রাখাইনে গ্রামে গ্রামে মিয়ানমার সেনাবাহিনীর মর্টার শেল নিক্ষেপ

বিদেশ ডেস্ক
১১ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ১৮:৩৬আপডেট : ১১ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ১৯:২২

রাখাইনের বিভিন্ন গ্রামে মর্টার শেল নিক্ষেপ, বেসামরিক নাগরিকদের আটক ও খাবার সরবরাহ আটকে দিচ্ছে মিয়ানমারের সেনাবাহিনী। রাখাইনভিত্তিক সশস্ত্র বিদ্রোহী গোষ্ঠী আরাকান আর্মির বিরুদ্ধে অভিযান শুরু হওয়ার পর থেকেই এসব তৎপরতা চালাচ্ছে সেনা সদস্যরা। এসব সেনা ইউনিটের কয়েকটি রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে নিপীড়নেও অংশগ্রহণ করেছিল। যুক্তরাজ্যভিত্তিক মানবাধিকার সংগঠন অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল এক বিবৃতিতে মিয়ানমার সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে এসব অভিযোগ উত্থাপন করেছে।

রাখাইনে গ্রামে গ্রামে মিয়ানমার সেনাবাহিনীর মর্টার শেল নিক্ষেপ

মানবাধিকার সংগঠনটিকে গ্রামবাসী ও স্থানীয় অ্যাক্টিভিস্টরা জানিয়েছেন, বাড়িঘর লক্ষ্য করে মর্টার শেল নিক্ষেপ করা হচ্ছে। গোলা নিক্ষেপের স্থানীয়রা পরিত্যক্ত বাড়ি ঘরে মূল্যবান সামগ্রী লুট করতে আসে এবং ধ্বংস করে যাচ্ছে।

৪ জানুয়ারি ফাঁড়িতে আরাকান আর্মির হামলায় ১৩ পুলিশ সদস্য নিহত হওয়ার পর রাখাইনে সামরিক অভিযান জোরদার করে মিয়ানমার সেনাবাহিনী। জাতিসংঘের তথ্য অনুসারে, অভিযান শুরুর পর সংঘাত কবলিত এলাকা থেকে ৫২০০ জনের বেশি মানুষ ঘর-বাড়ি ছেড়ে পালিয়েছেন। কয়েক শ মানুষ আশ্রয় নিয়েছেন প্রতিবেশী বাংলাদেশে।

মিয়ানমার সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে সংখ্যালঘুদের ওপর নিপীড়নের অভিযোগ নতুন ঘটনা নয়। ২০১৭ সালের ২৫ আগস্ট রাখাইনের কয়েকটি নিরাপত্তা চৌকিতে হামলার পর পূর্ব-পরিকল্পিত ও কাঠামোবদ্ধ সহিংসতা জোরালো করে মিয়ানমারের সেনাবাহিনী। সন্ত্রাসবিরোধী শুদ্ধি অভিযানের নামে শুরু হয় নিধনযজ্ঞ। হত্যা-ধর্ষণসহ বিভিন্ন ধারার মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটিত হতে থাকে ধারাবাহিকভাবে। এমন বাস্তবতায় নিধনযজ্ঞের বলি হয়ে রাখাইন ছেড়ে বাংলাদেশে পালিয়ে আসতে বাধ্য হয় প্রায় সাড়ে সাত লাখ রোহিঙ্গা। আগে থেকে উপস্থিত রোহিঙ্গাদের নিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের সংখ্যা দাঁড়ায় প্রায় দশ লাখে। এসব রোহিঙ্গা বাংলাদেশের বিভিন্ন আশ্রয় শিবিরে বসবাস করছে।

অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের ক্রাইসিস রেসপন্স বিভাগের পরিচালক তিরানা হাসান বলেন, ‘এই অভিযান আরেকবার স্মরণ করিয়ে দিচ্ছে যে, মিয়ানমারের সেনাবাহিনী মানবাধিকারের প্রতি কোনও সম্মান ছাড়াই পরিচালিত হচ্ছে। যেকোনও পরিস্থিতিতে গ্রামীণ বসতিতে গোলাবর্ষণ ও খাদ্য সরবরাহ আটকে রাখা অযৌক্তিক।’

তিরানা হাসান আরও বলেন, ‘মিয়ানমার সেনাবাহিনীর নৃশংসতার আন্তর্জাতিক নিন্দার পরও তারা নির্লজ্জভাবে আরও গুরুতর নির্যাতন চালাচ্ছে।’

বিবৃতিতে বলা হয়েছে, অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল জানতে পেরেছে,  সেনাবাহিনীর যে ডিভিশনগুলো ২০১৭ সালের আগস্ট ও সেপ্টেম্বরে রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে নৃশংসতায় জড়িত ছিল তাদেরকেই পুনরায় রাখাইন রাজ্যে মোতায়েন করা হয়েছে।

 

/এএ/
সম্পর্কিত
যে চার কৌশলে বিশ্ব অর্থনীতির দ্বিতীয় পরাশক্তি হলো চীন
চীনে ধেয়ে আসছে টাইফুন ‘ডলফিন’, কমলা সতর্কতা জারি
দিনের গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক খবর
সর্বশেষ খবর
বিটিভির মহাপরিচালক হলেন কাজী জেসিন
বিটিভির মহাপরিচালক হলেন কাজী জেসিন
যে চার কৌশলে বিশ্ব অর্থনীতির দ্বিতীয় পরাশক্তি হলো চীন
যে চার কৌশলে বিশ্ব অর্থনীতির দ্বিতীয় পরাশক্তি হলো চীন
একনজরে আজকের আলোচিত খবর
একনজরে আজকের আলোচিত খবর
একসঙ্গে জামায়াতপন্থি ৭ আইন কর্মকর্তার পদত্যাগ, কারণ কী
একসঙ্গে জামায়াতপন্থি ৭ আইন কর্মকর্তার পদত্যাগ, কারণ কী
সর্বাধিক পঠিত
সূর্যের সবচেয়ে নিখুঁত ছবিতে নতুন বিস্ময়
সূর্যের সবচেয়ে নিখুঁত ছবিতে নতুন বিস্ময়
মঞ্চে না ডাকায় একসঙ্গে অনুষ্ঠান ত্যাগ করেছেন বিএনপি-জামায়াতের নেতারা
মঞ্চে না ডাকায় একসঙ্গে অনুষ্ঠান ত্যাগ করেছেন বিএনপি-জামায়াতের নেতারা
লাখ টাকার নাশতা একাই খেলেন সরকারি কর্মকর্তা 
লাখ টাকার নাশতা একাই খেলেন সরকারি কর্মকর্তা 
আইসিইউতে হাতকড়া পরা সেই মনির খানের মুক্তি মিললো মৃত্যুতে
আইসিইউতে হাতকড়া পরা সেই মনির খানের মুক্তি মিললো মৃত্যুতে
ভিসা নিয়ে সতর্ক করলো ভারতীয় হাইকমিশন
ভিসা নিয়ে সতর্ক করলো ভারতীয় হাইকমিশন