মার্কিন সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, চরম গোপনীয়তার মধ্য দিয়ে মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) মস্কো সফর করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল ইন্টেলিজেন্স এজেন্সির (সিআইএ) পরিচালক জন র্যাটক্লিফ। চলতি বছরের জানুয়ারিতে ট্রাম্প প্রশাসন দায়িত্ব নেওয়ার পর রাশিয়ায় কোনও শীর্ষ মার্কিন কর্মকর্তার এটাই সর্বোচ্চ পর্যায়ের সফর।
বিষয়টি সম্পর্কে অবগত সূত্রের বরাতে সিবিএস নিউজ প্রথম এই গোপন সফরের খবর প্রকাশ করে। পরে আরেক সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওস এক মার্কিন কর্মকর্তার বরাতে সফরের বিষয়টি নিশ্চিত করে। তবে র্যাটক্লিফ কেন রাশিয়া সফরে গেছেন কিংবা সেখানে তিনি কার কার সঙ্গে দেখা করেছেন, সে বিষয়ে ওয়াশিংটন বা মস্কো কেউই প্রকাশ্যে বিস্তারিত কিছু জানায়নি।
ফ্লাইট ট্র্যাকিং ডেটা অনুযায়ী, একটি মার্কিন সামরিক সি-১৭ বিমান যুক্তরাষ্ট্রের জয়েন্ট বেস অ্যান্ড্রুজ থেকে লাটভিয়া হয়ে মস্কোয় পৌঁছায়। বিমানটি রিগা থেকে রওনা হয়ে মাত্র কয়েক ঘণ্টার মধ্যে মস্কো অবতরণ করে এবং সেখানে প্রায় সাড়ে আট ঘণ্টা অবস্থান করার পর ফিরে যায়।
এই বিষয়ে ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভকে জিজ্ঞেস করা হলে তিনি জানান, এটি গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর মধ্যকার যোগাযোগের অংশ। তবে এই সপ্তাহে মার্কিন প্রশাসনের প্রতিনিধিদের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক কোনও বৈঠকের পরিকল্পনা রয়েছে কি না, এমন প্রশ্নে তিনি সরাসরি বলেন, ‘না, এমন কোনও পরিকল্পনা নেই’। এ ছাড়া মস্কোর ভনুকোভো বিমানবন্দরে অবতরণ করা মার্কিন সামরিক বিমানটির বিষয়ে তার কাছে কোনও তথ্য নেই বলেও জানান পেসকভ।
রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধে যুক্তরাষ্ট্রের কূটনৈতিক উদ্যোগগুলোর কোনও লক্ষণীয় অগ্রগতি না হওয়া এবং উভয় পক্ষের মধ্যে দূরপাল্লার হামলা বৃদ্ধির এই জটিল মুহূর্তে র্যাটক্লিফের এই সফরটি অনুষ্ঠিত হলো। অ্যাক্সিওস জানিয়েছে, সফর চলাকালে যেকোনও ধরনের হামলা সাময়িকভাবে স্থগিত রাখতে ইউক্রেনকে অনুরোধ জানিয়েছিল ওয়াশিংটন।
সিআইএ পরিচালকের মস্কো সফর অত্যন্ত বিরল ঘটনা। এর আগে ২০২১ সালের নভেম্বরে তৎকালীন সিআইএ পরিচালক উইলিয়াম বার্নস মস্কো সফর করে ইউক্রেনে আক্রমণের বিষয়ে প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ও কর্মকর্তাদের সতর্ক করেছিলেন। ঠিক তার কয়েক সপ্তাহ পরেই ইউক্রেনে সর্বাত্মক আক্রমণ শুরু করেছিল রাশিয়া।
সূত্র: উইয়ন নিউজ

‘সামরিক প্রভাব বাড়ছে’, পাকিস্তান স্বৈরতন্ত্রের দিকে যাচ্ছে: ইমরানপুত্র







