ইসরায়েলের কাছে অস্ত্র বিক্রি বন্ধের দাবিতে যুক্তরাষ্ট্রে বিক্ষোভ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
১১ অক্টোবর ২০২৬, ১৮:০১ আপডেট : ১১ অক্টোবর ২০২৬, ১৮:০১

গাজায় ইসরায়েলের গণহত্যা বন্ধ এবং ইসরায়েলের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্র নিষেধাজ্ঞা ও অবরোধ আরোপের দাবিতে শনিবার মার্কিন ক্যাপিটলের সামনে সমাবেশ করেছেন শত শত ফিলিস্তিনপন্থী বিক্ষোভকারী। তুর্কী সংবাদমাধ্যম আনাদোলু এজেন্সি এ খবর জানিয়েছে।

বিক্ষোভকারীরা ফিলিস্তিনি পতাকা নাড়েন এবং গাজায় গণহত্যা ও ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে ইসরায়েলের দখলদারির নিন্দা জানিয়ে বড় প্ল্যাকার্ড বহন করেন। কিছু প্ল্যাকার্ডে যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধের অর্থনৈতিক ব্যয়ের দিকে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়, সামরিক ব্যয়কে দেশের ভেতরে উচ্চ মূল্য ও কম মজুরির সঙ্গে যুক্ত করা হয়।

প্যালেস্টাইনিয়ান ইয়ুথ মুভমেন্টসহ ফিলিস্তিনপন্থী আরও কয়েকটি সংগঠন এ সমাবেশ ও মিছিলের আয়োজন করে। ২০২৩ সালের অক্টোবরে গাজায় ইসরায়েলের সামরিক অভিযান শুরুর তিন বছর উপলক্ষে এ কর্মসূচি পালিত হয়। ইসরায়েলের প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ও কূটনৈতিক সমর্থনের কারণে ওয়াশিংটনের ওপর নতুন করে চাপ সৃষ্টির আহ্বান জানিয়ে আয়োজকেরা ইসরায়েলের ওপর পূর্ণাঙ্গ অস্ত্র নিষেধাজ্ঞা ও অবরোধ দাবি করেন।

প্যালেস্টাইনিয়ান ইয়ুথ মুভমেন্টের নুহাদ আক্কার আনাদোলুকে বলেন, ইসরায়েলকে মার্কিন সামরিক সহায়তার জন্য নির্বাচিত কর্মকর্তাদের জবাবদিহির আওতায় আনতে বিক্ষোভকারীরা দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। তিনি বলেন, আমরা এই গণহত্যাকে স্বাভাবিক হতে দিবো না। তিনি আরও বলেন, গাজায় আমাদের মানুষের কাছে, অঞ্চলজুড়ে আমাদের মানুষের কাছে আমরা বার্তা পাঠাচ্ছি যে, শুধু গণহত্যার অবসান নয়, সম্পূর্ণ মুক্তি ও প্রত্যাবর্তন না হওয়া পর্যন্ত আমরা তাদের জন্য লড়াই চালিয়ে যাব।

আক্কার ইসরায়েলে অস্ত্র সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান থেকে সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোকে বিনিয়োগ তুলে নেওয়ার আহ্বানও জানান। তিনি জানান, ওয়াশিংটনের অনেক ফেডারেল সরকারি কর্মী ভার্জিনিয়ায় বাস করেন। সেখানকার রাজ্য অবসর ব্যবস্থা থেকে এ ধরনের কোম্পানিতে থাকা ৩৯ কোটি ৪০ লাখ ডলারের বেশি পেনশন বিনিয়োগ প্রত্যাহারের জন্য তার সংগঠন প্রচারণা চালাচ্ছে। তিনি বলেন, আমরা চাই নির্বাচিত কর্মকর্তারা এই অর্থ বিনিয়োগের বিরুদ্ধে অবস্থান নিক।

ন্যাশনাল ইরানিয়ান আমেরিকান কাউন্সিলের ইসাবেলা জাভিদান গাজায় ইসরায়েলের অভিযানকে লেবানন ও ইরানে সামরিক অভিযানের সঙ্গে যুক্ত করেন। তিনি মার্কিন আইনপ্রণেতা ও প্রতিরক্ষা ঠিকাদারদের অঞ্চলজুড়ে সহিংসতায় সহায়তার অভিযোগ আনেন।

সমাবেশে জাভিদান বলেন, এগুলো বিচ্ছিন্ন ট্র্যাজেডি নয়। এগুলো আলাদাও নয়; এগুলো একই সাম্রাজ্যবাদী প্রকল্পের প্রকাশ। তার ভাষ্য, কংগ্রেস সদস্যরা বারবার কূটনীতির বদলে মৃত্যুকে, মৌলিক মানবিক মর্যাদার বদলে সামরিক আধিপত্যকে এবং লাখো মানুষের জীবনের বদলে যুদ্ধশিল্পের স্বার্থকে বেছে নিয়েছেন।

বিক্ষোভকারীদের একজন এরিক ডব্লিউ আনাদোলুকে বলেন, ইসরায়েলকে অস্ত্র দেওয়ার যুক্তি হিসেবে রাজনীতিকদের ইহুদি আমেরিকানদের নিরাপত্তার কথা বলাকে তিনি সমর্থন করেন না।

ইসরায়েলের কর্মকাণ্ডে মার্কিন জনগণের ক্রমবর্ধমান অসন্তোষ এবং ইসরায়েলের প্রতি ওয়াশিংটনের যথারীতি সমর্থনের অবসানের জোরালো দাবির মধ্যে এ নির্বাচন হচ্ছে।

/এসএইচএম/
সম্পর্কিত
মিয়ানমারে রাস্তা থেকে তুলে নেওয়া হচ্ছে তরুণদের, ‘বিক্রি’ হচ্ছে সেনাবাহিনীতে
ইরান এখনও ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন তৈরিতে সক্ষম, রাশিয়া অস্ত্র সরবরাহ করছে
স্মার্টফোন ছেড়ে বাটনে ফেরার উপকারিতা জানালেন মার্কিন লেখক
সর্বশেষ খবর
৩৫টি কেনার উদ্যোগ, মন্ত্রী বললেন ‘আমি চাই দেশে বিমান থাকবে ২০০টির বেশি’
৩৫টি কেনার উদ্যোগ, মন্ত্রী বললেন ‘আমি চাই দেশে বিমান থাকবে ২০০টির বেশি’
মিয়ানমারে রাস্তা থেকে তুলে নেওয়া হচ্ছে তরুণদের, ‘বিক্রি’ হচ্ছে সেনাবাহিনীতে
মিয়ানমারে রাস্তা থেকে তুলে নেওয়া হচ্ছে তরুণদের, ‘বিক্রি’ হচ্ছে সেনাবাহিনীতে
ইরান এখনও ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন তৈরিতে সক্ষম, রাশিয়া অস্ত্র সরবরাহ করছে
ইরান এখনও ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন তৈরিতে সক্ষম, রাশিয়া অস্ত্র সরবরাহ করছে
উন্নয়ন প্রকল্পের প্রতিটি পয়সার যথাযথ ব্যবহারের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর
উন্নয়ন প্রকল্পের প্রতিটি পয়সার যথাযথ ব্যবহারের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর
সর্বাধিক পঠিত
ম্যাকবুক উপহার দি‌য়ে জার্মান পর্যট‌কের দুঃখ ঘোচা‌লেন একজন
ম্যাকবুক উপহার দি‌য়ে জার্মান পর্যট‌কের দুঃখ ঘোচা‌লেন একজন
আলহামদুলিল্লাহ, আমার জীবনের অন্যতম শ্রেষ্ঠ দিন: কেয়া পায়েল
আলহামদুলিল্লাহ, আমার জীবনের অন্যতম শ্রেষ্ঠ দিন: কেয়া পায়েল
স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণের পর হত্যা, কার ডাকে কক্সবাজার গেলো কিশোরী?
স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণের পর হত্যা, কার ডাকে কক্সবাজার গেলো কিশোরী?
মৌখিক পরীক্ষা না দিয়েও চূড়ান্ত তালিকায় বিএনপি নেতার স্ত্রীর নাম
মৌখিক পরীক্ষা না দিয়েও চূড়ান্ত তালিকায় বিএনপি নেতার স্ত্রীর নাম
বাস নিয়ন্ত্রণে এবার রাস্তায় মালিকরা
বাস নিয়ন্ত্রণে এবার রাস্তায় মালিকরা