানি ও খাবারের মাধ্যমে মানবদেহে ঢোকে।
গবেষকরা জানান, এই ক্ষুদ্র প্লাস্টিক রক্তনালিতে প্রদাহ সৃষ্টি ও চর্বি জমা বাড়িয়ে ব্লক তৈরি করতে পারে। তাই হৃদরোগ প্রতিরোধে এখন শুধু কোলেস্টেরল বা ডায়াবেটিস নয়, প্লাস্টিক ও বায়ুদূষণ রোধেও নজর দেওয়া জরুরি।
সূত্র: ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস

কোন উড়োজাহাজকে বলা হয় ‘আকাশের সম্রাট’
‘কৃত্রিম সূর্য’ তৈরির আরও কাছাকাছি চীন