কারাবাখ যুদ্ধে রাশিয়ার সহযোগিতা চাইলো আর্মেনিয়া

বিদেশ ডেস্ক
৩১ অক্টোবর ২০২০, ১৫:৪১আপডেট : ৩১ অক্টোবর ২০২০, ১৫:৪৪

নাগোরনো-কারাবাখে আজারবাইজানের সঙ্গে চলমান সংঘাতে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সহযোগিতা চেয়েছেন আর্মেনিয়ার প্রধানমন্ত্রী নিকোল পাশিনিয়ান। যুদ্ধবিরতির সর্বশেষ উদ্যোগ ব্যর্থ হওয়ার পর শনিবার তিনি নিরাপত্তা প্রদানের জন্য জরুরি ভিত্তিতে পরামর্শ শুরুর জন্য পুতিনের প্রতি আহ্বান জানান। ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপি এখবর জানিয়েছে।

কারাবাখ যুদ্ধে রাশিয়ার সহযোগিতা চাইলো আর্মেনিয়া

নাগোরনো-কারাবাখ অঞ্চল নিয়ে আর্মেনিয়া ও আজারবাইজানের পুরনো সংঘাত গত ২৭ সেপ্টেম্বর থেকে নতুন করে আবার শুরু হয়। এরইমধ্যে সংঘাতে প্রাণহানি হয়েছে প্রায় দুই হাজার মানুষের। সংঘাত নিরসনে রাশিয়ার উদ্যোগে আর্মেনিয়া-আজারবাইজান দুটি অস্ত্রবিরতি চুক্তিতে পৌঁছার পরও লড়াই থামেনি। সবশেষ যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে সংঘাত নিরসনের প্রচেষ্টা চালানো হয়। এর অংশ হিসেবে তৃতীয় দফার অস্ত্রবিরতিতে পৌঁছায় দুই দেশ। সেটিও ব্যর্থ হলে শুক্রবার পুনরায় অস্ত্রবিরতির আলোচনায় বসলেও কোনও সমঝোতা হয়নি।

শুক্রবার জেনেভায় আর্মেনিয়া ও আজারবাইজানের মধ্যকার যুদ্ধবিরতির আলোচনা ভেস্তে যাওয়ার পর পুতিনের কাছে একটি চিঠি লিখেছেন পাশিনিয়ান। চিঠির কথা জানিয়েছে আর্মেনিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

চিঠিতে আজারবাইজানের সঙ্গে চলমান সংঘর্ষ আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হয়েছে।

এক বিবৃতিতে আর্মেনীয় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, আর্মেনিয়ার প্রধানমন্ত্রী নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে রাশিয়ার প্রেসিডেন্টকে জরুরি ভিত্তিতে পরামর্শ শুরুর আহ্বান জানিয়েছেন। যাতে করে আর্মেনিয়ার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে রাশিয়া কোনও ধরনের ও কী পরিমাণে সহযোগিতা দিতে পারবে তা নির্দিষ্ট করা যায়।

আর্মেনিয়ায় একটি সামরিক ঘাঁটি রয়েছে রাশিয়া। চলমান সংঘর্ষে সহযোগিতার বিষয়ে রাশিয়া এর আগে জানিয়েছে যে, তাদের প্রতিরক্ষা চুক্তির আওতায় পড়ে না নাগোরনো-কারাবাখ অঞ্চল।  

তবে পাশনিয়ান চিঠিতে পুতিনকে বলেছেন, চলমান সংঘাত আর্মেনিয়া সীমান্তের কাছাকাছি চলে আসছে এবং আজারবাইজানকে সহযোগিতা করছে তুরস্ক।

তিনি মস্কোকে সহযোগিতা অনুরোধ জানান এবং দুই দেশের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ও ১৯৯৭ সালের বন্ধুত্ব, সহযোগিতা ও দ্বিপক্ষীয় সহায়তার চুক্তি পুনরায় সক্রিয় করার আহ্বান জানান।

উল্লেখ্য, নাগোরনো-কারাবাখ অঞ্চলটি আজারবাইজানের ভেতরে অবস্থিত হলেও ইয়েরেভান সরকারের পৃষ্ঠপোষকতা নিয়ে তা নিয়ন্ত্রণ করছে আর্মেনীয় বিচ্ছিন্নতাবাদীরা। ১৯৮০-এর দশকের শেষদিকে অঞ্চলটির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে আর্মেনিয়া ও আজারবাইজানের মধ্যে সংঘাত শুরু হয়। ১৯৯১ সালে সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়নের পতনের মুহূর্তে সংঘর্ষ চূড়ান্ত আকার ধারণ করে। ১৯৯৪ সালে দুই পক্ষের মধ্যে যুদ্ধবিরতি প্রতিষ্ঠার আগ পর্যন্ত এই সংঘর্ষে ৩০ হাজার মানুষ নিহত হয়। পরে ২০১৬ সালের শুরুতেও সংঘাতে জড়ায় দুই পক্ষ। 

/এএ/
সম্পর্কিত
নিউ জিল্যান্ডের চার এমপির ওপর চীনের নিষেধাজ্ঞা
বিক্রির জন্য নিলামে উঠছে এই আধুনিক দুর্গটি
ড্রোন কিনতে ২০০০ বিলিয়ন রুপি ব্যয়ের পরিকল্পনা ভারতের
সর্বশেষ খবর
বিচার বিলম্বে যত নাটকীয় চেষ্টা সোহেল ও তার স্ত্রীর
রামিসা ধর্ষণ-হত্যা মামলাবিচার বিলম্বে যত নাটকীয় চেষ্টা সোহেল ও তার স্ত্রীর
আদ-দ্বীন হাসপাতালে ছয় নবজাতকের মৃত্যুর কারণ জানালো তদন্ত কমিটি
আদ-দ্বীন হাসপাতালে ছয় নবজাতকের মৃত্যুর কারণ জানালো তদন্ত কমিটি
নিউ জিল্যান্ডের চার এমপির ওপর চীনের নিষেধাজ্ঞা
নিউ জিল্যান্ডের চার এমপির ওপর চীনের নিষেধাজ্ঞা
হাওরের জন্য ৫০ হাজার কোটি টাকার বিশেষ বরাদ্দের দাবি
হাওরের জন্য ৫০ হাজার কোটি টাকার বিশেষ বরাদ্দের দাবি
সর্বাধিক পঠিত
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম দুই ওয়ানডের দল ঘোষণা বাংলাদেশের
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম দুই ওয়ানডের দল ঘোষণা বাংলাদেশের
তৃতীয় বিয়ের পিঁড়িতে বসতে যাচ্ছেন আমির খান
তৃতীয় বিয়ের পিঁড়িতে বসতে যাচ্ছেন আমির খান
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ
হতাশা থেকে আত্মহত্যা বাংলাদেশ ব্যাংকের অতিরিক্ত পরিচালকের, ধারণা পুলিশের
হতাশা থেকে আত্মহত্যা বাংলাদেশ ব্যাংকের অতিরিক্ত পরিচালকের, ধারণা পুলিশের