দক্ষিণ সুদানের বিরুদ্ধে জাতিসংঘের হুঁশিয়ারি

বিদেশ ডেস্ক
১১ জুলাই ২০১৮, ১৮:৩৫আপডেট : ১১ জুলাই ২০১৮, ২৩:৫০

জাতিসংঘ তাদের এক প্রতিবেদনে দক্ষিণ সুদানের সরকারের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলে বলেছে, দেশটির সেনাবাহিনী ও তাদের সমর্থনপুষ্ট বাহিনীর হামলায় অন্তত ২৩০ জন নিহত ও ১২০ জন ধর্ষণের শিকার হয়েছে। অপহরণ করা হয়েছে ১৩০ নারী ও মেয়েশিশুকে। হামলায় নিহতদের মধ্যে রয়েছেন বৃদ্ধ, শিশু ও প্রতিবন্ধী। এ বছর এপ্রিল থেকে ঘটতে থাকা ওই হামলাগুলোকে পূর্ব পরিকল্পিত আখ্যা দিয়ে জাতিসংঘের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হামলার নির্মমতার যে মাত্রা তাতে জড়িতদের বিরুদ্ধে  যুদ্ধাপরাধের অভিযোগ আনা যেতে পারে। সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা জানিয়েছে, মঙ্গলবার (১০ জুলাই) জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক সংস্থা (ওএইচসিএইচআর) এবং সুদানের জন্য পরিচালিত জাতিসংঘের বিশেষ কার্যক্রম (ইউএনএমআইএসএস) যৌথভাবে ওই প্রতিবেদনটি প্রকাশ করেছে। প্রতিবেদনে দক্ষিণ সুদানীয় তিন জন ব্যক্তির নাম উল্লেখ করা হয়েছে, যাদেরকে নিপীড়নের জন্য দায়ী করেছে জাতিসংঘ। দক্ষিণ সুদানের বিরুদ্ধে জাতিসংঘের হুঁশিয়ারি

স্বাধীন হওয়ার মাত্র দুই বছরের মাথায় গৃহযুদ্ধ শুরু হয়ে যায় দক্ষিণ সুদানে। ২০১৩ সাল থেকে শুরু হওয়া ওই গৃহযুদ্ধ শুরু করেছিলেন প্রেসিডেন্ট সালভা কিরের অনুগত বাহিনী ও সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট রিক মাকারের অনুগত বাহিনী। ওই সময় দেশটির প্রেসিডেন্ট সালভা কির অভিযোগ তুলেছিলেন, রিক মাকার তার বিরুদ্ধে ক্যু সংগঠিত করেছেন। এরপর বিদ্রোহীদের মধ্যে অনেক উপদল তৈরি হয়েছে। গৃহযুদ্ধে হাজারে হাজারে মানুষ প্রাণ হারিয়েছে, দেশটিতে দেখা দিয়েছে তীব্র খাদ্য সঙ্কট।দিন দিন বেড়ে চলেছে শরণার্থী সংকট। ২০১৫ সালে হওয়া চুক্তি কার্যকরের জন্য সরকার ও বিরোধী পক্ষ গত ডিসেম্বরে ইথিওপিয়ার রাজধানী আদ্দিস আবাবাতে মিলিত হয়েছিল। কিন্তু সেখানে স্বাক্ষরিত যুদ্ধবিরতি সমঝোতা অকার্যকর হয়ে পড়ে মাত্র কয়েক ঘন্টার ব্যবধানে। পরবর্তীতে উগান্ডায় অনুষ্ঠিত একটি আলোচনায় বিদ্রোহীদের নেতা রিক মাকারকে উপরাষ্ট্রপতি করার যে প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল তা গত সোমবার প্রত্যাখ্যান করেছে বিদ্রোহীরা।

গত ১৬ এপ্রিল থেকে  শুরু করে ২৪ মে পর্যন্ত সরকারি বাহিনী ও তাদের ছত্রছায়ায় থাকা সশস্ত্র তরুণদের দল বিরোধীদের প্রভাবাধীন মায়েনদিত ও লিরা এলাকায় অবস্থিত ৪০টি গ্রামে নিরীহ জনসাধারণের ওপর নিপীড়ন চালিয়েছে অভিযোগ করে দক্ষিণ সুদানের মানবাধিকারের ওপর প্রকাশিত জাতিসংঘের সংশ্লিষ্ট ওই দুই প্রতিষ্ঠানের প্রকাশিত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ‘সাধারণ জনগণকে লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে, এদের মধ্যে যেমন ছিলেন বৃদ্ধ তেমন ছিলেন প্রতিবন্ধী ব্যক্তি। এমন কি ছোট ছোট ছেলে-মেয়েদেরও রেহাই দেওয়া হয়নি। এদের মধ্যে কয়েকজনকে ফাঁস লাগিয়ে গাছে ঝুলিয়ে দেওয়া হয়েছিল। আবার ভেতরে রেখে বাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়েছিল, যাতে তারা আগুনে পুড়ে মারা যায়।’ প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, দক্ষিণ সুদানের সেনাবাহিনীর সমর্থনে থাকা বাহিনী ১২০ জন নারীকে ও শিশুকে ধর্ষণ করেছে। কোনও কোনও ক্ষেত্রে দলবদ্ধ ধর্ষণের ঘটনাও ঘটেছে। এদের মধ্যে এমন নারীও ছিলেন, যিনি সদ্য সন্তান প্রসব করেছেন। ধর্ষণের ঘটনাই শেষ নয়, ১৩২ জন নারী ও শিশুকে অপহরণও করেছে সরকারি বাহিনী ও তাদের সমর্থনপুষ্ট সশস্ত্র ব্যক্তিরা।

জাতিসংঘের মানবাধিকার সংস্থার প্রধান জাদ রাদ আল হুসেইন মন্তব্য করেছেন, ‘অসহায় গ্রামবাসীর বিরুদ্ধে ওই হামলা যারা চালিয়েছে এবং তাদের নির্দেশদাতারা কেউই ছাড় পাবে না। যারা ছয় বছরের শিশুকে ধর্ষণ করেছে, বৃদ্ধ গ্রামবাসীকে গলা কেটে হত্যা করেছে, লুটপাটে বাধা দেওয়া নারীদের গাছের সঙ্গে ফাঁস লাগিয়ে ঝুলিয়ে দিয়েছে, এমন কি প্রাণ বাঁচাতে লুকিয়ে থাকা গ্রামবাসীদের গুলি করে হত্যা করেছে, তাদের সবাইকে পরিণতি ভুগতে হবে।’ দক্ষিণ সুদানের সরকারের পক্ষ থেকে ওই প্রতিবেদনের বিষয়ে কোনও প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি।

/এএমএ/
সম্পর্কিত
হাজার বছরের ‘পবিত্র’ গাছ মৃত্যুযাত্রায়, মর্মাহত পুরো গ্রাম
তলিয়ে যেতে পারে খুলনা ও কলকাতাসহ বিশ্বের ১৫ শহর
বিশ্বের সবচেয়ে ‘অপছন্দনীয়’ দেশ কোনগুলো
সর্বশেষ খবর
মন্ত্রিত্ব ছাড়া দীপেন দেওয়ান লিখলেন ‘বিএনপি আমার শেষ ঠিকানা’
মন্ত্রিত্ব ছাড়া দীপেন দেওয়ান লিখলেন ‘বিএনপি আমার শেষ ঠিকানা’
গৃহবধূকে ধর্ষণ, ছাত্রদল নেতা গ্রেফতার
গৃহবধূকে ধর্ষণ, ছাত্রদল নেতা গ্রেফতার
রাতে মেট্রোরেল চলাচলের সময় বাড়ছে
রাতে মেট্রোরেল চলাচলের সময় বাড়ছে
পঞ্চগড়ে ভাগনিকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ ও মামিকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে মামলা
পঞ্চগড়ে ভাগনিকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ ও মামিকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে মামলা
সর্বাধিক পঠিত
ইউএনজিএ’র সভাপতি হিসেবে কী সুবিধা পাবেন খলিলুর রহমান, দায়িত্ব কী  
ইউএনজিএ’র সভাপতি হিসেবে কী সুবিধা পাবেন খলিলুর রহমান, দায়িত্ব কী  
করদাতাদের জন্য ‘মাস্টারপ্ল্যান’, ২০৩১ পর্যন্ত করমুক্ত আয়ের সীমা কত হচ্ছে জানুন
করদাতাদের জন্য ‘মাস্টারপ্ল্যান’, ২০৩১ পর্যন্ত করমুক্ত আয়ের সীমা কত হচ্ছে জানুন
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
বাড়লো বিদ্যুতের দাম
বাড়লো বিদ্যুতের দাম