ভারতের কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের পর যন্তর মন্তরের মঞ্চ থেকে বিজয়ের ঘোষণা দিয়েছেন ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দিপকে। তবে যে পরিবেশকর্মী সোনম ওয়াংচুকের ২৬ দিনের অনশন এই ছাত্র প্রতিবাদকে গণআন্দোলনে রূপ দিয়েছিল, বিজয়ের ভাষণে তার নাম নেওয়া থেকে বিরত ছিলেন দীপকে।
শনিবার বিজয়ের বক্তব্যে দীপকে বলেন, কোনও একজনকে নায়ক বানানো উচিত নয়। এমনকি নিজেকেও নায়ক হিসেবে তুলে না ধরার আহ্বান জানান তিনি। দিপকে বলেন, আমাকে নায়ক বানাবেন না। কোনও একজনকে নায়ক বানানোর কারণেই দেশ আজ ধ্বংসের মুখে।
তিনি আরও বলেন, ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ প্রমাণ করে, ভয় না পেয়ে সরকারের সামনে মাথা নত না করলে যেকোনও পদত্যাগ আদায় করা সম্ভব।
তবে সোনম ওয়াংচুকের নাম না থাকাটা আলোচনার জন্ম দিয়েছে, কারণ গত ২৮ জুন অনশন শুরু করার পরই ঝিমিয়ে পড়া আন্দোলন গতি পায় এবং দেশজুড়ে ব্যাপক সাড়া ফেলে। পরবর্তীতে ১৮ জুলাই ওয়াংচুককে জোরপূর্বক হাসপাতালে স্থানান্তর করা হলে আন্দোলন চরম আকার ধারণ করে এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘আই সাপোর্ট সোনম’ প্রচার শুরু হয়। ২০ জুলাইয়ের পদযাত্রায় পুলিশি বলপ্রয়োগের ঘটনার পর যন্তর মন্তরে সাধারণ মানুষের ঢল নামে।
বৃহস্পতিবার রাতে কেন্দ্রীয় মন্ত্রীদের আশ্বাসে ওয়াংচুক অনশন ভঙ্গ করেন। তবে শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে অনড় না থেকে অনশন ভাঙায় তিনি সমালোচনার মুখোমুখি হন, যার জবাবে তার স্ত্রী গীতাঞ্জলি আঙমো সমালোচকদের অনুভূতির বিষয়টি স্মরণ করিয়ে দেন।
সিজেপি নেতারা পরে জানান, আন্দোলনটি এখন পুরো দেশের জনগণের এবং এটি আর কেবল একজন ব্যক্তির মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। অবশেষে শনিবার শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের মধ্য দিয়ে বিজয়ের দেখা মিললেও, যিনি আন্দোলনের প্রাণ সঞ্চার করেছিলেন, বিজয়ের মহাতে সেই ওয়াংচুকের নাম বাদ পড়াই বড় হয়ে দেখা দিয়েছে।
সূত্র: ইন্ডিয়া টুডে

স্বৈরাচারের পরাজয়: যন্তর মন্তরে পতাক উড়িয়ে নাচে-গানে উচ্ছ্বাস
যন্তর মন্তরের আন্দোলন প্রত্যাহার করলো ককরোচ জনতা পার্টি







