জ্বলন্ত ধূপকাঠি হাতে ধ্যানে মগ্ন হাজারো তরুণ-তরুণী। কেউ মাথা নত করে প্রার্থনায় ব্যস্ত, কেউবা গাছের ডালে লাল ফিতায় লিখছেন নিজের স্বপ্নের কথা। চীনের সাংহাই শহরের ১৭০০ বছরের পুরোনো ড্রাগন ফ্লাওয়ার মন্দির (লংহুয়া মন্দির)-এ এখন প্রতিদিন দেখা মিলছে এমন দৃশ্যের। মূলত ক্রমবর্ধমান বেকারত্ব, স্থবির বেতন এবং কাজের বাজারে তীব্র প্রতিযোগিতার কারণে সৃষ্ট হতাশা থেকে রেহাই পেতে এবং একটি ভালো চাকরির আশায় প্রাচীন এই মন্দিরে ভিড় করছেন দেশটির হাজার হাজার তরুণ।
২৬ বছর বয়সী কেসি কাং সম্প্রতি মন্দিরে এসে তার নতুন চাকরির স্থায়িত্বের জন্য প্রার্থনা করেন। আগের চাকরিতে হাড়ভাঙা খাটুনি সত্ত্বেও বেতন না বাড়ায় কম বেতনে নতুন কাজ নিয়েছেন তিনি। কাং হতাশ কণ্ঠে বলেন, চাকরির সুযোগ দিন দিন কমছে, কারও আয় বাড়ছে না। বর্তমানে চাকরি খোঁজা মানে হলো আবর্জনার স্তূপ থেকে সবচেয়ে কম খারাপটা বেছে নেওয়া।
কম খরচে মানসিক শান্তি ও ভাগ্য ফেরানোর আশায় মন্দিরমুখী হচ্ছে তরুণ প্রজন্ম। ২০১৮ সালের এক জরিপ অনুযায়ী, ৩৫ বছরের কম বয়সী প্রায় এক-তৃতীয়াংশ প্রাপ্তবয়স্ক মানুষ শিক্ষা, স্বাস্থ্য বা ব্যবসায় সাফল্যের উদ্দেশ্যে ধর্মীয় স্থানে প্রার্থনা করতে যান।
পারডু বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞানের অধ্যাপক ফেংগাং ইয়াংয়ের মতে, অনেক চীনা নাগরিকের কাছে এসব ধর্মাচরণের চেয়ে সংস্কৃতির অংশ হিসেবে গণ্য হয়। তারা নির্দিষ্ট সুবিধার জন্য একেক মন্দিরে যান। এক জায়গায় কাজ না হলে অন্য ধর্মে বা মন্দিরে ভাগ্য পরীক্ষা করেন।
২৩ বছর বয়সী বিক্রেতা লি ইয়োংচিং মন্দিরে এসেছিলেন ব্যবসার তীব্র প্রতিযোগিতা থেকে বাঁচতে। অন্যদিকে ২৪ বছর বয়সী বায়োলজি ল্যাব কর্মী দাই ইউয়ানইউয়ান উচ্চ বেতনের অন্য একটি চাকরির আশায় আশীর্বাদ নিতে এসেছেন। এমনকি ১২ বছর বয়সী শিশু ডং ইউটংও এসেছে পরীক্ষায় ভালো ফল করার প্রার্থনায়।
মন্দিরে ঘুরে প্রার্থনা করার পাশাপাশি মাত্র দুই ডলারে নিরামিষ নুডুলস খাওয়া আর মানত করে পাত্রে মুদ্রা ফেলার আনন্দও উপভোগ করছেন তরুণরা। কারণ, বাস্তব জীবনের কঠিন প্রতিযোগিতায় যখন পথ মেলে না, তখন অলৌকিক কোনও আশীর্বাদেই ভরসা খুঁজছে চীনের নতুন প্রজন্ম।
সূত্র: ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল

সূর্যগ্রহণের পর এবার আংশিক চন্দ্রগ্রহণের পালা
নির্বাচনের আগে ফের তুরস্কবিরোধী মেজাজে নেতানিয়াহু







